রবীন্দ্রনাথকে উল্লেখ এর আগেও মোদিজী করেছেন। যদিও রবীন্দ্রনাথের আন্তর্জাতিকতার মতাদর্শ আর রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের উগ্র জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের বিস্তর ফারাক।
আজকের মোদী আর সেই মোদী ভাষনে বিস্তর ফারাক,কবিগুরুর বাণী উল্লেখ করে রাষ্ট্রসংঘে বার্তা মোদীর
রাষ্ট্রসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তিনি নিজের বক্তব্যে নাম না করে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, আফগানিস্তানের মাটি যেন সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহৃত না হয়। বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের মঞ্চে মোদী জানালেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা এবং চরমপন্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিশ্বকে বিজ্ঞান-নির্ভর, বুদ্ধিদীপ্ত এবং অগ্রগতির পথে নিয়ে যেতে হবে।
আমি এমন দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি যে সমস্ত গণতন্ত্রের মাতৃসম। হ্যাঁ, গণতন্ত্রই সব সমস্যার সমাধান, এবং তা করেওছে।
উন্নয়ন সবার জন্য, সবাইকে নিয়ে করতে হবে। যখন ভারত সংস্কারের পথে হাঁটে তখন বিশ্বও পাল্টে যায়।
ভারত বিশ্বের প্রথম ডিএনএ কোভিড টিকা প্রস্তুত করেছে।
করোনা অতিমারি আমাদের শিখিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র আনতে হবে। বর্তমানে বিশ্বে প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা এবং চরমপন্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিশ্বকে বিজ্ঞান-নির্ভর, বুদ্ধিদীপ্ত এবং অগ্রগতির পথে নিয়ে যেতে হবে।
আফগানিস্তানের মাটি যেন সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহৃত না হয়। আমাদের মহাসাগরও আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন। আমাদের অবশ্যই সেটাকে রক্ষা করা উচিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মহলকে এই নিয়ে একসুরে সরব হওয়া উচিত রুল-বেসড ওয়ার্ল্ড অর্ডারকে জোরদার করার জন্য। আমাদের মহাসাগরও আমাদের ঐতিহ্য, তাই এটা মাথায় রাখা উচিত যে আমরা সমুদ্রের সম্পদ ব্যবহার করব, তার অপচয় নয়।
প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তাধারার পাশাপাশি অনেক দেশই সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। তাদের বুঝতে হবে, সন্ত্রাস একইরকম ভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা উদ্ধৃত করে মোদী বলেন, শুভ কর্মপথে, ধরো নির্ভয় গান। সব দুর্বল সংশয় হোক অবসান- এই কথা রাষ্ট্রসংঘ এবং প্রত্যেক দায়িত্বশীল দেশের জন্যেও খাটে।
সাধারণত প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘে এই ভাষন দিলেন তখনই আবার দেশজুড়ে খবর হতে চলেছে অসমে অনুপ্রবেশকারি অভিযোগে দুজন গরীব মানুষকে গুলি করে হত্যা এবং মৃতদেহের ওপর বিভৎস নৃত্য।
রবীন্দ্রনাথকে উল্লেখ এর আগেও মোদিজী করেছেন। যদিও রবীন্দ্রনাথের আন্তর্জাতিকতার মতাদর্শ আর রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের উগ্র জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের বিস্তর ফারাক।
ঠিক যেমন মহাত্মা গান্ধীর হত্যার সাথে আর এস এস এর সম্পর্ক অন্যদিকে এই সময়ে মহাত্মা গান্ধীর চশমার প্রতীক বিভিন্ন জাতীয় কাজে ব্যবহার পরস্পর বিরোধী।
আজ মোদীর ভাষন নিঃসন্দেহে ভারতে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে যে বিতর্কিত বিষয়গুলো ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিন্তার ঘোরতর বিরোধী, সেই বিষয়গুলোকেই বিরোধিতা করল।
গোমাতা থেকে গনেশের মাথা প্লাস্টিক সার্জারি ইত্যাদি বিজ্ঞান বিরোধী বক্তব্যের সাথে আজকের বিজ্ঞান নির্ভরতার ভাষন নিঃসন্দেহে পরস্পর বিরোধী
দেশের মধ্যে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর কেন্দ্রীয় সরকারের অযাচিত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার সাথে প্রধানমন্ত্রীর আজকের ভাষনের মিল খুঁজে পাওয়া ভার।
We hate spam as much as you do