বীরত্বের জন্য তাকে স্বর্ণপদকে পুরস্কৃত করা হয়েছে PDSA ( people's dispensary for sick animals) তরফে। ভাবলে হয়তো অনেকটা রূপকথার গল্প মনে হবে , কিন্তু এটাই বাস্তব। মাগাওয়া আসলে আফ্রিকার একটি বিশেষ প্রজাতির ইঁদুর । নিজের কর্ম জীবনে প্রায় ৭১ টিরও বেশি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছে সে।
কম্বোডিয়ার "বীর ইঁদুর" মাগাওয়া হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে এবার অবসর নিচ্ছে
একটা ছোট্ট ইঁদুর । নাম মাগাওয়া। পাঁচ বছর ধরে কম্বোডিয়ায় মাটির তলায় পোঁতা ৭১ টা ভয়ংকর ল্যান্ডমাইনের খোঁজ দিয়েছে।
পাঁচ বছর ধরে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে সুস্থ শরীরে ক্লান্ত মাগাওয়া এবার অবসর নিচ্ছে ।
মাগাওয়া যে সে কাজ করছিল না। রীতিমত দক্ষতার সাথে মাটির গভীরে দীর্ঘদিন ধরে মানবশত্রুদের পুঁতে রাখা ভয়ংকর ল্যান্ডমাইন যা ফাটলে মুহুর্তে হাজার প্রাণ যেতে পারে তাই খুঁজে বার করছিল এবং পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছিল । মাগাওয়া জানে না সে কত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই বীরত্বের জন্য তাকে স্বর্ণপদকে পুরস্কৃত করা হয়েছে PDSA ( people's dispensary for sick animals) তরফে। ভাবলে হয়তো অনেকটা রূপকথার গল্প মনে হবে , কিন্তু এটাই বাস্তব। মাগাওয়া আসলে আফ্রিকার একটি বিশেষ প্রজাতির ইঁদুর । নিজের কর্ম জীবনে প্রায় ৭১ টিরও বেশি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছে সে।
সব মিলিয়ে এই ইঁদুরটির ওজন ১.২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ২৭.৫ ইঞ্চি (৭০সেমি) । যার জেরে এটি কোন ল্যান্ডমাইনকে ট্রিগার করে না। বেলজিয়ামের "চ্যারিটি অপ্পো "নামের একটি সংস্থা থেকে বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ইঁদুরটি নিজের কর্ম জীবনের ৫ বছর অতিবাহিত করেছে কম্বোডিয়ায়। কম্বোডিয়া এমন এক দেশ যেখানে এখনও মাটির নিচে রয়ে গেছে প্রচুর ল্যান্ডমাইন এবং অবিস্ফোরিত বোমা। যার জেরে প্রতিবছর এই অঞ্চলে মৃত্যু হয় প্রায় আট হাজার মানুষের। হিসাব করে দেখলে গোটা নাইজেরিয়ায় প্রতি ঘন্টায় একটি করে মানুষের মৃত্যু হয় ল্যান্ডমাইনের কারণে। আর সেই ল্যান্ডমাইন খুঁজে বের করতেই দক্ষ এই মাগাওয়া ইঁদুরটি।
কম্বোডিয়া মুলত কৃষিভিত্তিক দেশ। এই দেশে যুদ্ধ আভ্যন্তরীণ বিরোধের কারনে জানা যায় মাটির নিচে প্রায় ৫০ লক্ষ ল্যান্ডমাইন আছে। ইতিমধ্যে ফেটে দেশের প্রায় ৪০০০০ মানুষ আহত এবং পঙ্গু হয়ে গেছে।
মাগাওয়া প্রায় ২২৫০০০ বর্গ মিটার কৃষিজমিকে ল্যান্ডমাইন মুক্ত করতে পেরেছে। যা কার্যত কুড়িটা ফুটবল মাঠের চেয়ে বড়। এতে প্রায় লক্ষ মানুষ নিশ্চিন্তে কৃষিকাজে যেতে পারছে। গত বছর ২০২০ সেপ্টেম্বরে তাকে" গোল্ড মেডেল" সম্মানে ভুষিত করে PDSA জানিয়েছে মাগাওয়া প্রথম ইঁদুরের মত ছোট্ট প্রানী UK charity's honour for heroic animals .পেয়েছে।তারা লিখেছে This tiny creature has a nose for detecting dangerous landmines — and he's being honored for his humanitarian service!
অবশেষে এবার নিজের কর্ম জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করল এই “হিরো র্যাট”। তার প্রশিক্ষক অপ্পোর সো ম্যালেন জানান, বহুদিন ধরে এই কাজ করে আসছে মাগাওয়া। এখন তার বয়স হয়েছে। যার ফলে তাকে সসম্মানে অবসরে পাঠানো দরকার। তিনি আরো জানান, “মাগাওয়া যে কাজ করেছে তা কেউ ভাঙতে পারবেনা।
আমি গর্বিত ওর সাথে কাজ করতে পারার জন্য।”
মাগাওয়ার প্রশিক্ষক ম্যালেন
গত ৭৭ বছর ধরে এই বিশেষ প্রজাতির আফ্রিকান ইঁদুরগুলিকে ল্যান্ড মাইন উদ্ধারের ট্রেনিং দিয়ে আসছে বেলজিয়ান সংস্থা চ্যারিটি অপ্পো।
সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয় এই ধরনের ইঁদুরকে একটি বিশেষ কেমিক্যাল কম্পাউন্ড খুঁজে বের করার ট্রেনিং দেওয়া হয়। যার ফলে তারা অন্যান্য ধাতব জঞ্জাল থেকে ল্যান্ড মাইনকে আলাদাভাবে খুঁজে বের করতে পারে। একটি টেনিস খেলার মাঠকে পরীক্ষা করতে এই ইঁদুরটির সময় লাগে মাত্র কুড়ি মিনিট। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, মাগাওয়ার মতই আরো অনেক ইঁদুরকে এই মুহূর্তে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তারা। যাতে আগামী দিনে, ল্যান্ড মাইনের সমস্যা থেকে কম্বোডিয়াকে মুক্তি দেওয়া যায়। শুধু কম্বোডিয়া নয় , কম্বোডিয়া থেকে জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত ৫৯ দেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ প্রতিদিন ল্যান্ডমাইনের ভয়ে দিন কাটান। সেগুলি পরিস্কার করে বিস্ফোরক মুক্ত করা একটা বিপজ্জনক এবং প্রচুর ব্যায় সাপেক্ষ কাজ। APOPO ("Anti-Persoonsmijnen Ontmijnende Product Ontwikkeling", or in English, Anti-Personnel Landmines Detection Product Development.) এর এই নির্নয়ে জীব জন্তুর ব্যবহার করে এই কাজ অনেক সহজ করেছে।
We hate spam as much as you do