বাতিলের সম্ভাবনা জেনেও বিজেপি দেবাশীষ ধর কে বীরভূমের প্রার্থী করেছিল কেন? তৃণমূলের শতাব্দী রায়কে কিছুটা সুবিধা করে দেওয়ার জন্য? এমনই অভিযোগ আসছে। এদিকে এখানে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন মিল্টন রসিদ।
বীরভূমে মূল বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে লড়াই তৃণমূল - কংগ্রেসে
Fri, 26 Apr 2024
স্ক্রুটিনিতে প্রার্থীপদ বাতিল বীরভূমের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ধরের। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে দেবাশিস ধরকে "নো ডিউস" সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। আর সেই কারণেই বাতিল হল দেবাশিস ধরের মনোনয়ন। উল্লেখ্য, মার্চের শেষ সপ্তাহে ইস্তফা দিয়েছেন দেবাশিস ধর। কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে এখনও 'ক্লিয়ারেন্স' বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩৬ নম্বর ধারায় বাতিল করা হয়েছে দেবাশিস ধরের মনোনয়ন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেবাশিস ধরের 'ডিউস ক্লিয়ার' ছিল না।
বাতিলের সম্ভাবনা জেনেও বিজেপি দেবাশীষ ধর কে বীরভূমের প্রার্থী করেছিল কেন? তৃণমূলের শতাব্দী রায়কে কিছুটা সুবিধা করে দেওয়ার জন্য? এমনই অভিযোগ আসছে। এদিকে এখানে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন মিল্টন রসিদ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই বীরভূম আসনে 'বড় চমক' দেয় বিজেপি। এক আসনেই ২ জনকে প্রার্থী হিসেবে সামনে আনে বিজেপি! দেবাশিস ধরের পর বিজেপির তরফে আরও একজনকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়। বীরভূম লোকসভা আসনে বিজেপির হয়ে লড়ার জন্য মনোনয়ন দাখিল করেন দেবতনু ভট্টাচার্য। গতকাল সিউড়িতে বীরভূম জেলাশাসকের দফতরে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ার জন্য মনোনয়ন দাখিল করেন দেবতনু ভট্টাচার্য। তাঁর মনোনয়ন গৃহীত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে মনোনয়ন বাতিলের প্রেক্ষিতে দেবাশিস ধর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, সরাসরি আদালতের কাছেই তিনি মনোনয়ন গ্রহণের জন্য আবেদন জানাবেন।
গতকাল বীরভূম আসনে দেবতনু ভট্টাচার্য মনোনয়ন দাখিল করতেই শোরগোল শুরু হয়ে যায়। যদিও মনোনয়ন দাখিল করেই দেবতনু ভট্টাচার্য জানান যে, দলের নির্দেশেই মনোনয়ন দাখিল করেছেন তিনি। দলই তাঁকে মনোনয়ন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আর সেই কারণেই তিনি মনোনয়ন দাখিল করেছেন। প্রসঙ্গত, কেষ্ট গড় হিসেবে পরিচিত বরাবরই 'হাইভোল্টেজ' কেন্দ্র। সেই আসনে প্রাক্তন আইপিএস দেবাশিষ ধরের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিজেপি। ২০২১-এ বিধানসভা ভোটের সময় শীতলকুচিতে গুলি চলার ঘটনা ও গুলিতে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়ায় দেবাশিষ ধরের। সেই দেবাশিষ ধরকেই বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পরই বিতর্ক ছড়ায়।
বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর উদ্দেশে আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওদিকে 'শীতলকুচি কাণ্ডে রাজ্যের এক বড় মাথার বিরুদ্ধে এফআইআর' বলে দাবি করেন দেবাশিস ধরও।
মূলত প্রার্থী দেবাশীষ ধর তার প্রচার কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় বিপুল পরিমাণে দেয়াল লেখা হয়েছিল এই অবস্থায় বিজেপির মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বীরভূমের লড়াইটা তিনবারের সাংসদ শতাব্দী রায়ের সাথে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী মিল্টন রশিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলো বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা যদিও বিজেপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দেবতনু ভট্টাচার্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু দেবতনুর নামে কোন প্রচার না হয় বিজেপি প্রার্থী এই ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে পড়লেন বলেই মনে হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে দেবাশীষ ধরের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে বিজেপি প্রার্থী করেছিল বীরভূমের মতন একটা গুরুত্বপূর্ণ আসনে?
We hate spam as much as you do