Tranding

02:04 AM - 29 Mar 2026

Home / World / নেপালের ক্ষমতাচ‍্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে ক্ষমতা পেয়েই গ্রেপ্তার করল নতুন জেন-জি সরকার 

নেপালের ক্ষমতাচ‍্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে ক্ষমতা পেয়েই গ্রেপ্তার করল নতুন জেন-জি সরকার 

দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসার তদন্তে গঠিত নেপালের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন চারবারের প্রধানমন্ত্রী এবং ‘কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউনিফাইড মার্কসবাদী -লেনিনবাদী)’-এর শীর্ষনেতা অলির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নেপালের ক্ষমতাচ‍্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে ক্ষমতা পেয়েই গ্রেপ্তার করল নতুন জেন-জি সরকার 

নেপালের ক্ষমতাচ‍্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে ক্ষমতা পেয়েই গ্রেপ্তার করল নতুন জেন-জি সরকার 


২৮ মার্চ ২০২৬

 শনিবার ভোরে নেপালের প্রক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘জেন জি’ বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় এক হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই বিক্ষোভের জেরেই শেষ পর্যন্ত কেপি শর্মা ওলিকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল। শুক্রবারই র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বালেন শাহ দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার একদিন পরেই গ্রেপ্তার করা হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলিকে।

একই মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। ভক্তপুরের বাসভবন থেকে এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে এমন সব ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে, যার অধীনে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।


২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে এক বিশাল যুব-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে কেঁপে উঠেছিল  নেপাল। এই বিক্ষোভ, আন্দোলন ‘জেন জি বিপ্লব’ নামে পরিচিত। কেপি শর্মা অলির শাসনকালে সুশাসনের অভাব, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এই বিপ্লবের সূত্রপাত হয়েছিল। এই বিক্ষোভ শুরুতে কেবল ‘ডিজিটাল স্বাধীনতা’র দাবিতে একটি আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল। তবে ক্রমশ তা এক ব্যাপক ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘ব্যবস্থাবিরোধী’ বিদ্রোহের রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত কঠোর রাষ্ট্রীয় দমনের মুখে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। এই সংঘাত ও হিংসায় অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং ২,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হন।

দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসার তদন্তে গঠিত নেপালের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন চারবারের প্রধানমন্ত্রী এবং ‘কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউনিফাইড মার্কসবাদী -লেনিনবাদী)’-এর শীর্ষনেতা অলির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কমিশনের রিপোর্টে, গত বছরের হিংসার জন্য ৭৪ বছর বয়সী অলিকে দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিক্ষোভের প্রথম দিনে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা গোলাগুলি থামাতে তিনি কোনও পদক্ষেপই করেননি।  ফলে অন্তত ১৯ জন ‘জেন জি’ বিক্ষোভকারী নিহত হন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, “দেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে, ভাল বা মন্দ - যেকোনও ঘটনার জন্যই অলির দায়ভার গ্রহণ করা উচিত।”

অলি এবং তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক ছাড়াও, কমিশন তৎকালীন পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুং এবং আরও বহু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। তবে অলি কমিশনের এই তদন্ত এবং রিপোর্টকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ‘অন্নপূর্ণা পোস্ট’ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে অলির মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেখানে তিনি বলেছেন “এই রিপোর্ট অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। এটা আমার চরিত্র হননের শামিল এবং এতে বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতির প্রতিফলন ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী যদি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে, তবে এই তিনজনকেই সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। ৫ই মার্চের সাধারণ নির্বাচনে, কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝাপা-৫ আসনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতা বালেন শাহের কাছে অলি শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do