বৃহস্পতিবার আক্রান্ত হন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের প্রাক্তন বিধায়ক সমীরণ মালাকার। তিনি নির্বাচনী প্রচারে কুমারঘাটে ছিলেন। তৃণমূল যুব নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতারের কড়া সমালোচনা করে ত্রিপুরা সিপিএম। রবিবারই ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
Tripura য় ব্যাপক সন্ত্রাস পুর নির্বাচনে প্রাক্তন বাম বিধায়ক আক্রান্তর পর, সায়নীর গ্রেপ্তার তীব্র নিন্দা রাজ্য সিপিএমের
পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হামলা, অবরোধ সবমিলে ত্রিপুরা প্রবল সরগরম। বিরোধী সিপিআইএম, টিএমসি ও কংগ্রেসের প্রার্থীরা পরপর হামলার অভিযোগ তুলছেন। শাসক বিজেপির তরফে সব অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়। বিজেপি দাবি করেছে তাদেরও কিছু কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আক্রান্ত হন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের প্রাক্তন বিধায়ক সমীরণ মালাকার। তিনি নির্বাচনী প্রচারে কুমারঘাটে ছিলেন। তাঁর উপর হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি। প্রাক্তন বিধায়কের মাথায় আঘাত আছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
আক্রান্ত সমীরণ মালাকার উনকোটি জেলার পাবিছাড়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর উপর হামলার খবর ছড়াতেই সিপিআইএম সমর্থকরা থানা ঘেরাও করেন। বিক্ষোভ থামাতে গিয়ে অসহায় অবস্থা হয় পুলিশের। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, সর্বক্ষেত্রে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
আরও অভিযোগ, পুলিশ এক প্রকার নিষ্ক্রিয় রাজ্যে। চরম আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। রাজনৈতিক হামলার সঙ্গে বেড়েছে লুঠপাট ও চুরি, খুন। পরপর খুন হলেও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত আশনরুপ নয়।
এদিকে পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের একাধিক নেতা ও সমর্থক আক্রান্ত। আগরতলা পুর নিগমের ভোটে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে টিএমসি প্রার্থী বিকাশ সরকার আক্রান্ত হন। তাকে জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে বিজেপির এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে
রবিবারই ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
রবিবার ত্রিপুরায় বাংলার তৃণমূল যুব নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতারের কড়া সমালোচনা করে ত্রিপুরা সিপিএম। রবিবারই ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
ত্রিপুরা সিপিএমের বার্তা সম্পাদক রাখাল মজুমদার প্রেস বিবৃতিতে লেখেন, ‘রাজ্যে পুরসংস্থাগুলির নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, তত বেশি শাসক বিজেপি দলের ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাস বাড়ছে।’
রবিবার সকাল থেকে আগরতলা পূর্ব থানায় ছিলেন সায়নী। তাঁকে আটক করে চলছিল জিজ্ঞাসাবাদ। তৃণমূলের অভিযোগ, সেই সময় থানা ঘিরে তাণ্ডব চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ওই হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন একাধিক তৃণমূল কর্মী এবং নেতা।
তৃণমূলের এই অভিযোগকে সমর্থন করে ত্রিপুরা সিপিএমের প্রেস বিবৃতিতে লেখা হয়, ‘থানার ভিতর জিজ্ঞাসাবাদ চলার সময় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা থানা চত্বরে ঢুকে গিয়ে তাদেরকে (তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের) আক্রমণ করে এবং ভাঙচুর করে।’
শেষে লেখা হয়, ‘সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছে।’
রাজ্য সিপিএমের উপরেও বিজেপি হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় প্রেস বিবৃতিতে। রাখাল লিখেছেন, ‘...বামপন্থী-সহ সমস্ত বিরোধী প্রার্থীরা এবং দলের নেতারা আক্রান্ত হচ্ছেন। নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ কোনও দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করছে না। পুলিশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’
রবিবার সন্ধ্যায় আগরতলা পূর্ব থানায় অশান্তির ঘটনায় তিন জন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে আগরতলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে। প্রেস বিবৃতি জারি করা হয়েছে ত্রিপুরা ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও। জানানো হয়, অশান্তি ঘটনায় আহত হয়েছেন ভেনগার্ডের চিত্র-সাংবাদিক মিল্টন ধর, হেডলাইনস ত্রিপুরার চিত্র-সাংবাদিক প্রশান্ত দে (মালু) ও টাইমস টুয়েন্টি ফোরের চিত্র-সাংবাদিক বপন দাস।
গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ‘দুষ্কৃতীদের’ গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে আগরতলা প্রেসক্লাব ও ত্রিপুরা ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেস বিবৃতিতে।
We hate spam as much as you do