আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তাত-বালুচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর এলাকায় তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, উড়ন্ত এফ-১৮ যুদ্ধবিমানটিতে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়, এবং এক পর্যায়ে এর লেজের দিকে বিস্ফােরণ হয়। তবে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে কী-না তার কোন ভিডিও বা প্রমাণ দেখা যায়নি। এদিকে, আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মাঝরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে কেঁপে উঠল ইসরাইল, বহু হতাহতের খবর
২৭ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরম তুঙ্গে। ইরানের দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে কেঁপে উঠেছে গোটা ইসরাইল। বিশেষ করে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব ও শ্যারন অঞ্চলে একের পর এক ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত হানায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবের জনবহুল এলাকাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে একাধিক বিল্ডিং ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা (এমডিএ) নিশ্চিত করেছে যে, তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্রের স্পিন্টারের আঘাতে অন্তত দুইজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় সাইরেনের শব্দে পুরো শহর আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং মানুষকে ছুটতে থাকে। শ্যারন অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই হামলাকে তাদের ওপর হওয়া পূর্ববর্তী আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে দাবি করছে। বর্তমানে ইসরাইল জুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি রয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ দিয়ে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। মধ্য ইসরাইলের কাফর কাসিম শহরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষত এখন স্পষ্ট। সাম্প্রতিক এই হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং শহরের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, মিসাইলের আঘাতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় রাস্তার পাশের বেশ কিছু গাড়ি উল্টে পড়ে আছে। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের স্পর্শকাতর Nuclear infrastructure লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের সামরিক কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামো। পাশাপাশি, ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান সেনাবাহিনী। বুধবার এক বিবৃতিতে ইরান সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইসরাইলি শাসনের বিমান সহায়তা কেন্দ্র, ড্রোন উৎপাদন শিল্প এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করেছে। ইরানি সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, এই অভিযানে বেন গুরিয়ান বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত ইসরাইলি ফাইটার জেটের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং রাফায়েল উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই) এই হামলার শিকার হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইসরাইলের অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমনÑআয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম তৈরির জন্য দায়বদ্ধ ‘রাফায়েল ইনস্টিটিউট’ ড্রোন হামলার কবলে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের ড্রোনগুলো মোসাদ এবং শিন বেতের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তাত-বালুচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর এলাকায় তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, উড়ন্ত এফ-১৮ যুদ্ধবিমানটিতে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়, এবং এক পর্যায়ে এর লেজের দিকে বিস্ফােরণ হয়। তবে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে কী-না তার কোন ভিডিও বা প্রমাণ দেখা যায়নি। এদিকে, আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার তেহরান দাবি করেছিল, তাদের নৌবাহিনী মার্কিন এই বিশাল যুদ্ধজাহাজটিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বুধবার নিয়মিত ফ্লাইট অপারেশন চলাকালীন জাহাজে একটি দূর্ঘটনা ঘটে। যার ফলে এক নৌসেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। মার্কিন ৫ম ফ্লিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৫ মার্চ আরব সাগরে অবস্থানকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এটি কোনো সরাসরি যুদ্ধ বা হামলাজনিত আঘাত নয়। আহত সেনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জাহাজ থেকে উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে জানানো হয়েছে, বুধবার ইরানের নৌবাহিনী তাদের উপকূলে অবস্থিত ‘কাদের’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-কে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
We hate spam as much as you do