কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা ব্য়াখ্যা করে কেজরিওয়াল বলেন, "আদালত জামিন দিয়েছে। এই মামলা চলবে। আইনজীবীদের বললাম, আদালত থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব না। কিন্তু ওঁরা বললেন, মামলা ১০-১৫-২০ সাল চলতে পারে। আদালত যা করতে পারত করেছে। যে আইনে জামিন হয় না, সেই আইনে আদালত থেকে জামিন পেয়েছি। কিন্তু আজ আমি জনতার আদালতে এসেছি। আপনারা বলুন, আপনারা আমাকে দোষী মনে করেন না নির্দোষ?
পুনরায় মানুষের রায় পেলে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন কেজরিওয়াল,ইস্তফা দিল্লীর মূখ্যমন্ত্রীর
15 Sep 2024
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ঘোষণা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। দু'দিন আগেই আবগারি মামলায় জামিন পেয়ে বেরিয়েছেন। রবিবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা করলেন তিনি। কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, আগামী দু'দিনের মধ্যে পদত্যাগ করছেন তিনি। মানুষের রায়ে নির্বাচিত হন যদি, তবেই ফিরবেন। (Arvind Kejriwal)
শুক্রবার জামিনে মুক্তি পান কেজরিওয়াল। রবিবার দিল্লিতে আম আদমি পার্টির কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। সেখান থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি পদত্যাগের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "দু'দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছি। মানুষ রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমি চেয়ারে বসব না। প্রত্যেক বাড়িতে যাব, দরজায় দরজায় পৌঁছব। মানুষের রায় না পাওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব না।"
কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা ব্য়াখ্যা করে কেজরিওয়াল বলেন, "আদালত জামিন দিয়েছে। এই মামলা চলবে। আইনজীবীদের বললাম, আদালত থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব না। কিন্তু ওঁরা বললেন, মামলা ১০-১৫-২০ সাল চলতে পারে। আদালত যা করতে পারত করেছে। যে আইনে জামিন হয় না, সেই আইনে আদালত থেকে জামিন পেয়েছি। কিন্তু আজ আমি জনতার আদালতে এসেছি। আপনারা বলুন, আপনারা আমাকে দোষী মনে করেন না নির্দোষ? কেজরিওয়াল সৎ না অসৎ? দু'দিন পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি আমি। মানুষ রায় না শোনানো পর্যন্ত ওই চেয়ারে বসব না আমি।"
এদিন কেজরিওয়াল জানান, তাঁর পরিবর্তে আপাতত দলের কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে সেই নিয়ে। নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মণীশ সিসৌদিয়াও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন না বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। দিল্লিবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, "আমাদের ভাগ্য এখন আপনাদের হাতে।" আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচন ছিল। কেজরিওয়াল দাবি জানিয়েছেন, এবছর নভেম্বরেই মহারাষ্ট্রের সঙ্গে দিল্লিতে নির্বাচন করানোর। ততদিন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে অন্য কেউ থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
কেন্দ্রকে আক্রমণ করে কেজরিওয়াল বলেন, "কেন আমাকে জেলে পাঠানো হল? আমি কোনও অপরাধ করিনি। ওরাও সেটা জানে। ওরা আমার মনোবল ভাঙতে চেয়েছিল, আমারপ দলকে ভাঙতে চেয়েছিল, ভাঙিয়ে নিতে চেয়েছিল আমার নেতা-মন্ত্রীদের। ED-CBI পাঠিয়ে আমাদের নেতাদের অত্যাচার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের নেতা-কর্মীরা মাথা নোয়াননি। জেলে গিয়ে মনোবল বরং বেড়েছে আমার।" দেশের বাকি মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশেও বার্তা দেন কেজিরওয়াল। কোনও পরিস্থিতিতেই পদত্যাগ না করে, জেল থেকে সরকার চালানোর অনুরোধ জানান।
আবগারি দুর্নীতি মামলায় প্রায় ছ'মাস দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন কেজরিওয়াল। বরাবরই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন তিনি। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে বেআইনি বাবে জেলে পোরা হয়েছে বলে লাগাতার দাবি করে আসছিল আম আদমি পার্টিও। এমনকি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত হয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা CBI-ও। তাদের 'খাঁচাবন্দি তোতা' কটাক্ষে বিদ্ধ করে শীর্ষ আদালত।
We hate spam as much as you do