মীনাক্ষী বলেন, ‘‘ কিছু পুলিশ আছে যারা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে খিচুড়ি পরিবেশ করেন। কিন্তু অনেক পুলিশ আছেন যাঁরা আইন মেনে কাজ করতে চান। আমরা কথা দিচ্ছি, মাথা উঁচু করে কাজ করুন থানার ভিতর। টালা থানার ওসি’র মাথায় কে ছিল? উনি কী নিজের ইচ্ছেয় কাজ করেছেন? সবাইকে বলতে চাই ওই সব অর্ডারে কাজ করবেন না। মানুষ মেনে নেবে না।’’ মীনাক্ষী বলেন, ‘‘বাংলার মায়েরা কষ্টে আছে, আতঙ্কে আছে। বাংলার মেয়েরা ভালো নেই। পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে এই লড়াই করতে হবে। বেকার যুবরা কাজ পাচ্ছেন না। তাঁদের বাইরে যেতে হচ্ছে কাজের জন্য। বাইরে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। সেই লাশ আনতে যেতে হয়েছে বাবা মায়েদের।
বাম- ছাত্র-যুব-মহিলাদের বিপুল মিছিল সমাবেশে অভয়ার বিচারের দাবী
26 সেপ্টেম্বর 24
ধর্মতলায় অস্থায়ী মঞ্চ থেকেই মীনাক্ষীর ঘোষনা ‘আমরা যারা লড়ছি। আর প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বিনীত গোয়ালের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। নতুন কমিশনার এসে কলকাতা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। কেন কলকাতায় কী হয়েছে যে এই ধারা চালু করতে হলো, কী ঘটনা ঘটেছে? তা’হলে কি পুলিশ এই আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে? এই আন্দোলন চললে কি পুলিশ মন্ত্রীর চেয়ার ভেঙে যাবে?’’
বিচারের দাবিতে আন্দোলন জারি রাখার আহ্বানে ধর্মতলায় একথা বলেছেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জি। এদিন এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ডাকে বিচারের দাবিতে জনস্রোত নেমেছে ধর্মতলায়।
যুব নেতাদের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে মীনাক্ষী বলেন, ‘‘কলতানকে জেলে পুরেছিল, আজ ও ঝান্ডা নিয়ে মিছিল করেছে। চিরঞ্জিৎকেও ছাড়তে হবে। আটকে রাখা যাবে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বলছেন উৎসবে ফিরতে, কেন ওনার জমিদারিতে থাকি আমরা? সেটিং হয়েছে বলে গরু চোর জামিন পেয়েছেন। কেউ বলছে বাঘ বেরিয়েছে। আমাদের বাঘ স্যার আশুতোষ। বলছে রাতে মহিলারা বেরোবে না,কেন? বিচারের দাবিতে লড়াই চলছে, শেষ দেখে ছাড়তে হবে।’’
মীনাক্ষী বলেন, ‘‘ কিছু পুলিশ আছে যারা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে খিচুড়ি পরিবেশ করেন। কিন্তু অনেক পুলিশ আছেন যাঁরা আইন মেনে কাজ করতে চান। আমরা কথা দিচ্ছি, মাথা উঁচু করে কাজ করুন থানার ভিতর।
টালা থানার ওসি’র মাথায় কে ছিল? উনি কী নিজের ইচ্ছেয় কাজ করেছেন? সবাইকে বলতে চাই ওই সব অর্ডারে কাজ করবেন না। মানুষ মেনে নেবে না।’’
মীনাক্ষী বলেন, ‘‘বাংলার মায়েরা কষ্টে আছে, আতঙ্কে আছে। বাংলার মেয়েরা ভালো নেই। পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে এই লড়াই করতে হবে। বেকার যুবরা কাজ পাচ্ছেন না। তাঁদের বাইরে যেতে হচ্ছে কাজের জন্য। বাইরে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। সেই লাশ আনতে যেতে হয়েছে বাবা মায়েদের। ’’ আর জি কর হাসপাতাল প্রসঙ্গ বলেন, ‘‘লাশ নিয়েও নোংরামো হয়েছে, বেআইনি কাজ হচ্ছে। ওষুধেও জালিয়াতি হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর আস্থা সরকার নষ্ট করে দিয়েছে।’’
আর জি কর কাণ্ডে দায়ী চিকিৎসকদের বদলি করেছিল সরকার। কিন্তু চিকিৎসকরাই ঢুকতে বাধা দিয়েছেন তাদের। এই প্রসঙ্গে মীনাক্ষী বলেন,
