Tranding

06:50 AM - 04 Feb 2026

Home / National / বিভাজনের রাজনীতির ফলে ভারতে বিনিয়োগ কমছে, উদ্বিগ্ন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনিয়ক

বিভাজনের রাজনীতির ফলে ভারতে বিনিয়োগ কমছে, উদ্বিগ্ন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনিয়ক

নোবেলজয়ীর কথায়, ”আমার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে দেশ রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে দিয়ে চলেছে। মনে হচ্ছে যেন নানা ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশই বাস্তব। দেশ এবং জাতি হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে নিজেদের বিস্তৃত পরিসরে দেখতে চাই কি না, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা তুলে ধরতে চাই কি না। আমি মনে করছি, আসল ইস্যুগুলো তুলে ধরতে পারে একমাত্র সংবাদমাধ্যম। তবে সম্প্রতি তাদের স্বাধীনতায় কোপ পড়ছে।”

বিভাজনের রাজনীতির ফলে ভারতে বিনিয়োগ কমছে, উদ্বিগ্ন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনিয়ক

বিভাজনের রাজনীতির ফলে ভারতে বিনিয়োগ কমছে, উদ্বিগ্ন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনিয়ক


ফেব্রুয়ারি  ১, ২০২৬, 



কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রাক্কালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা বঙ্গসন্তান অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি। নোবেলজয়ীর কথায়, ”আমার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে দেশ রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে দিয়ে চলেছে। মনে হচ্ছে যেন নানা ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশই বাস্তব। দেশ এবং জাতি হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে নিজেদের বিস্তৃত পরিসরে দেখতে চাই কি না, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা তুলে ধরতে চাই কি না। আমি মনে করছি, আসল ইস্যুগুলো তুলে ধরতে পারে একমাত্র সংবাদমাধ্যম। তবে সম্প্রতি তাদের স্বাধীনতায় কোপ পড়ছে।”


সম্প্রতি সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী বঙ্গসন্তান। তাতে একাধিক বিষয়ে তাঁর সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেছেন। এই মুহূর্তে দেশ যে পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষত ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে। তাঁর মতে, জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ যেভাবে প্রভাব ফেলেছে, তা বিনিয়োগ জগতে ভরসার জায়গা নয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানতে চান কোন নীতি অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিন্তু তা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হচ্ছে না। আর এর পিছনে রয়েছে বিভাজনের রাজনীতি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেই বিনিয়োগ ক্ষেত্রে নির্ভর করা কঠিন। সেই পরিবেশ পিছনে ফেলে জাতীয় স্তরে সঠিক নীতি গ্রহণ করা উচিত এবং নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা আশু প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও সুর চড়িয়েছেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্বচ্ছতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সওয়াল করে এই প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ জানান, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, যদি দেশে স্বচ্ছতা না থাকে, তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রকৃত পরিসংখ্যান স্পষ্ট হবে না। আর তথ্যের এই অস্পষ্টতা বিশ্ব বাজারে ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত একটি ‘রহস্যময়’ বা ‘রহস্যাবৃত’ দেশ হিসেবে থেকে যাবে।

নোবেলজয়ীর কথায়, ”আমার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে দেশ রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে দিয়ে চলেছে। মনে হচ্ছে যেন নানা ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশই বাস্তব। দেশ এবং জাতি হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে নিজেদের বিস্তৃত পরিসরে দেখতে চাই কি না, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা তুলে ধরতে চাই কি না। আমি মনে করছি, আসল ইস্যুগুলো তুলে ধরতে পারে একমাত্র সংবাদমাধ্যম। তবে সম্প্রতি তাদের স্বাধীনতায় কোপ পড়ছে।”
উল্লেখ্য, বামপন্থী মনস্ক অভিজিৎ বিনায়ক নানা সময়ে মোদি সরকারের নানা নীতির সূক্ষ্ণ সমালোচনা করেছেন। বিশেষত করোনকালে আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। মানুষের হাতে নগদ অর্থ জোগান দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন নোবেলজয়ী।  ৭৬তম কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রাক্কালে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নতুন ভাবনার জন্ম দিল নিঃসন্দেহে।


এই মুহূর্তে দেশ যে পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষত ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে। তাঁর মতে, জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ যেভাবে প্রভাব ফেলেছে, তা বিনিয়োগ জগতে ভরসার জায়গা নয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানতে চান কোন নীতি অনুযায়ী কাজ হচ্ছে বাণিজ্য ক্ষেত্রে। কিন্তু তা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হচ্ছে না।

Your Opinion

We hate spam as much as you do