এবার এলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। যিনি কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ জুলু মুখোপাধ্যায়ের ছেলে।
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের ছেলে তৃণমূল সরকারের নতুন এডভোকেট জেনারেল হলেন
রাজ্যে বারবার এডভোকেট জেনারেল বদল নজিরবিহীন। এর আগে চারবার অনিন্দ্য মিত্র, বিমল চ্যাটার্জি, জয়ন্ত মিত্র, কিশোর দত্ত। এবার এলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
যিনি কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ জুলু মুখোপাধ্যায়ের ছেলে। সুত্রের খবর বিজেপি পরিবারের লোককে এডভোকেট জেনারেল পদে নিয়োগ করা হল।
কিশোর দত্ত গতকালও মামলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু এদিন হঠাৎ পদত্যাগ করলেন। সরাসরি রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন তিনি। আচমকা তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরে যথারীতি উত্তাল রাজনৈতিক মহল। শাসক শিবির যদিও এখনই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছে না। অন্যদিকে প্রত্যাশিত ভাবেই আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী বাম ও বিজেপি।
২০১৭ থেকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবে কাজ করছিলেন কিশোর দত্ত। রাজ্যপালের কাছে পাঠান পদত্যাগ পত্রে তিনি অবিলম্বে নিজের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। লিখেছেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের
এজি হিসেবে কাজ করাকে চমৎকার অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন। এই চিঠির কপি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও আইন মন্ত্রীকে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির ডাকে আপাতত দিল্লিতে রয়েছেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক।
এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যমকে কে বললেন, 'কিশোরের মতো একটা ছেলে ওদের সঙ্গে এতদিন ছিল, এটাই খুব বিস্ময়কর। ও আমার সঙ্গে অনেকদিন কাজ করেছে। চমৎকার ছেলে। এই রাজ্যের প্রশাসন তো দুর্নীতি ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারে না। তাই একজনও সৎ অ্যাডভোকেট জেনারেল এই রাজ্যে টিকলেন না। শেষদিকে তবু কিশোর অনেকদিন টেনে দিল। শুনলাম, আজকেও অ্যাপিয়ার করার জন্য জলপাইগুড়ি গেছে। যদিও কিশোর বলেছে ব্যক্তিগত কারণ, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে নীতিগত বিরোধের কারণেই কিশোর সরে গেল'।
বিজেপির তরফে আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'হাইকোর্টে যে কয়েকজন ভাল আইনজীবী আছেন কিশোর দত্ত তাঁদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু এই তৃণমূল আমলে দেখা গেছে বিভিন্ন সময় এজিরা পদত্যাগ করেছেন। এই রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও ভদ্রলোক কাজ করতে পারে না। একজন অ্যাডভোকেট জেনারেলের পদমর্যাদা ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমান। তাঁকে যদি যোগ্য সম্মান না দেওয়া হয় তাহলে তো এরকমই হবে'।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ পত্রের কপি না দেওয়ায় ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সরকার বারবার হাইকোর্টের দ্বারা নিন্দিত হয়েছে। এই অবস্থায় এডভোকেট জেনারেলের সঙ্গে মতপার্থক্য হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না
সুত্র - aajkaal
We hate spam as much as you do