জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, কে কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে লড়বেন, তা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নির্যাতিতার মায়ের এই পদক্ষেপ নিয়ে সংগঠনের কোনো সমর্থন বা আপত্তি— কোনোটিই নেই। তবে তাঁরা একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন: আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা কি এতটাই দুর্বল যে, একজন সন্তানহারা মাকে ন্যায়বিচার পেতে ক্ষমতার অলিন্দে বা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হয়? যদি বিচার পেতে গেলে নিজেকে 'প্রভাবশালী' প্রমাণ করতে হয়, তবে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
অভয়ার মা প্রার্থী! জুনিয়র ডাক্তার ফ্রন্টের তীক্ষ্ণ মন্তব্য "এমন একটি দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছেন যারা ধর্ষকের গলায় মালা পরিয়ে উল্লাস করে"
Sat, 28 Mar 2026
আরজি কর কাণ্ডের ১৯ মাস পর আবারও শিরোনামে 'অভয়া'। তবে এবার কোনো মিছিলে নয়, বরং নির্বাচনী রাজনীতির ময়দানে। নির্যাতিতার মা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। একদিকে যখন সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি জারি করল 'ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট'।
জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, কে কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে লড়বেন, তা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নির্যাতিতার মায়ের এই পদক্ষেপ নিয়ে সংগঠনের কোনো সমর্থন বা আপত্তি— কোনোটিই নেই। তবে তাঁরা একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন: আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা কি এতটাই দুর্বল যে, একজন সন্তানহারা মাকে ন্যায়বিচার পেতে ক্ষমতার অলিন্দে বা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হয়? যদি বিচার পেতে গেলে নিজেকে 'প্রভাবশালী' প্রমাণ করতে হয়, তবে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI-এর ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগ, সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল না করা অত্যন্ত রহস্যজনক। তাঁদের প্রশ্ন, চার্জশিট দেওয়ার পূর্বশর্ত কি তবে নির্যাতিতার পরিবারের বিজেপিতে যোগদান? এই পরিস্থিতিকে তাঁরা গণতন্ত্রের জন্য 'লজ্জাজনক' ও 'ভয়ানক' বলে অভিহিত করেছেন।
সংগঠনটি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই আন্দোলন ছিল অদলীয় এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলোতেও নারী নিরাপত্তার রেকর্ড অত্যন্ত শোচনীয়। এমন একটি দল যারা 'ধর্ষকদের গলায় মালা পরিয়ে উল্লাস করে', তাদের হাত ধরে ন্যায়বিচার আসা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে জুনিয়র ডাক্তাররা সন্দিহান। তা সত্ত্বেও, একজন মা কতটা অসহায় হলে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতে রাজি হন, সেই যন্ত্রণাকে সহানুভূতির চোখে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
"আন্দোলনকারীরা সবাই নিজের স্বার্থে লড়েছেন"— নির্যাতিতার পরিবারের এমন মন্তব্যে ব্যথিত চিকিৎসকরা। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, টানা বৃষ্টিতে ভিজে রাত জেগে যাঁরা বিচার চেয়েছিলেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল বিচারব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন, কোনো ব্যক্তিগত বা নির্বাচনী স্বার্থ নয়।
পরিশেষে, জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ক্ষমতায় লাল, সবুজ বা গেরুয়া যে রঙই থাকুক না কেন, ক্ষমতার ভাষা একই। তাঁরা কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, বরং একটি স্বাধীন নাগরিক কণ্ঠস্বর হিসেবে ভুলকে ভুল এবং অন্যায়কে অন্যায় বলে যাবে।
We hate spam as much as you do