আর দূরত্ব যেন না বাড়ে মন্দির-মসজিদে সব রঙ মিশে যেন মানবতার রঙে মাটিতে দাঁড়িয়ে যেন দেখতে পাই দিগন্তে উন্মুক্ত নীলাকাশ ;
কবিতা
প্রার্থনা
বৈপরীত্য
প্রার্থনা
হারান মন্ডল
আমি তো কখনও করিনি অতিক্রম
আমার স্পর্ধার সীমানা
আমি শুধু চেয়েছি ফিরে পেতে
আমার পূর্বপুরুষের অর্জিত অধিকার ।
উজাড় করে শুধু দিয়েছি যুগ- যুগান্তরে
যা ছিল আমার সামর্থ্য -- ধৈর্য-মনুষ্যত্ব-মানবতা ।
আমি এখন নিঃস্ব , সর্বহারা ;
আমার শ্রম , অর্জিত সম্পদে ভরেছে তোমার ভান্ডার ।
কনাটুকু ধার চেয়েছি বারে বারে
ভিক্ষা চাইনি কখনো দু'হাত পেতে
চাইনি তোমার সোনার মুকুট
চেয়েছি শুধু আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে ।
আর দূরত্ব যেন না বাড়ে মন্দির-মসজিদে
সব রঙ মিশে যেন মানবতার রঙে
মাটিতে দাঁড়িয়ে যেন দেখতে পাই দিগন্তে উন্মুক্ত নীলাকাশ ;
বারুদের গন্ধ নয় আর ; ফুলের সুবাস যেন ভেসে আসে রোজ প্রভাতে ।
বৈপরীত্য
সুবর্ণ দাস (বয়স -- ১৪ বছর)
গ্ৰাসিলে দিগন্ত দিবাকরকে
নিভিল নভঃদীপ্তি,
হাসিলে চন্দ্র গগন মাঝে
আঁধারের অবলুপ্তি ।
ভাসিলে নয়ন নয়নসলিলে
দুঃখের বহিঃপ্রকাশ ,
আসিলে অধরে হালকা হাসি
আনন্দে আন্দোলিত কাশ।
বহিলে মহীতে শোণিত ধারা
হিংসারে ধিক্ ধিক্!
ত্যজিলে দেহকে দেশাত্মবোধে
বীরত্বের প্রতীক।
করিলে হত্যা মানবে মানব
ধর্মের অভিশাপ ,
স্মরিলে স্বার্থ প্রাণের মাঝে
বীরত্বের বিলাপ।
বহিলে বাতাস উড়িছে অলক
প্রেমের স্পর্শ করি,
ঝরিছে সুধা পড়িলে পলক
হৃদয় গেল যে ভরি।
হরিলে হর্ষ ত্যজিল তাহাকে
হইল অন্ত আশা,
ছদ্মবেশী মোহের দোষে
ভঙ্গ ভালোবাসা।
তুমিই হইলে সেই শান্তি
তপ্ত ভূমির পানে,
শুষ্ক-রিক্ত-জীর্ণ মহী
যাহার অন্বেষণে।
তুমিই আবার সেই দুঃখ
নয়নতারার কোণে,
কপোল বাহি গড়িয়া পড়ে
ক্লিষ্ট জনের মনে।
কামিনী কহিছে,"পত্র আমার,
তিক্ত কেন হে তুমি? "
যামিনী কহিছে,"অংশ আমার,
চন্দ্র তোমাতে আমি। "
We hate spam as much as you do