ইতিমধ্যে ২০১৯ এর ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মেয়াদ গত ১৩ ই মার্চ ২০২২ শেষ হয়েছে তার পূর্বেই শিল্পের ২১ টি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আলোচনা করে ২৬০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি সহ নতুন দাবি সনদ চূড়ান্ত করে IJMA এবং রাজ্য সরকারের নিকট পেশ করা হয়েছে কিন্তু এ বিষয়ে এখনও ত্রিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয়নি। আমাদের দাবি অবিলম্বে দাবি সনদের আলোচনা শুরু করা দরকার। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশের অনুমতি ছাড়া শ্রমিকদের দাবি জানিয়ে মিলে মিলে ডেপুটেশন চটকলের গেটে গেটে সভা হয়েছে চট শিল্পের শ্রমিকদের ২৬০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি বন্ধ চটকলের দাবিসহ আশু দাবিগুলি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২২ BCMU এর পক্ষ থেকে আই এম এ দপ্তরের সামনে শ্রমিকদের জমায়েত ও সভা সংগঠিত করা হয় এবং সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্তের উপস্থিতি IJMA দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে গত ১লা ফেব্রুয়ারি২০২২, ২১ টি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি বিধি নিয়ে IJMA এনে দপ্তরের ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ JCI তেও ডেপুটেশন দেওয়া হয় কোনো কাজ হয়নি গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১টি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবীগুলি নিয়ে ভূখ হরতালের কর্মসুচী পালিত হয়েছে এবং IJMA দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার পর শ্রমমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
চটশিল্পের সংকটে শ্রমিক ঐক্যে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়বে বললেন বাম কংগ্রেস শ্রমিক নেতৃত্ব
গতকাল সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির অফিস শ্রমিক ভবনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটু রাজ্য সম্পাদক রাজ্যের প্রাক্তন শ্রম মন্ত্রী অনাদি সাহু, আই এন টি ইউ সির নেতা গণেশ সরকার সহ ২১ টি চটকল ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সাম্প্রতিককালে গোটা রাজ্য জুড়ে চট শিল্পের একটি বিশাল সংকট দেখা দিয়েছে। চট শিল্পের সঙ্কট নিয়ে বহুদিন ধরে বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন গুলি এবং অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নদের সঙ্গে নিয়ে নানান নানান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই সময়ে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং চট শিল্প নিয়ে বিভিন্ন চিঠি দিচ্ছেন বলে খবরে প্রকাশ। কিন্তু চট শিল্পের এই সংকট নিয়ে যৌথ আন্দোলন করার ক্ষেত্রে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড ইউনিয়ন আইএনটিটিইউসি এর অনীহা দেখা গেছে। চট শিল্পের সমস্যাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে দেখে তা যৌথ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সমাধান করার বা মালিকদের দাবি মানতে বাধ্য করার প্রক্রিয়া এতে বারবার ব্যাহত হচ্ছে। সেই জন্য অর্জুন সিং এর এই উদ্যোগ নিশ্চিতভাবে যতটা চটকল শ্রমিকের জন্য তার থেকে বেশি বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছাকাছি যাওয়ার উদ্যোগ বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
সেই কারণে গতকালের এই সাংবাদিক সম্মেলনে অনাদি সহ এবং গণেশ সরকার একটি প্রেস বিবৃতি জারি করেন। নিচে সেই প্রেস বিবৃতিতে দেয়া হলো এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার কথা বলেন।
প্রেস বিবৃতি ------------------------------------
রাজ্যের চট শিল্প গভীর সংকটে। যথেষ্ট কাঁচা পাটের উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও গত ডিসেম্বর জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাস জুড়ে কাঁচা পাটের কৃত্রিম অভাবে এবং একশ্রেণীর কাঁচা পাটের ব্যবসায়ীদের অসাধু ব্যবসায়ী চটকল মালিকদের অসাধু উদ্দেশ্যে সর্বমোট ১৮টি চটকল বন্ধ হয়ে গেছে। ৭০ থেকে ৮০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের নিকট ডেপুটেশন দেয়ার পর আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে গত ১৩ ই জানুয়ারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দেওয়া হয়। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যাতে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন তাঁর দাবি করা হয় কিন্তু আজও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী বস্ত্রমন্ত্রী নিরব। