Tranding

04:00 PM - 04 Feb 2026

Home / World / রিওতে ব্রাজিল সরকারের মাদকচক্র বিরোধী পুলিশি অভিযানে রক্তাক্ত মৃত -৬৪

রিওতে ব্রাজিল সরকারের মাদকচক্র বিরোধী পুলিশি অভিযানে রক্তাক্ত মৃত -৬৪

মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় ২,৫০০ সশস্ত্র পুলিশকর্মী অংশ নেন। শহরের আকাশে টহল দেয় হেলিকপ্টার, মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও আধুনিক নজরদারি ড্রোন। গোটা শহর জুড়ে যেন যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ব্রাজিলের এই শহর। পুলিশের লক্ষ্য ছিল রিও রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন “কোমান্ডো ভেরমেলহো” (Comando Vermelho) বা “রেড কমান্ড”, যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক, অস্ত্রের মাধ্যমে রাজ্যের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই গ্যাং তাদের প্রভাব আরও বিস্তার করতে শুরু করেছিল। তাদের নেটওয়ার্ক রিও থেকে আশপাশের শহর ও বন্দরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যা রুখতেই এই বৃহৎ অভিযান।

রিওতে ব্রাজিল সরকারের মাদকচক্র বিরোধী পুলিশি অভিযানে রক্তাক্ত মৃত -৬৪

রিওতে ব্রাজিল সরকারের মাদকচক্র বিরোধী পুলিশি অভিযানে রক্তাক্ত মৃত -৬৪

Oct 29, 2025


ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে সংঘর্ষ। যার ফলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৪ জন। মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় ২,৫০০ সশস্ত্র পুলিশকর্মী অংশ নেন। শহরের আকাশে টহল দেয় হেলিকপ্টার, মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও আধুনিক নজরদারি ড্রোন। গোটা ঘটনায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষকে রাস্তায় বেরতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।


মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় ২,৫০০ সশস্ত্র পুলিশকর্মী অংশ নেন। শহরের আকাশে টহল দেয় হেলিকপ্টার, মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও আধুনিক নজরদারি ড্রোন। গোটা শহর জুড়ে যেন যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ব্রাজিলের এই শহর। পুলিশের লক্ষ্য ছিল রিও রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন “কোমান্ডো ভেরমেলহো” (Comando Vermelho) বা “রেড কমান্ড”, যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক, অস্ত্রের মাধ্যমে রাজ্যের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই গ্যাং তাদের প্রভাব আরও বিস্তার করতে শুরু করেছিল। তাদের নেটওয়ার্ক রিও থেকে আশপাশের শহর ও বন্দরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যা রুখতেই এই বৃহৎ অভিযান।

 

অভিযানের শুরুতেই পুলিশের সঙ্গে গ্যাং সদস্যদের তীব্র সংঘর্ষ বাধে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে গুলির লড়াই, বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনা। শহরের উত্তর ও পশ্চিমাংশ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘন ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়, বাতাসে ভেসে বেড়ায় গুলির শব্দ। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। বহু দোকান, বাজার ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। রিও রাজ্যের রাজ্যপাল ক্লাউদিও কাস্ত্রো এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি রিও ডি জেনেইরোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পুলিশ অভিযান। আমাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অপরাধ দমন নয়, বরং নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা।” তিনি আরও জানান, সরকার মাদকচক্র ও সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে “শূন্য সহনশীলতা” নীতি গ্রহণ করেছে।

 

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ফলে সাধারণ নাগরিকও হতাহত হচ্ছেন। স্থানীয় কিছু সংগঠনের দাবি, নিহতদের মধ্যে নিরাপরাধ বাসিন্দাও থাকতে পারে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই রেড কমান্ড গ্যাংয়ের সদস্য এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছিল। অভিযান শেষে পুলিশ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বহু সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যকে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো কঠোর নিরাপত্তা বলয় জারি রয়েছে যাতে অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে।

রিও ডি জেনেইরো বহু বছর ধরেই মাদক ও সংগঠিত অপরাধের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাংদের দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকায় জননিরাপত্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানের ফলাফল ব্রাজিলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। তবে সাধারণ মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন, এত প্রাণহানির পরও কি রিও সত্যিই শান্ত হবে?

Your Opinion

We hate spam as much as you do