রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মর এই ভাষণের বিরুদ্ধাচারণ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, এটি সরকারের বিবৃতি, যা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এতে নতুন কিছু নেই। এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সরকার দাবি করে যে, দেশ এত উন্নতি করেছে, তাহলে কেন দেশের দরিদ্র মানুষ বেকারত্ব এবং মূল্যবৃদ্ধির বলি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মোদী সরকার শুধু নাম পরিবর্তন করা প্রকল্প চালু করেছে। দরিদ্রদের কাছে পৌঁছানোর কোনও চেষ্টাই নেই এই সরকারের।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে ২০২৪-এর বিজেপি প্রচারের অভিযোগ প্রতিবাদে বিরোধীরা
January 31, 2023,
রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ২০২৪-এর নির্বাচনে বিজেপির ইস্তেহার বলে বর্ণনা করলেন বিরোধীরা। মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলি সংসদের বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্বোধনী ভাষণ প্রসঙ্গে বলেন, এই ভাষণ আসলে বিজেপিক ইস্তেহারের প্রথম অধ্যায়।
বিরোধীদের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির ভাষণে মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং মহিলাদের সম্পর্কিত মূল বিষয়গুলিই নেই। আসল জিনিস বাদ দিয়ে শুধু বিজেপি সরকারের গুণগান গাওয়া হয়েছে ভাষণে। আর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের প্রতিবাদে গর্জে উঠল কংগ্রেস থেকে শুরু করে অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও।
বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদের যৌথ অধিবেশেনের প্রথম ভাষণে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মঙ্গলবার বলেন, যে দেশে এমন একটি সরকার রয়েছে যা স্থিতিশীল, নির্ভীক। যে কোনও কঠিন সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে সিদ্ধহস্ত, কোনও বৈষম্য ছাড়াই সকল শ্রেণির জন্য কাজ করে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আরও বলা হয়েছে, এই সরকার ঐতিহ্য ও পরম্পরার প্রতীক। তার পাশাপাশি উন্নয়নেও সমান নজর কেন্দ্রের সরকারের। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় বিচারের সবথেকে বড় শত্রু হল দুর্নীতি। সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই সরকার নিরলস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি তাঁর ভাষণে প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মর এই ভাষণের বিরুদ্ধাচারণ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, এটি সরকারের বিবৃতি, যা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এতে নতুন কিছু নেই। এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সরকার দাবি করে যে, দেশ এত উন্নতি করেছে, তাহলে কেন দেশের দরিদ্র মানুষ বেকারত্ব এবং মূল্যবৃদ্ধির বলি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মোদী সরকার শুধু নাম পরিবর্তন করা প্রকল্প চালু করেছে। দরিদ্রদের কাছে পৌঁছানোর কোনও চেষ্টাই নেই এই সরকারের।
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থানের কথা, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা, নারী কল্যাণের কথা থাকা জরুরি ছিল। মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করা সম্পর্কে একটা লাইনও নেই তাঁর ভাষণে। সিপিআই সাংসদ বিনয় বিশ্বমের অভিযোগ, মহিলা, যুবক, দলিত ও আদিবাসীদের উন্নয়নের কথা কেবল কাগজে-কলমে।
এদিন ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল হলে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ইস্তেহারের প্রথম অধ্যায় বলে মনে হচ্ছে। কথাগুলি সুন্দর, কিন্তু সত্য নয়। টুইটারে এভাবেই গর্জে উঠেছেন তিনি। ধর্মনিরপেক্ষতার গর্ব অনুপস্থিত। আরএসএসের ধাঁচে হিন্দুত্বের কথা ছিল তাঁর ভাষণে।
We hate spam as much as you do