২৪ শে ডিসেম্বর '১৯৮৭ ; এক মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে মিলিত হলেন রাজীব গান্ধী এবং নাজিবুল্লাহ। সেই মিটিং - এ কি আলোচনা হলো কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারলো না। এরপরই ৪ ঠা মে ১৯৮৮ ; নাজিবুল্লাহকে ভারতের মাটিতে বিপুল ভাবে সম্বর্ধিত করা হলো।
রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে সেই সময়ের কাবুলের কথা
সব মিডিয়া বিশ বছর আগের থেকে আফগানিস্তানের ইতিহাস বলছে। এটা একটা স্ট্র্যাটেজি। কারন তার আগের কথা বললে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসল চেহারা উন্মোচিত হবে।
কিন্তু কি ছিল চল্লিশ বছর আগের আফগানিস্তান যেখানে মেয়েদের ফুটবল টিম ট্রফি জিতত।
দেশের কংগ্রেস সরকারের সাথে কি সম্পর্ক ছিল আফগানিস্তানের? এক ছোট্ট সাক্ষাতের কথা লিখেছেন অশোক ভট্টাচার্য্য
২৪ শে ডিসেম্বর '১৯৮৭ ; এক মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে মিলিত হলেন রাজীব গান্ধী এবং নাজিবুল্লাহ। সেই মিটিং - এ কি আলোচনা হলো কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারলো না। এরপরই ৪ ঠা মে ১৯৮৮ ; নাজিবুল্লাহকে ভারতের মাটিতে বিপুল ভাবে সম্বর্ধিত করা হলো।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো, কাবুল এবং নয়াদিল্লি 'র মধ্যে এক অদ্ভুত সৌহার্দ্য এবং বোঝাপড়ার সেতু মসৃণভাবে তৈরি হতে লাগলো। চাপে পড়ে গেলেন পাকিস্তানের জেনারেল জিয়া। রাজীবের অসামান্য কুটনৈতিক দক্ষতায় ভারতে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ডীন এই কাজে হয়ত নিজের অলক্ষেই ভারতকে নানা ভাবে সহযোগিতা করতে লাগলেন।
তার ফল অবশ্য ডীনকে হাতেনাতে পেতে হয়েছিলো। মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ডীনকে সরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি আমেরিকা। ডীনকে বলা হলো মানসিক চিকিৎসার নাকি প্রয়োজন আছে ডীনের। ডীন তখন সস্ত্রীক প্যারিস পাড়ি দিলেন।
আসলে ডীন প্রকারান্তরে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের জন্য রাজীবের দৌত্যকে সমর্থন করে দু' দুটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন রেগন প্রশাসনকে এবং সিনিয়র বুশ প্রশাসনকে। আর তাতেই প্রমাদ গুণতে শুরু করলো মার্কিন প্রশাসন।
যথারীতি ভারতের পিঠে আরো একবার ছুরি গাঁথলো আমেরিকা।
গ্লাসনস্তের মাতাল হাওয়া, নাজিবুল্লাহর হত্যা, সর্বোপরি এদেশের বুকে রাজীবের বিরুদ্ধে অনৈতিক ষড়যন্ত্র --এই ত্র্যহস্পর্শে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটলো।
সূত্রঃ 'The Great Game in Afghanistan: Rajiv Gandhi, General Zia and the Unending War '--by Kallol Bhattacherjee
We hate spam as much as you do