‘‘কাকদ্বীপ হাসপাতাল, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কেলেজের চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদেরর লাল সেলাম জানাই। দুর্নীতিগ্রস্তদের ঢুকতে না দেওয়ার জন্য।’’ তিনি বলেন, ‘‘নির্যাতিতার মা বাবা-কে সেই আলমারিতে ডেথ সার্টিফিকেট রাখতে হয়েছে খেখানে ওই চিকিৎসক ছাত্রীর ডাক্তারির সার্টিফিকেটগুলো আছে। এর থেকে বড় যন্ত্রণা র কী হতে পারে।’’
মীনাক্ষী বলেন, ‘‘ সমাজে অন্যায়ের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন বিদ্যাসাগর, রামমোহন। আমাদের দরদ দিয়ে লড়তে হবে। পানিহাটির মায়ের দিকে তাকিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। উৎসব শুরু হতে চলেছে। আমাদের আন্দোলনও চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের অনুরোধ, টাকা জমিয়ে নিজেদের উদ্যোগে প্রতিবাদী একটি ফ্লেক্স লাগান রাস্তায়। মায়েরা যখন নেমেছেন আমাদের ভয় নেই।’’
এসএফআই’র সর্বভারতীয় নেত্রী দীপ্সিতা ধর বলেন, ‘‘মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে তারা মুখ্যমন্ত্রীর মত উৎসবে ফিরতে চান না। এই রাজ্যের ইতিহাস বিদ্যাসাগরের ইতিহাস। তারা শিখিয়ে ছেন সত্যি বলতে রাস্তায় থাকতে হয়। সংখ্যা শেষ কথা নয়।
যেই পুলিশ প্রমাণ লোপাট করলো, যারা দোষীদের আড়াল করে তাদের থেকে কেন অনুমতি নেব। এই রাস্তা মানুষের টাকায় তৈরি। যদি মানুষ মনে করে যে পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারবে না তাহলে তারা রাস্তার দখল নেবে।
যেই ডাক্তাররা রাস্তায় ছিলেন তারা মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়। মানুষের নিরাপত্তার জন্য তারা অবস্থান করেছেন। আগামীদিনে রূপসা, কলতানদের সামনে রেখে আমরা লড়াইয়ে থাকব।
বাংলার মেয়েরা মমতাকে আর চায় না।’’
অবিরাম বৃষ্টির মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ছাত্র, যুব, মহিলা কলকাতায় এসে সমবেত হয়ে এবার ‘জাস্টিস’র দাবিতে কলকাতা দখলের কর্মসূচিতে নেমে সোচ্চার হলেন তাঁরা।
এদিন দুপুর একটায় কলকাতার মধ্যস্থলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ধর্মতলায় এই জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বামপন্থী ছাত্র, যুব, মহিলারা। জেলাগুলি থেকে উদ্দীপনা নিয়ে কলকাতামুখী হলেন , তাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা সম্পূর্ণ অচল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল।
আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার পর ৪৮ দিন অতিক্রান্ত। স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং কলকাতা পুলিশকে ব্যবহার করে অপরাধী ও শাসকদলের পক্ষ থেকে প্রথম থেকে প্রমাণ লোপাটে ব্যস্ত থাকলেও, হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত গেছে সিবিআই’র হাতে। সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা হাতে নিয়ে শুনানি করছে, কোটি কোটি টাকায় রাজ্য সরকারের নিযুক্ত আইনজীবীরা সেখানে সময় কিনতে নেমেছেন। কিন্তু আর জি করের অপরাধীদের মূল মাথারা এখনও অধরা। জুনিয়র ডাক্তারদের নাছোড় আন্দোলন, বামপন্থী ছাত্র যুব মহিলাদের একটানা লড়াই, রাজ্যজুড়ে নাগরিক আন্দোলনের অভূতপূর্ব স্রোত সবকিছুতে বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ভবন থেকে কয়েকজনকে সরিয়েছেন এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে বিনীত গোয়েলকে সরিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহ রাজ্যের সর্বত্র ‘থ্রেট কালচার’ এখনও চলছে। তৃণমূল নেতারা প্রতিবাদীদের হুমকি দিচ্ছেন, এমনকি পুলিশকে দিয়ে হয়রানি করাচ্ছে। মিথ্যা মামলা সাজিয়ে প্রতিবাদীদের জেলে পুরছে। অন্যদিকে মানুষকে আন্দোলনের রাস্তা থেকে তুলে উৎসবে ফেরাতে তৃণমূল নেতারা বিপুল টাকার ব্যবহার করছে।
