Tranding

01:44 PM - 04 Feb 2026

Home / Other Districts / ১০ মার্চের ধর্মঘট নিয়ে চাপে সরকার - পদক্ষেপের হুমকি অনৈতিক

১০ মার্চের ধর্মঘট নিয়ে চাপে সরকার - পদক্ষেপের হুমকি অনৈতিক

সরকারি কর্মচারী ইউনিয়নগুলির ডাকা ১০ মার্চের ধর্মঘট ব্যর্থ করতে কোমর বাঁধছে নবান্ন। সরকারি সূত্রের খবর, ধর্মঘটের দিন সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হবে। ওই দিন বিনা কারণে কেউ ছুটি নিলে তাঁর চাকরিজীবনে ছেদের নির্দেশিকাও জারি হবে। সঠিক কারণ দেখাতে না পারলে কড়া শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন সরকারি কর্মচারীরা।

১০ মার্চের ধর্মঘট নিয়ে চাপে সরকার - পদক্ষেপের হুমকি অনৈতিক

 ১০ মার্চের ধর্মঘট নিয়ে চাপে সরকার - পদক্ষেপের হুমকি অনৈতিক 

 
08 Mar 2023, 


মূলত তিনটি দাবি সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মচারী ইউনিয়ন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দাবিটিই হলো বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো। এ ছাড়াও সরকারি কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বিভাজনের রাজনীতি ছেড়ে সুষ্ঠু ভাবে প্রশাসন চালানোর দাবিও রয়েছে।

প্রথম দিকে ভিন্ন অবস্থান নিলেও ১০ মার্চের ধর্মঘটে সামিল হচ্ছে বঙ্গীয় শিক্ষা ও শিক্ষক-কর্মচারী সমিতিও। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চর পক্ষে তাপস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার যে নির্দেশিকাই জারি করুক না কেন, ধর্মঘট হচ্ছেই। রাজ্য সরকারের কোনও হুঁশিয়ারির কাছেই তাঁরা মাথা নত করবেন না বলে জানিয়েছেন।

বকেয়া ডিএ নিয়ে সরব রাজ্যের চিকিৎসকরাও। এই নিয়ে ১০ মার্চ এক ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যাবেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। এদিকে ডিএ মেটানোর পাশাপাশি তাঁদের দাবি, শূন্যপদে স্বচ্ছ ভাবে স্থায়ী নিয়োগ করতে হবে। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের অভিযোগ, হাসপাতালে গ্রুপ ডি কর্মী নেই, পর্যাপ্ত নার্স এবং চিকিৎসকও নেই।
বকেয়া ডিএ মেটানো এবং অন্যান্য দাবিতে স্বাস্থ্য দফতর এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে চিঠি দিয়েছেন চিকিৎসক সংগঠন। এই নিয়ে তৃণমূল সাংসদ ডঃ শান্তনু সেন অভিযোগ করেন, যে চিকিৎসক সংগঠন ডিএ-র দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মদতপুষ্ট। 


বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আগামী ১০ মার্চ সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘটকে সফল করতে গত শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় মিছিল করেন সরকারি কর্মচারীরা। বিকেল ৫টা থেকে এই মিছিল শুরু হয়। ধর্মতলা থেকে মৌলালি পর্যন্ত যায় মিছিলটা। ১২ জুলাই কমিটি এই মিছিল ডেকেছিল। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রায় ৩২ টি সংগঠনও মিছিলে অংশ নিয়েছিল। 
 

প্রসঙ্গত, বকেয়া মহার্ঘভাতা তথা ডিএ-র দাবিতে শহিদ মিনারে বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন সরকারি কর্মচারীরা। পাশাপাশি চলছে অনশন। ১০ মার্চ ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। এর আগে ২০ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি গোটা দিনের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলকারীরা। ২৮ ফেব্রুয়রি দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছিলেন সরকারি কর্মচারীরা।     


 আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের বক্তব্য, এই পে কমিশনের প্রথম থেকেই সরকার ৬ শতাংশ ডিএ বলে ঘোষণা করে আসছে, সেটা মিথ্যা। সরকার এইচআর-এর টাকা ১৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ কমিয়ে ১২ করেছে। সেটাই ডিএ বলে চালাচ্ছে। ওটা আসলে ডিএ নয়। সরকারি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা কোনও ডিএ পাচ্ছিলেন না। এখন ৩ শতাংশ ঘোষণা করল। তাঁরা ৩৯ শতাংশ ডিএ চাইছেন। এই আবহে আগামী ১০ মার্চ ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।     

সরকারি কর্মচারী ইউনিয়নগুলির ডাকা ১০ মার্চের ধর্মঘট ব্যর্থ করতে কোমর বাঁধছে নবান্ন। সরকারি সূত্রের খবর, ধর্মঘটের দিন সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হবে। ওই দিন বিনা কারণে কেউ ছুটি নিলে তাঁর চাকরিজীবনে ছেদের নির্দেশিকাও জারি হবে। সঠিক কারণ দেখাতে না পারলে কড়া শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন সরকারি কর্মচারীরা।


এই মর্মে আগাম নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে নবান্ন। পরিবহণ কিংবা স্বাস্থ্যের মতো জরুরি পরিষেবা যাতে স্বাভাবিক থাকে, সে নিয়েও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

যদিও সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটে অনড়।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do