দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরিতে বুলডোজার দিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘর ভেঙে ফেলার বেআইনি অভিযান চলেছে। যে কথিত অভিযোগ নিয়ে এসে এই পুলিশি সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে তা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সামিল। এই বেআইনি কাজে বৈধতা দেওয়ার জন্য দুটি অজুহাত পুলিশ প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন নিয়ে এসেছে যার একটি হল এই অধিবাসীরা নাকি দাঙ্গা বা হিংসায় মদত দিয়েছে। দ্বিতীয়ত বলা হচ্ছে ,অবৈধ নির্মাণ করে এরা বসতি নির্মাণ করেছে
কলকাতায় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বামপন্থীদের মিছিলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান
কলকাতা মিছিলে আর মানুষের ঢল।মৌলালির রামলীলা ময়দান থেকে রাজাবাজার মোড় পর্যন্ত এই মিছিল ১৭ টি বামপন্থী দলের প্রতিনিধিরা সর্মথকরা উপস্থিত ছিলেন দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক অবস্থা তৈরি করার কাজে মদত দিচ্ছে বিজেপি আরএসএস।
দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরিতে বুলডোজার দিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘর ভেঙে ফেলার বেআইনি অভিযান চলেছে। যে কথিত অভিযোগ নিয়ে এসে এই পুলিশি সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে তা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সামিল। এই বেআইনি কাজে বৈধতা দেওয়ার জন্য দুটি অজুহাত পুলিশ প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন নিয়ে এসেছে যার একটি হল এই অধিবাসীরা নাকি দাঙ্গা বা হিংসায় মদত দিয়েছে। দ্বিতীয়ত বলা হচ্ছে ,অবৈধ নির্মাণ করে এরা বসতি নির্মাণ করেছে। অথচ জাহাঙ্গীরপুরীতে যা কিছু ঘটেছে এবং যেভাবে হিংসা ঘটেছে তা স্পষ্টভাবে আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে ও পরিকল্পিত ভাবে এটা সংগঠিত করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশকে নষ্ট করতে ঘটনার দিন সহিংসতার প্রথমে দুবার মিছিল বের করা হয়েছিল। ইফতার ও নামাজের সময়ে তৃতীয়বার মিছিল বের করার সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক ঢোল বাজিয়ে জোরে জোরে গান বাজিয়ে বেরিয়ে আসে। মিছিলে থাকা লোকজন নানাভাবে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে প্রথম আগ্রাসন ও বিশৃঙ্খলা শুরু করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ অস্ত্রে সজ্জিত ছিল, মিছিলের সময় প্রকাশ্য ভাবে তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মারফত জানা যায় মিছিলের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়নি এলাকায়। পুলিশের ভূমিকাও ন্যক্কারজনক ছিল। পুলিশ একতরফাভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরবর্তীতে পরিবেশকে আরও সহিংস করে তোলে বলে অভিযোগ। এটা দিনের আলোর মত স্পষ্ট যে, সহিংসতা বা দাঙ্গার পরিবেশ তৈরিতে একটি গোষ্ঠী উস্কানি দিয়েছিল।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান বিমান বসু মোহাম্মদ সেলিম স্বপন ব্যানার্জি সূর্যকান্ত মিশ্র সহ এস ইউ সি আই সি পি আই এম এল লিবারেশন নেতৃবৃন্দ
এর আগে জাহাঙ্গীরপুরি ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতার রাজপথে মিছিল হয়েছিল তাদের দাবি করা হয়েছিল
১) সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী জাহাঙ্গীরপুরি এলাকায় স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে হবে। বেআইনি উচ্ছেদের নামে ঘরবাড়িকে বুলডোজার দিয়ে অমানবিকভাবে উচ্ছেদ করার যে কার্যকলাপ দিল্লির পুলিশ প্রশাসন শুরু করেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২) অনতিবিলম্বে শোভাযাত্রার সময়ে উস্কানিমূলক স্লোগানদাতাদের এবং সহিংসতায় উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে।
৩) নিরীহ ও সাধারণ মানুষের যে সমস্ত বাড়ি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ ও পূনর্বাসন সরকারকে প্রদান করতে হবে।
৪) পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, উদাসীনতা ও যোগসাজশের মাধ্যমে এই নৈরাজ্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে দোষীদের পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৫) পুলিশ প্রশাসন ও সরকারকে সম্প্রদায়িক মনোভাব পরিবর্তন করে সকল সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে হবে। এই প্রতিবাদী মিছিল থেকে এই ধরনের জঘন্য কাজ থেকে ফিরে জন্য সরকার আজকের মিছিল থেকে দেশজুড়ে সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ কে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানান বামপন্থী স্লোগান ছিল "হাম সব এক হ্যায়"
We hate spam as much as you do