কিন্তু আর জি করের ঘটনায় ন্যায়বিচার আদায় এবং প্রতিবাদীদের ওপরে হেনস্তা বন্ধের দাবিতে রাস্তাতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বামপন্থী ছাত্র যুব মহিলারা। রাজ্যজুড়ে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিলই, শ্যামবাজারে একটানা তাদের অবস্থান বিক্ষোভও চলছে। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে সারা রাজ্য থেকে ছাত্র যুব মহিলারা ধর্মতলায় এলেন জাস্টিসের দাবিতে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে বহু মানুষ তো এলেন, সেইসঙ্গে শিয়ালদহ এবং হাওড়া থেকে দুটি মিছিল ধর্মতলায় উপচে পড়ল। বৃষ্টিস্নাত কলকাতায় এরপরে ধর্মতলায় আর কোনও জায়গা অবশিষ্ট ছিল না, নজিরবিহীন জনসমাবেশে কলকাতা সম্পূর্ণ অচল।
গত ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মরদেহ যখন পুলিশকে দিয়ে প্রায় ছিনতাই করে তৃণমূল নেতারা শ্মশানে নিয়ে যাচ্ছিল তখনই পরিবারের অধিকারের কথা তুলে মরদেহবাহী গাড়ি আটকেছিলেন বামপন্থী ছাত্র-যুব মহিলা কর্মীরা। সেদিন তাঁরা পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন, পুরুষ পুলিশ অফিসাররা যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির গায়ে হাত দিয়েছে। তবুও প্রতিবাদের সেই আগুনকে নেভানো যায়নি, বরং আগুন ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। সেই প্রতিবাদের তেজ নিয়েই ধর্মতলার রাস্তায় নেমে ‘তিলোত্তমার ভয় নাই/ রাজপথ ছাড়ি নাই’ একথা সোচ্চারে জানিয়ে দিতে চলেছেন বামপন্থী ছাত্র-যুব মহিলা আন্দোলনের কর্মীরা। বিচার আদায় করে আনতে এখন তারা বদ্ধপরিকর। সারদা নারদ থেকে চাকরি চুরির মতো কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই শাসকদলের সেটিংয়ে সিবিআই’কে ঠুঁটো বানিয়ে ন্যায়বিচারের বলি দেখতে রাজি নন তাঁরা। ‘নাটক ছেড়ে বিচার করো/ আর জি করে মাথা ধরো’ এই আওয়াজ তুলে আন্দোলনকে জেদী নাছোড় করে তুলছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে কলকাতা পুলিশ যে প্রতিবাদীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে রেখেছে তাদেরও মুক্তির দাবি করছেন।
বৃহস্পতিবারের কলকাতা চলো কর্মসূচিকে সফল করতে গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার পাশাপাশি জেলায় জেলায় প্রচার চালিয়েছেন এসএফআই, ডিওয়াইএফআই এবং গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীরা। স্কুল কলেজের সামনে গেট সভা করছেন ছাত্ররা, এছাড়াও পথসভা থেক আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিলি করা হয়েছে, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলির সময়েও জাস্টিসের দাবিতে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে। গানে, কবিতায়, ছবি এঁকে এবং নানা সৃজনশীল প্রচার প্রক্রিয়ায় বার্তা দেওয়া হয়েছে কলকাতায় জমায়েতের।
We hate spam as much as you do