প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে ২০২৩ সালের শুরু থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ইসরায়েলে। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু এবং সম্প্রতি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর আরও বেড়েছে বিক্ষোভের মাত্রা ও ব্যাপ্তি।
নেতানিয়াহুর বাড়িতে ফ্ল্যাশ বোমা, ৩ জন ইসরায়েলবাসী গ্রেপ্তার
১৭ নভেম্বর ২০২৪
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাড়িতে দুটি ফ্ল্যাশ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সিজারিয়ায় অবস্থিত নেতানিয়াহুর বাড়ির বাগানে ওই ফ্ল্যাশ বোমা দুটি পড়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেহানিয়াহুর বাড়িতে বোমা হামলা সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোবার সকালের দিকে পুলিশ এবং আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের সদস্যদের হাতে এই ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইসরায়েলের পুলিশ।
তবে গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় ও জাতীয়তা সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি বিবৃতিতে; বরং এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আগামী অন্তত ৩০ দিন পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাসভবন ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর সিজারিয়ায়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সেই বাড়ি লক্ষ্য করে ২টি ফ্ল্যাশ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। নেতানিয়াহু কিংবা তার পরিবারের কোনো সদস্য সে সময় বাসভবনটিতে ছিলেন না।
বাসভবনেরও তেমন কোনো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কারণ বোমা দু’টি গিয়ে পড়েছে বাড়ির বাগানে। নেতানিয়াহুর এই বাসভবনটিতে এবারই যে প্রথম হামলা ঘটল— এমন নয়। এর আগে গত ২০ অক্টোবর এ বাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ। ওই হামলায় বাড়িটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও নেতানিয়াহু কিংবা তার পরিবারের কোনো সদস্যের কিছু হয়নি। কারণ সেবারও তারা কেউ বাড়িতে ছিলেন না।
তবে শনিবারের ঘটনার জন্য সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে সাধারণভাবে। ইসরায়েলের পার্লামেন্টের স্পিকার আমির ওহানা বার্তাসংস্থা এএফপিকে।
এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সীমানা প্রাচীর, সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে উসকানিমূলক স্লোগান ও বার্তা লেখা হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে এসব স্লোগানের সঙ্গে এই বোমা নিক্ষেপের সম্পর্ক রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে ২০২৩ সালের শুরু থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ইসরায়েলে। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু এবং সম্প্রতি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর আরও বেড়েছে বিক্ষোভের মাত্রা ও ব্যাপ্তি।
ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গান্তজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “আমাদের সন্দেহ যদি সঠিক হয় এবং সত্যিই যদি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনার জন্য দায়ী সেক্ষেত্রে সরকারের উচিত এ ব্যাপারটি দ্রুত পরিষ্কার করা। কারণ এ ধরনের হামলা কোনো প্রতিবাদী পদক্ষেপ নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।”
তবে ওই হামলার সময় নেতানিয়াহু বা তার পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি এই ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
We hate spam as much as you do