বরানগর বিধানসভা আবার তার পুরনো লাল দুর্গে ফিরতে চাইছে। সায়নদীপ মিত্র তার প্রচারে যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছেন। একদিকে বিজেপি অন্যদিকে তৃণমূলের অভিনেত্রী প্রার্থী এই দুই প্রার্থীর প্রতি বিরক্ত ওই দুই দলেরই অসংখ্য সমর্থক সেক্ষেত্রে বরানগরে সায়নদীপ মিত্রের একটি সুযোগ আসছে।
সায়ন্তিকা-সায়নদীপ-সজল : বরানগরে 'তিন 'স'-এর লড়াই! মানুষ কি বামদিকে ঝুঁকছেন?
19 এপ্রিল 2026
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর কেন্দ্রটি এখন গোটা রাজ্যের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে রাজনীতির সমীকরণের চেয়েও এখানে বেশি চর্চা হচ্ছে এক অদ্ভুত সমাপতন নিয়ে। বরানগরের নির্বাচনী ময়দানে এবার মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর, যাঁদের প্রত্যেকেরই নামের আদ্যক্ষর ইংরেজি বর্ণমালার ‘S’ বাংলার 'স'।
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল কংগ্রেস): রুপোলি পর্দার মুখ বিধায়ক সায়ন্তিকা এবার বরানগরের ঘাসফুল শিবিরের বাজি। উপ-নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি লড়ছেন
সায়নদীপ মিত্র (সিপিআইএম): রাজ্য কমিটির সদস্য বামেদের যুব মুখ। সায়নদীপ মিত্র লড়ছেন লাল ঝাণ্ডার হয়ে। শিক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সায়নদীপ তরুণ প্রজন্মের ভোট টানতে সক্ষম।
সজল ঘোষ (বিজেপি): কলকাতার কাউন্সিলর তথা বিজেপি নেতা সজল ঘোষ গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী, প্রাক্তন তৃণমূল। যিনি প্রচুর কথা বলেন।
বরানগরের লড়াইয়ের একদিকে সায়ন্তিকার কাছে এটি নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করার লড়াই, অন্যদিকে সজল ঘোষের কাছে এটি বিজেপির সংগঠনকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ। আবার সায়নদীপের লক্ষ্য, বরানগরের পুরোনো বাম দুর্গ পুনরুদ্ধার করা।
২০২৪ সালের উপনির্বাচনে জয়লাভের পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বরানগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমীক্ষা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বরানগরে বাম, তৃণমূল, বিজেপির মধ্যে কাঁটায় কাঁটায় টক্করের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বামঘাঁটির পূরানো সমর্থণ ফেরার ইঙ্গিত।
এই কারনেই এলাকায় নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ ও উত্তর দেন সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র। সজল ঘোষ বলেন, ‘সিপিএমের জন্ম সিপিআই দল ভেঙে হয়েছে।সায়নদীপ সিপিএম ছেড়ে সিপিআইয়ে যাবে না তার কি গ্যারান্টি আছে "
সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র বলেন, ‘সজলবাবু এক কালে ছাত্র রাজনীতি করত। তিনি বুড়ো বয়সেও ছাত্র রাজনীতি করেছে। তিনি আজ প্রার্থী। তিনি তো শিশু। দুধের ফিটিং বোতল নিয়ে ঘরে শুয়ে থাকুক।’
তৃণমূলের গোষ্ঠীদন্দ বরানগরে একটা ফ্যাক্টর । অভিনেত্রী সায়ন্তিকা সেই হিসেবে সংগঠনকে যথেষ্ট সংগঠিত করতে পারছেন না। বিধায়ক হিসেবেও তার কাজে এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট নন। সব মিলিয়ে বরানগরের বড় অংশের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে আর ভোট দেবেন না বলে ঠিক করেছেন।
এদিকে প্রকাশ্যে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষকে তৃণমূলের এজেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন পুরনো বিজেপি কর্মীরা।
গত সোমবার উত্তপ্ত হয় বরানগরের রাজনৈতিক পরিবেশ। বিজেপির অন্দরেই গোষ্ঠী সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। সজলের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দলের এক পুরনো কর্মী রাজীব কে মারধরের অভিযোগ ওঠে । রাজীব মিশ্র বরানগরের দশ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত। সংবাদমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, সজল ঘোষ নাকি বারবার বলে থাকেন যে জিতলে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হবেন।
বরানগর বিধানসভা আবার তার পুরনো লাল দুর্গে ফিরতে চাইছে। সায়নদীপ মিত্র তার প্রচারে যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছেন। একদিকে বিজেপি অন্যদিকে তৃণমূলের অভিনেত্রী প্রার্থী এই দুই প্রার্থীর প্রতি বিরক্ত ওই দুই দলেরই অসংখ্য সমর্থক সেক্ষেত্রে বরানগরে সায়নদীপ মিত্রের একটি সুযোগ আসছে।
We hate spam as much as you do