পান্তাভাত'থেকে শরীরের বহু উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।পেটের সমস্যা সমাধান, কোষ্টবদ্ধতা দূর হয়।পাশাপাশি শরীর সতেজ,শরীরে তাপমাত্রার ভারসাম্য, রক্তচাপ স্বাভাবিক এবং হার্ট সুস্থ রাখতে 'পান্তাভাতের' জুড়ি নেই।
বাঙালির "পান্তাভাতের" পুষ্টিগুন
পেঁয়াজ ভেজে সিদ্ধ আলুর সঙ্গে ভাল করে মেখে নিলেই তৈরি আলু ভর্তা। এর সঙ্গে যদি সামান্য লবন আর একটা কাঁচা মরিচ পাওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই।
কিন্তু যান্ত্রিক সমাজের ডামাডোলে বাঙালির এই চিরপরিচিত পান্তাও এখন বিলুপ্তির পথে।আধুনিকতার ছোঁয়ায় কিষাণ-কিষাণী এখন আগের মত পান্তা খেতে ভুলে যাচ্ছেন। বদলে এসে গেছে তৈরি হালুয়া পরোটা, সবজি ভাজি। গ্রামের মানুষও ইদানিং পান্তা ছেড়ে এসবের দিকে ঝুঁকেছেন।
অথচ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত, গরম ভাতের তুলনায় 'পান্তাভাত' অনেক বেশি উপকারি। পুষ্টিবিদরাও বলছেন পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। এতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। সবচেয়ে বড় কথা 'পান্তাভাত' শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এই গরমে।
অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ ঘন্টা ভাত জলে ভিজিয়ে রাখলে ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন তৈরি হয়।সমপরিমাণ গরম ভাতে আয়রন পাওয়া যায় ৩.৪ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাসিয়ামের পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮৫০ মিলিগ্রাম,সোডিয়াম কমে দাঁড়ায় ৩০৩ মিলিগ্রাম।সেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম,সোডিয়াম ৪৭৫ মিলিগ্রাম বেড়ে যায়।
আমেরিকার নিউট্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণায় দেখা গেছে ভাত জলে ভিজিয়ে রাখলে পাকস্থলীর প্যানক্রিয়াটিক অ্যামাইলেজ সহ বেশ
কিছু এনজাইমের(হজমের) কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়।ফলে পান্তাভাতে থাকা জটিল শর্করাগুলি খুব সহজেই হজম হয়ে যায়।তা ছাড়া পান্তাভাতে ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২'র ভালো উৎস।'পান্তাভাত'থেকে শরীরের বহু উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।পেটের সমস্যা সমাধান, কোষ্টবদ্ধতা দূর হয়।পাশাপাশি শরীর সতেজ,শরীরে তাপমাত্রার ভারসাম্য, রক্তচাপ স্বাভাবিক এবং হার্ট সুস্থ রাখতে 'পান্তাভাতের' জুড়ি নেই।যাবতীয় জীবনশক্তি না কি আছে ' 'পান্তাভাতেই'।মনে করেন চিকিৎসকরা।
প্রায় ১২ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখার ফলে স্বল্প অ্যালকোহলের উপস্থিতির জন্য পান্তা ভাত খেয়ে অনেকের ঝিমুনি ভাবও আসে।তবে কাজের মধ্যে থাকলে ঝিমুনিভাব পালিয়ে যায়, কাজে উৎসাহ বৃদ্ধি পায়।
তাই বিলুপ্তির পথে থাকা বাঙালির ঐতিহ্য 'পান্তাভাতকে' বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শুধু পয়লা বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশ না খেয়ে অন্যান্য সময়েও খেতে পারেন পান্তাভাত। যা স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারি।
ছবি - সংগৃহীত
We hate spam as much as you do