সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জোরালো জবাব কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার। তাঁর দাবি, লোকসভায় ‘অর্ধসত্য’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নেহরুর ‘সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের বিরোধিতা’ করার কথা ইচ্ছে করে চেপে গিয়েছেন মোদী। তাঁর আরও অভিযোগ, ১৯৩৭ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে লেখা জওহরলাল নেহরুর যে ঐতিহাসিক চিঠিটির কথা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেছেন মোদী, ওই চিঠিটি থেকে বেছে বেছে কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং চিঠিটির মূল সুরটি ইচ্ছে করে গোপন করেছেন
'বন্দে মাতরম’ নিয়ে সংসদে মোদীর দাবি ‘অর্ধসত্য!' কড়া জবাব প্রিয়াঙ্কার
December 8, 2025
সামনে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই বিষয়কে মাথায় রেখেই সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা রেখেছে সরকার। লোকসভায় বললেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর উপলক্ষে লোকসভায় চলছে আলোচনা। এদিন সকালে আলোচনার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের বক্তব্যে কংগ্রেস এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নেহেরুকে লাগাতার আক্রমণ করে গিয়েছেন তিনি। মোদী বলেন, বন্দে মাতরমের ঐতিহ্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কংগ্রেস বন্দে মাতরমের সাথে আপস করে। মুসলিম লীগের কাছে আত্মসমর্পণ করে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নেহরু বন্দেমাতরমের ‘টুকড়ে-টুকড়ে’ করেছিলেন। তার কথায় বন্দে মাতরমকে প্রথমে ভাগ করা হয়েছিল তার দেশ ভাগ করা হয়েছিল।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জোরালো জবাব কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার। তাঁর দাবি, লোকসভায় ‘অর্ধসত্য’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নেহরুর ‘সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের বিরোধিতা’ করার কথা ইচ্ছে করে চেপে গিয়েছেন মোদী। তাঁর আরও অভিযোগ, ১৯৩৭ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে লেখা জওহরলাল নেহরুর যে ঐতিহাসিক চিঠিটির কথা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেছেন মোদী, ওই চিঠিটি থেকে বেছে বেছে কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং চিঠিটির মূল সুরটি ইচ্ছে করে গোপন করেছেন।
এই বিতর্কের সূত্রপাত লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর করা এক মন্তব্য থেকে। মোদী দাবি করেন, মুসলিম তোষণের জন্যই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন নেহরু।১৯৩৭-এর ২০ অক্টোবর নেতাজিকে পাঠানো ওই চিঠিতে নেহেরু লিখেছিলেন, বন্দেমাতরম-এর উদ্ভব ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস থেকে হওয়ায়, এই গানটি মুসলিমদের উত্তেজিত করতে পারে। শুধু তাই নয়, বন্দে মাতরমের বিষয়ে জিন্নার অনুভূতি নেহরু মেনে নিয়েছিলেন, মুসলিম লিগের সামনে মাথা নত করেছিলেন বলেও দাবি করেন মোদী।
জবাবি ভাষণে ওই একই চিঠিকে হাতিয়ার করেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেছেন, জিন্নাকে খুশি করতে বন্দে মাতরম গাইতে বারণ করেছিলেন নেহরু। কিন্তু আসল সত্য হলো, ওই চিঠিতে নেহরু লিখেছিলেন— বন্দে মাতরমের বাকি স্তবকগুলির বিরুদ্ধে তথাকথিত আপত্তিগুলি আসলে সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের তৈরি করা।’
প্রিয়াঙ্কার প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেন চিঠির এই অংশটি সংসদে উল্লেখ করলেন না? কেন তিনি সুবিধাজনক ভাবে শুধুমাত্র একটি অংশ পড়ে শোনালেন?’
ইতিহাসের পাতা উল্টে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘সংবিধান সভায় যখন বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গ্রহণ করা হয়, তখন সেখানে বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং সংঘের নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। যদি গানটি নিয়ে আপত্তি থাকত, তবে তখন কেন প্রতিবাদ করেননি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?’
এখানেই শেষ নয়। নেহেরুকে BJP তথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর ক্রমাগত আক্রমণের বিরুদ্ধে এ দিন কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, ‘রোজ রোজ নেহেরুর সমালোচনা না করে সরকার বরং তাঁর ভুলের একটি তালিকা তৈরি করুক। এর পরে সংসদে একটি দিন ধার্য করা হোক, যেদিন শুধু নেহেরুর ভুল নিয়েই বিস্তারিত বিতর্ক হবে।’
উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপি নেতারা বিভিন্ন আলোচনার সময় কংগ্রেসের শাসনকাল নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে এবং কটাক্ষ করেন। এদিন কংগ্রেস সাংসদ আলোচনার সময় বলেন, প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর সময় কী কী ভুল কাজ হয়েছিল তার একটা তালিকা করুক সরকার। সেই নিয়ে আলোচনা হোক। ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীর সময় কী কী ভুল হয়েছে তার তালিকা করেও আলোচনা করা হোক। জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং অন্যান্যদের ভুলের উপর সরকার বিতর্ক শেষ করার পরে, বেকারত্ব, বেটিং অ্যাপ এবং মানুষের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা করুক।
লোকসভায় বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্কের সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ১৮৯৬ সালে কংগ্রেসের এক সমাবেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্দে মাতরম আবৃত্তি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার সময় তা উল্লেখ করেননি।
We hate spam as much as you do