আমার কখন ঘুম এসে যায় বাবার মুখ দেখে। আর তুমি ঘোড়া ছুটিয়ে একবার বাবার ঘুম থেকে ঢুকে পরো আমার ঘুমে, আমার ঘুম থেকে ভাইয়ের ঘুমে।ঢ
আবার কবিতা
চিরন্তন, শা ম্ব
জমায়েতের পা
চিরন্তন
একি এত জোরে পা চালাচ্ছেন কেন?
পড়ে যাবেন তো!
একি এত আস্তে আস্তে কোথায় যাচ্ছেন?
বিস্ফোরণের আগে পৌঁছবেন কি করে?
দেখুন আপনাদের দুজনের মাঝ দিয়ে উনি যাচ্ছেন,
বেঁটে খাটো মাথাভর্তি টেকো লোকটার
পড়ে যাওয়ার ভয় নেই
আকাশ আঁধার হওয়ার আগেই উনি ঠিক পৌঁছবেন।
ঝড়ের দাপট বেড়েছে এখন
আকাশের রঙ কেমন ফ্যাকাশে
চলার পথে হোঁচট খায় চেতনা
দাবীর আগুনে হাতুড়ি কাস্তে আঁকা সে
ঠিকমত এগোনো কঠিন অন্তর্জাল,
নীল হয়ে গেছে চারদিক,
এখনো ফুল ফুটে আছে রক্তজবা
ঝড়ের দাপটে পথ চিনবে ঠিক।
শতবর্ষ পেরিয়ে ,
দমকা হাওয়ায় চারদিক কাঁপছে,
আপনাদের মাঝ দিয়ে আজও -
ঐ টেকো লোকটা যাচ্ছে,
ওর পাশে পাশে হাঁটা অভ্যেস করা
যার পড়ে যাবার ভয় নেই,
জমায়েতে পা মেলানোই যুগের অভ্যেস
রাস্তাজুড়ে যানজট হোক যতই।।
আশ্রয়
শা ম্ব
বলিভিয়ার জঙ্গলে খেলা শেষ হয়ে যায়নি চে,
আগুন আমাদের জ্বালতেই হতো!
শুকনো পাতার ভেতরে রক্তে ভেজা তোমার ব্যাগপ্যাকের মধ্যে একটা ছোট্ট ডাইরি।
আর তার ভেতরেই সেই অমোঘ বিস্ফোরক,
এক টুকরো আগুন!
আমাদের খেলা এই সবে শুরু, চে...
বকুলের সঙ্গে পলাশ এসে দাঁড়িয়েছে রাস্তায়।
মধ্যরাত্রে বাবার স্বপ্নে ভেতর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করছিলে তুমি,
আর টকটকে ঘাম ও পেঁজা রক্ত ভেজা বাবার মুখ দেখে মনে হচ্ছিলো,এই তো, এই তো সেই অমোঘ ডাইরি!
বাবার লোমকুপ থেকে চকচক করে উঠেছিলো শব্দ আর অক্ষরের কাটা মাথা।
আমি কিচ্ছু বলেতে পারিনি!
আমি শুধু বিশ্বাস করে গেছি এই,
বলভিয়ার জঙ্গলেই সব শেষ হয়ে যায়নি, চে!
আমার কখন ঘুম এসে যায় বাবার মুখ দেখে।
আর তুমি ঘোড়া ছুটিয়ে একবার বাবার ঘুম থেকে ঢুকে পরো আমার ঘুমে,
আমার ঘুম থেকে ভাইয়ের ঘুমে।ভাইয়ের ঘুম থেকে আরও কতো লক্ষ ঘুমের ভেতরে ঢুকে তুমি এগিয়ে দাও সেই তোমার ডাইরি।
আর বলো,
"পড়ো কমরেড,উদাত্য কন্ঠে পড়ো।বিপ্লব একদিন আসবেই"
আমাদের ঘোর লেগে যায়।আমাদের ব্যর্থ শরীরে বারুদের মতো ফুটে ওঠে সমস্ত শব্দ আর অক্ষরে স্থবির ঢেউ!
আমরা তবু পড়তে পারিনা, চে,
আমাদের গলায় নেকড়ে বাঘের থাবা।চোখের ভেতরে চামচিকের উপদ্রব।
আমরা রক্তের ভয় একটা লাইনও পড়তে পারিনা, চে!
আসলে আমরা কেউ মৃত নই, চে,ঘুমন্ত কেবল!
তোমার ব্যাগপ্যাকের মধ্যের জিয়নকাঠি আমদের ঘুম এখনো ভাঙাতে পারেনি।
আমরা কেবল স্বপ্নে দেখেছি তোমার আঁকা সে বিপ্লব।
তবুও আমরা বিপ্লব ছুঁতে পারিনি!
নেকড়ের ভয় আমরা এখনো বিপ্লব ছুঁতে পারিনি!
ব্যাকপেকের মধ্যে থেকে ডাইরিটা বের করে ফেললো ছেলেটা।
নিজের চুলে আর জামায় মুছে ফেল্ল চাপা রক্ত।
আর তার স্থবির আঙুল ছুঁয়ে গেলো সেই সকল শব্দ অক্ষরের চোখ,ঠোঁট,বুক,পঞ্জা....
পৃথিবীতে বোধহয় ভুমিকম্প হয়ে গেলো আরও একবার।
শহস্র নেকড়ে বাঘের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেটা পড়তে শুরু করলো তোমার ডাইরি,
তোমার বারুদ ও বিস্ফোরণ!
পড়তে শুরু করলো পাবলো নেরুদার সেই কবিতা!
পড়তেই থাকলো....
পড়তেই থাকলো উদাত্য কন্ঠ!
আর একটু একটু একটু ছুঁয়ে ফেললো বিপ্লব।
আমরা সবাই ঘুমের মধে শ্লোগান দিলাম...
সবাই আমরা জ্বালিয়ে দিলাম অমোঘ আগুন!
আগুনের গা'য়ে,আগুনের পা'য়ে
আমরা সবাই
সবাই আমরা
ঘুমের মধ্যে
মাথা রাখলাম!
We hate spam as much as you do