গোবিন্দন জানান, যে কোনও ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী বা সংগঠন ক্ষতিকর। হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (সংঘ পরিবার-RSS) কে নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি বলেন, যদি কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বেআইনি ঘোষণা করতে হয় তো সবার আগে আরএসএস’কেই করা দরকার।
PFI-এর উপর নিষেধাজ্ঞার পর RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি CPIM, ও কংগ্রেস -IUML জোটের
28 সেপ্টেম্বর : 2022
গত কয়েকদিনে পিএফআই (PFI)-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ৷ তার পর ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র ৷
মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার (PFI) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে আগেই নিষিদ্ধ করেছিল কেরলে ক্ষমতাসীন CPIM নেতৃত্বে এলডিএফ সরকার। বুধবার ভারত সরকার PFI কে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। বিতর্ক উস্কে এবার সংঘ পরিবারকে (RSS) নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেন কেরল সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন।
গোবিন্দন জানান, যে কোনও ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী বা সংগঠন ক্ষতিকর। হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (সংঘ পরিবার-RSS) কে নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি বলেন, যদি কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বেআইনি ঘোষণা করতে হয় তো সবার আগে আরএসএস’কেই করা দরকার।
এদিকে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া বা পিএফআই (PFI)-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল কেরালা কংগ্রেস (Congress) ৷ ওই রাজ্যে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ বা আইএমইউএল (IUML)-ও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে ৷ পাশাপাশি তাদের দাবি, আরএসএস (RSS)-কেও নিষিদ্ধ করতে হবে ৷
গত কয়েকদিনে একাধিকবার দেশজুড়ে পিএফআই-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা ৷ গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক পিএফআই সদস্যকে ৷ তার পর বুধবার কেন্দ্রের তরফে ওই সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় ৷এই নিয়ে আইএমইউএল নেতা এম কে মুনির পিএফআইয়ের কার্যকলাপের প্রতিবাদ করেছেন ৷ তাঁর দাবি, ওই মৌলবাদী সংগঠন কোরানের ভুল ব্যাখ্যা করেছে ৷ আর হিংসার পথ নিতে ইন্ধন জুগিয়েছে ৷ যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করেছে ৷ সমাজে ঘৃণাও ছড়িয়েছে পিএফআই ৷ এদিন কোঝিকোড়ে তিনি জানান, পিএফআই, এসডিপিআই-এর মতো আরএসএসের কার্যকলাপের বিরোধিতা করছেন ৷
দেশে একমাত্র কেরলে আছে বামফ্রন্ট সরকার। সেই সরকারের মূল দল সিপিআইএম। কেরল সরকার দেশে প্রথম পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়াকে নিষিদ্ধ করে। ২০১৪ সালে কেরল সরকার পপুলার ফ্রন্টের কিছু সন্দেহজনক অবস্থান, ধর্মীয় উস্কানিমূলক প্রচার- হামলার অভিযোগ আনে। পূর্বতন নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠম সিমির খোলস বলে চিহ্নিত করে। তার পরই কেরল সরকার নিষিদ্ধ করেছিল উগ্র ইসলামিক সংগঠন পপুলার ফ্রন্টকে। কেরলের অবস্থানের পরই কর্নাটক,তামিলনাডুতেও পপুলার ফ্রন্ট কার্যকলাপ নিষিদ্ধ হয়।
এবার কেরল সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন হিন্দুত্ববাদী আরএসএসকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাতেই দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য। গোবিন্দন বলেছেন, দুটি ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী যখন নিজেদের মধ্যে সংঘাতে যায়, তখন তারা পরস্পরকে শক্তিশালী করে। হিন্দুত্ববাদী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠিগুলি এখন এই কাজ করে চলেছে।
কেরল সিপিআইএমের দৈনিক মুখপত্র ‘দেশাভিমানী’ ও পিটিআই জানাচ্ছে, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা তিরুঅনন্তপুরমে এসে দাবি করেন, কেরল ক্রমশ সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল হয়ে যাচ্ছে। নাড্ডার দাবির পরেই বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন গোবিন্দন।
একই ভাবে কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিতালা পিএফআই-কে নিষিদ্ধ করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে ভালো বলে ব্যাখ্যা করেছেন ৷ এর পর তাঁর সংযোজন, আরএসএস-কেও এভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত ৷ কেরালায় সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়িকতা সমানভাবে বিরোধিতা করা হচ্ছে ৷ দুটো সংগঠনই সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ায় ৷ সমাজে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করে ৷
We hate spam as much as you do