রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর যে ‘হিংসা’ ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে কমিশনের রিপোর্টের ছত্রে ছত্রে শাসক দল তৃণমূলের সমালোচনা করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়ে, ‘রাজ্যের যা অবস্থা, তাতে আইনের শাসনের পরিবর্তে শাসকের আইন চলছে।’
ভোট-পরবর্তী হিংসা : অভিযোগের তদন্তে CBI, নির্দেশ হাইকোর্টের; সুজন, শমীক, কুনাল যা বললেন
হাইকোর্ট সিবিআইকে তদন্ত করতে বলল।
ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গে এই তদন্ত করতে নির্দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের নির্দেশ, হত্যা, ধর্ষণ এবং মহিলাদের উপর অপরাধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের তদন্ত করবে সিবিআই। এছাড়া বাকি অভিযোগের তদন্ত করবে সৌমেন মিত্র, সুমন বালা, রণবীর কুমারকে নিয়ে গঠিত তিনজনের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সিটের তদন্ত আদালতের নজরদারিতে হবে। সেজন্য সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করা হয়েছে।
কতদিনের মধ্যে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে, তাও উল্লেখ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছ'সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং সিটকে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাজ্যকে পুরোপুরি সহযোগিতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে হাইকোর্ট জানিয়েছে, নয়া ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হবে। যে মামলার শুনানি হবে আগামী ২৪ অক্টোবর। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিরুদ্ধে যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিল রাজ্য সরকার, তার কোনও ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর যে ‘হিংসা’ ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে কমিশনের রিপোর্টের ছত্রে ছত্রে শাসক দল তৃণমূলের সমালোচনা করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়ে, ‘রাজ্যের যা অবস্থা, তাতে আইনের শাসনের পরিবর্তে শাসকের আইন চলছে।’ দাবি করা হয়, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে রবীন্দ্রনাথের মাটিতে হিংসার শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। মানুষকে ভিটেছাড়া হতে হয়েছে। এই ধরনের হিংসার ঘটনায় অবিলম্বে লাগাম টানতে হবে। সেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ভারতীয় গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাবে। হিংসা ছড়িয়ে পড়বে অন্য রাজ্যেও। সেইসঙ্গে রিপোর্টে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করা হয়। পরামর্শ দেওয়া হয়, আদালতের পর্যবেক্ষণ তদন্ত করা হোক। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে দ্রুত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেই সুপারিশ কার্যত মেনে নিলেও বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কমিশনের যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটিকে সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাই যে রিপোর্টের যে অংশে সুপারিশ করা হয়েছিল, তা আইনের চোখে ঠিক নয়।
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সংবিধানের জয় হয়েছে আজকে। যেসব মানুষ অত্যাচারিত হয়েছে, তারা আজ বিচার পেল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট আংশিক রিপোর্ট। অত্যাচারের পরিধি আরও ভয়াবহ।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া, “আমাদের দল গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখছে। যথাযথ সময়ে পদক্ষেপ করবে। NHRC রিপোর্ট তো চূড়ান্ত ভাবে রাজনৈতিক। বিরোধিতা করার জায়গা অবশ্যই আছে। এখন বিজেপির নেতারা যা বলছেন, তাঁরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন NHRC দিয়ে। ভোটের আগে কারা বলেছিলেন অনাথ করে দেব? লাশ ফেলে দেব? ৬ ইঞ্চি কমিয়ে দেব? কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিয়ে চিত্রনাট্য সাজিয়েছে। আসলে বিজেপি নিজেদের শাখা সংগঠনকে ব্যবহার করেছে। এনএইচআরসির রিপোর্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া, “ডিজির রিপোর্ট দেখেই তো বোঝা যায় রাজ্যের হালটা কী। আদালত নির্দেশ দিয়েছে সিবিআইয়ের পাশাপাশি সিটও তদন্ত করবে। সিট চলবে আদালতের পর্যবেক্ষণে। আমরা চাই সিবিআইকেও আদালতের পর্যবেক্ষণে চলতে হবে। সিবিআইয়ের প্রতিও মানুষের বিশ্বাস ক্রমশ কমছে।”
We hate spam as much as you do