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেননি। রাজ্য সরকার এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জুট কমিশনার, ডিরেক্টর JCI , DG এনফোর্সমেন্ট IMA এবং চট শিল্পের ট্রেড ইউনিয়নগুলোর যুক্ত সভা করেন। কিন্তু মজুদ উদ্ধারের প্রশ্নে রাজ্য সরকার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। কমিশন পাটের দাম প্রতি টন ৬৫০০ টাকা ধার্য করা IMA কাঁচাপাট এর দাম ঘোষণার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করে এই বিষয়টি এখনও আদালতের বিচারাধীন এবং কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে শিল্পের অন্যান্য সমস্যা গুলি এরমধ্যে দৈনিক ৩৭০ টাকা মজুরি নতুন শ্রমিক না পাওয়া বর্তমানে প্রধান সমস্যা। শিল্পের শ্রমিকদের কম মজুরি দেওয়া দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও চাকরিতে স্থায়ীকরণ না হওয়া, ত্রিপাক্ষিক চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ৯০-২০ কার্যকরী না হওয়া, শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বদলির স্পেশাল বদলি হিসেবে রেখে দেওয়া এবং ESI এর টাকা দীর্ঘদিন বকেয়া রেখে দেওয়া মালিকদের নানান রকম অমানবিক শ্রমিক শোষণ নীতি, ম্যান - মেশিন ঠিক না করে কাজের বোঝা বৃদ্ধি করা, শ্রমিকদের ওপর জুলুম বাড়ার ঘটনা সামগ্রিকভাবে শিল্পে বর্তমানে গভীর সংকট তৈরি করেছে মালিকরা। সুপ্রিম কোর্টের শ্রমিকদের লকডাউন পিরিওড এর বেতন আটকে রেখেছে। বর্তমান রাজ্য সরকার গত ১১ বছর ধরে মালিকদের সমস্ত ধরনের দুর্নীতি ও শ্রমিক বিরোধী কার্যকলাপ দেওয়ায় এবং শ্রমিক বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করা চট শিল্পে এই সংকট আরো তীব্রতর হয়েছে বারবার বলা সত্ত্বেও ২০১৯ সালের মার্চ মাসে সম্পন্ন হওয়া ত্রিপাক্ষিক চুক্তি কার্যকরী হয়নি। গত দু'বছর কোভিড পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের উপরে মালিকরা আরো অত্যাচার কাজের বোঝাও জুলুম বাড়িয়েছে। লকডাউন পিরিয়ডের বেতন পাওনা থেকে শ্রমিকরা আজও বঞ্চিত। এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাজ্য সরকার এ বিষয়ে মালিকদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায়নি। শ্রমিকের সাথে তঞ্চকতা করেছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকার আহত ত্রিপাক্ষিক সভায় শিল্পের বর্তমান সমস্যা গুলি নিয়ে মালিক সংগঠন এবং রাজ্য সরকারের নেতিবাচক আচরনগুলির ট্রেড ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং শ্রমিক সংগঠন গুলির সমালোচনার চাপে পড়ে রাজ্য সরকার শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি JMA এবং রাজ্য সরকারের অফিসারদের নিয়ে শিল্পের একটি expart committee গঠন করে। এক্সপার্ট কমিটিতে আলোচনা করে wazir advisor নামে একটি সংস্থা চট শিল্পের সার্ভে করে মূল মূল সমস্যা গুলি সম্পর্কে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নিয়োগ করা হয়। চারটি জেলায় বিভিন্ন চটকলের শ্রমিকদের সাথে কথা বলার পরে তারা একটি রিপোর্ট সাবমিট করে এবং প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এই রিপোর্ট নিরপেক্ষ নয়। প্রকৃত অবস্থার চরিত্র নেই। অনেকটাই মালিকদের পক্ষে। ওই সংস্থা রিপোর্ট সাবমিট করেছেন। এর পূর্বে রাজ্য সরকার একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল। ৯০/২০ কার্যকরী করার প্রশ্নে এই তিন সদস্যের কমিটি মিল ভিত্তিক সার্ভে করে শ্রমিকদের কম্পোজিশন কি কিভাবে সমস্যার সমাধান হবে তার রিপোর্ট থেকেও কোনো সুপারিশ আসেনি। স্থায়ীকরণের প্রশ্নে ৯০-২০ হারে স্পেশাল বদলি শ্রমিক নিযুক্তির চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তা না মানা এবং শ্রম আইন মেনে চলার বিষয়ে মালিকদের অনীহার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কার্যত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
ইতিমধ্যে ২০১৯ এর ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মেয়াদ গত ১৩ ই মার্চ ২০২২ শেষ হয়েছে তার পূর্বেই শিল্পের ২১ টি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আলোচনা করে ২৬০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি সহ নতুন দাবি সনদ চূড়ান্ত করে IJMA এবং রাজ্য সরকারের নিকট পেশ করা হয়েছে কিন্তু এ বিষয়ে এখনও ত্রিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয়নি। আমাদের দাবি অবিলম্বে দাবি সনদের আলোচনা শুরু করা দরকার। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশের অনুমতি ছাড়া শ্রমিকদের দাবি জানিয়ে মিলে মিলে ডেপুটেশন চটকলের গেটে গেটে সভা হয়েছে চট শিল্পের শ্রমিকদের ২৬০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি বন্ধ চটকলের দাবিসহ আশু দাবিগুলি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২২ BCMU এর পক্ষ থেকে আই এম এ দপ্তরের সামনে শ্রমিকদের জমায়েত ও সভা সংগঠিত করা হয় এবং সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্তের উপস্থিতি IJMA দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে গত ১লা
ফেব্রুয়ারি২০২২, ২১ টি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি বিধি নিয়ে IJMA এনে দপ্তরের ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ JCI তেও ডেপুটেশন দেওয়া হয় কোনো কাজ হয়নি গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১টি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবীগুলি নিয়ে ভূখ হরতালের কর্মসুচী পালিত হয়েছে এবং IJMA দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার পর শ্রমমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
এতদ সত্ত্বৃও চটশিল্পের সমস্যা সমাধানের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের যথাযথ ভূমিকা নেই। সুতরাং আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প পথ নেই।
২১টি চটকল ট্রেড ইউনিয়ন
We hate spam as much as you do