২০০৮ সালের ২৬ জুলাইয়ে আহমেদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় সবমিলিয়ে ২২ টি বিস্ফোরণ হয় যার মধ্যে একটি রাজ্য সরকার চালিত অসামরিক হাসপাতাল ও আহমেদাবাদ পৌরসংস্থা চালিত একটি হাসপাতালও ছিল।
২০০৮ আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডে ৩৮ জনের মৃত্যুদন্ড, ১১ জনের আজীবন কারাদন্ড
আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডের মামলায় নিয়োজিত স্পেশাল কোর্ট এদিন তার রায়ে UAPA ও IPC ৩০২ ধারায় ৪৯ জনের মধ্যে ৩৮ জনকে মৃত্যুদন্ড ও বাকি ১১ জনকে আজীবন কারাদণ্ড দিল।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে ৮ ফেব্রুয়ারী তে বিচারপতি এ আর পটেলের (স্পেশাল জজ)এজলাসে চলা মামলায় এই ঘটনার সাথে যুক্ত ৭৮ জনের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত হন যার মধ্যে খুন, দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া ও রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মত অপরাধের উল্লেখ রয়েছে। অপরাধীদের মধ্যে একজন আর্মস অ্যাক্ট এর আওতায় দোষী সাব্যস্ত হন।
এর আগে জজ পটেল শাস্তি প্রদানের আঙ্গিকে একটি হিয়ারিং সম্পন্ন করেন যেখানে দোষীদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম শাস্তি প্রদানের দাবি ওঠে এবং সরকারি পক্ষ থেকে দোষীদের কঠোর শাস্তির অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের দাবি ওঠে।
এদিন রায়ে জজ পটেল বিস্ফোরণে মৃতদের পরিবারদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
২০০৮ সালের ২৬ জুলাইয়ে আহমেদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় সবমিলিয়ে ২২ টি বিস্ফোরণ হয় যার মধ্যে একটি রাজ্য সরকার চালিত অসামরিক হাসপাতাল ও আহমেদাবাদ পৌরসংস্থা চালিত একটি হাসপাতালও ছিল।
এছাড়া বেশী কিছু বাস, পার্ক করে রাখা সাইকেল, গাড়ি ও অন্যান্য জায়গায় বিস্ফোরণে ৫৬ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে সেইদিন পর্যন্ত আত্মপ্রকাশ না করা নিষিদ্ধ সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন।
এদিন রায়েরর পর আক্রান্তদের পরিবাররা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত স্টুডেন্টস্ মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া-র নেতা সাফদার নাগোরি। আমদাবাদে বিস্ফোরণের আগে জয়পুর এবং বেঙ্গালুরুতেও একই রকম ভাবে হামলা চালানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, বিস্ফোরণের মূল লক্ষ্য ছিল আমদাবাদের হাসপাতালগুলি। নিহত ৫৬ জনের মধ্যে আমদাবাদের সিভিল হাসপাতালের বিস্ফোরণেই প্রাণ যায় ৩৭ জনের। এলজি হাসপাতালেও একটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে সেখানে কেউ আহত বা নিহত হননি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমদাবাদ এবং সুরাটে ৩৫টি ভিন্ন মামলা নথিভুক্ত করা হয়। বোমা বিস্ফোরণের জন্য আমদাবাদে মোট ২০টি এবং সুরাটে মোট ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়। বিস্ফোরণের কয়েক দিন পরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ২৯টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়।
We hate spam as much as you do