এরপরেই তদন্ত চালিয়ে গত ৬ এপ্রিল ইমরান ওরফে ঠাকুর এবং সানু ওরফে ইল্লি নামে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গরু জবাই করার জন্য ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। জেরার মুখে অভিযুক্তরা স্বীকার করে, হিন্দু মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র সঞ্জয় জাট, জিতেন্দ্র কুমার সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়েই রিজওয়ান ও তাঁর ছেলেদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল
হিন্দু মহাসভার চার সদস্য নিজেরাই গরু কেটে চার মুসলিমের নামে দোষ চাপায় ! অবশেষে গ্রেপ্তার
Apr 12, 2023
নিজেরাই গরু জবাই করে দোষ চাপিয়ে ছিল ৪ জন নিরপরাধ মানুষের নামে, যাঁরা ধর্মবিশ্বাসে মুসলিম। রামনবমীর দিন গরু জবাই করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল ৪ জনের বিরুদ্ধে। কিন্তু পুলিশি তদন্তে উঠে আসে অন্য কথা, তারপরেই মিথ্যে এফআইআর করা, এবং গরু জবাই করার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও সাতজনের নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে রয়েছে হিন্দু মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র সহ চারজন সদস্য।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। আগ্রা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আরকে সিং জানিয়েছেন, রামনবমীর দিন অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভার নেতা তথা জিতেন্দ্র কুমার পুলিশকে ফোন করে জানায়, গৌতম নগর এলাকায় সে ৪ জনকে প্রকাশ্যে গরু জবাই করতে দেখেছে। কিন্তু তাকে দেখতে পেয়েই পালিয়েছে রিজওয়ান, ও তার ৩ ছেলে নকীম, ভিজ্জু এবং শানু নামে ওই ৪ অভিযুক্ত। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ। দেখা যায়, কাটা অবস্থায় তখনও সেখানে পড়ে রয়েছে গরুটি। এরপরেই ৪ জনের নামে এতমাদুল্লাহ থানায় উত্তরপ্রদেশ প্রিভেনশন অফ কাউ স্লটার আইনের ধারা অনুযায়ী এফআইআর দায়ের করা হয়।
কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসে সম্পূর্ণ অন্য তথ্য। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত নয়, রিজওয়ান ও তাঁর ছেলেরা আদৌ এমন কিছু করেননি। যে এলাকাটিতে গরু জবাই করা হয়েছিল, রামনবমীর দিন আদৌ সেখানে যাননি তাঁরা।
এরপরেই তদন্ত চালিয়ে গত ৬ এপ্রিল ইমরান ওরফে ঠাকুর এবং সানু ওরফে ইল্লি নামে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গরু জবাই করার জন্য ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। জেরার মুখে অভিযুক্তরা স্বীকার করে, হিন্দু মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র সঞ্জয় জাট, জিতেন্দ্র কুমার সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়েই রিজওয়ান ও তাঁর ছেলেদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল তারা। ইমরান এবং সানু তদন্তকারীদের জানিয়েছে, আগে নকীম একবার তাদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল, যার কারণে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল তাদের। সেই ঘটনার শোধ তুলতেই নকীম সহ বাকি ৩ জনকে গরু জবাই মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা।
ঘটনায় ধৃত দু’জন ছাড়াও হিন্দু মহাসভার ৪ সদস্য সহ আরও ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে তারা সকলেই পলাতক। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
We hate spam as much as you do