Tranding

04:10 AM - 14 Feb 2026

Home / Politics / বঙ্গে সফল' শিল্প ধর্মঘটে চটকল থেকে ব‍্যাঙ্ককর্মীরা ! শ্রমিক সংগঠনের, নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কী?

বঙ্গে সফল' শিল্প ধর্মঘটে চটকল থেকে ব‍্যাঙ্ককর্মীরা ! শ্রমিক সংগঠনের, নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কী?

পরিসংখ্যান তুলে ধরে সিআইটিইউ-র রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু বলেন, চা-বাগানে রক্ষণাবেক্ষণ-সহ প্রায় 65 শতাংশ শ্রমিক অংশ নেন। অধিকাংশ চটকল বন্ধ ছিল, আগে থেকে বন্ধ থাকা মিলগুলির সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে। রানিগঞ্জ-আসানসোলে কয়লা ক্ষেত্রে ‘সর্বাত্মক’ সাড়া, আলট্রা টেকে 100 শতাংশ, অন্য সিমেন্ট কারখানায় প্রায় 40 শতাংশ কর্মী সামিল হন ধর্মঘটে। একইভাবে ইস্পাতের ক্যাপটিভ মাইনসে পূর্ণ অংশগ্রহণ, স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় প্রায় 50 শতাংশ, ব্যাঙ্কে স্টেট ব্যাঙ্ক ছাড়া প্রায় সর্বত্র 100 শতাংশ, এলআইসি-জিআইসি 90 শতাংশ, বিএসএনএল 40 শতাংশ সাড়া পাওয়া গিয়েছে। সেক্টর ফাইভে মিছিল হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ প্রায় 4০ শতাংশ। ইটভাটায় 100 শতাংশ, মুটিয়া মজদুর ও বন্দরে 50 শতাংশ—দ্বিতীয় শিফটে প্রায় পূর্ণ সাড়া।

বঙ্গে সফল' শিল্প ধর্মঘটে চটকল থেকে ব‍্যাঙ্ককর্মীরা ! শ্রমিক সংগঠনের, নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কী?

বঙ্গে সফল' শিল্প ধর্মঘটে চটকল থেকে ব‍্যাঙ্ককর্মীরা ! শ্রমিক সংগঠনের, নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কী?

 February 13, 2026 


চার শ্রম কোড বাতিল-সহ একাধিক দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ধর্মঘট হয়েছে । কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন-সহ একাধিক শ্রমিক সংগঠনের ডাকে দেশ জুড়ে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয় । মাধ্যমিক - উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে বাংলায় শুধুমাত্র কলকারখানা ও পরিষেবায় ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল । বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বিষয়ে সংবাদিক বৈঠক করে ধর্মঘট আহ্বানকারীদের দাবি, "সার্বিক না হলেও সেক্টর ধরে ধরে ধর্মঘট সফল । ছ'হাজারের বেশি জায়গায় পিকেটিং হয়েছে । ব্যাংক, বিমা, চা বাগান, চটকলে ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে । যা গত কয়েকটি ধর্মঘটে দেখা যায়নি ।"

পরিসংখ্যান তুলে ধরে সিআইটিইউ-র রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু বলেন, চা-বাগানে রক্ষণাবেক্ষণ-সহ প্রায় 65 শতাংশ শ্রমিক অংশ নেন। অধিকাংশ চটকল বন্ধ ছিল, আগে থেকে বন্ধ থাকা মিলগুলির সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে। রানিগঞ্জ-আসানসোলে কয়লা ক্ষেত্রে ‘সর্বাত্মক’ সাড়া, আলট্রা টেকে 100 শতাংশ, অন্য সিমেন্ট কারখানায় প্রায় 40 শতাংশ কর্মী সামিল হন ধর্মঘটে। একইভাবে ইস্পাতের ক্যাপটিভ মাইনসে পূর্ণ অংশগ্রহণ, স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় প্রায় 50 শতাংশ, ব্যাঙ্কে স্টেট ব্যাঙ্ক ছাড়া প্রায় সর্বত্র 100 শতাংশ, এলআইসি-জিআইসি 90 শতাংশ, বিএসএনএল 40 শতাংশ সাড়া পাওয়া গিয়েছে। সেক্টর ফাইভে মিছিল হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ প্রায় 4০ শতাংশ। ইটভাটায় 100 শতাংশ, মুটিয়া মজদুর ও বন্দরে 50 শতাংশ—দ্বিতীয় শিফটে প্রায় পূর্ণ সাড়া।

এছাড়াও কলকাতায় পোস্তা-বড়বাজারের বড় অংশ বন্ধ, ঢাকুরিয়া-ভবানীপুরে হকাররা বসেননি। পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে পরিবহণ সচল রাখা হয়, সন্ধ্যা ছ’টা থেকে দশ মিনিট রাস্তায় প্রতীকী প্রতিবাদ ও শ্রম কোডের প্রতিলিপি পোড়ানো হয়েছে।

আইএনটিইউসি সভাপতি কামারুজ্জামান কামার বলেন, “পরীক্ষার কারণে মাইক ছাড়া প্রচার করতে হয়েছে। তবু চা ও চট—রাজ্যের দুই বড় শিল্পে সাড়া আগের চেয়ে বেশি। প্রায় ৬ লক্ষ শ্রমিক এই দুই ক্ষেত্রে কাজ করেন।” সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলমের দাবি, “ভারত আমেরিকার বাণিজ্যিক এই চুক্তি মানব না। শ্রম কোড, বাণিজ্যিক চুক্তি—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ, চা, কৃষি বিপদের মুখে। অস্থায়ীদের স্থায়ী করা, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।" একই সঙ্গে রাজ্যকে নিশানা করে তিনি বলেন, "রাজ্য সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত বিপুল মহার্ঘ ভাতা বকেয়া রেখেছে। কর্মসংস্থান যেটুকু আছে তার কোনও নিরাপত্তা নেই, মর্যাদা নেই। পশ্চিমবঙ্গে শ্রম আইন বলে কিছু নেই ।"

তবে প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, পরীক্ষার দিনে পরিবহণ-সহ জরুরি পরিষেবা সচল থাকায় ‘পূর্ণ প্রভাব’ পড়েনি। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, “এ লড়াই এক দিনের নয়।” ফলে সেক্টরভিত্তিক সাফল্যের এই দাবি ভোটের আগে শ্রমজীবী জনতার মেজাজ কতটা বদলাবে তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে৷

রাজ্যে ধর্মঘটের প্রভাব

আজকের ধর্মঘটে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হুগলি, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, দুর্গাপুর, আসানসোল, হলদিয়া, শিলিগুড়ি, আগরপাড়া, খড়গপুর প্রভৃতি অঞ্চলে বিভিন্ন কারখানা, জুটমিল, চা বাগানে ধর্মঘট প্রায় সর্বাত্মক হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

মালদহে জেলা প্রশাসনিক ভবনের কাছে স্টেট ব্যাঙ্কের জেলা মুখ্য দপ্তরের সামনে পুলিশ এলে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ জোর করে তালা খুলতে চাইলে বাধা দেন ধর্মঘটী কর্মচারীরা। একইভাবে মালদহের বিএসএনদল দপ্তরেও পুলিশ হাজির হলে সেখানে ধর্মঘটী কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়ে যায়।

উত্তরের চা বাগান অধ্যুষিত অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। এই মুহূর্তে একাধিক চা বাগান বন্ধ আছে। যদিও যেসব চা বাগান খোলা আছে সেসব জায়গায় ধর্মঘট প্রায় সর্বাত্মক হয়েছে।  

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে সাধারণ ধর্মঘট এবং শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে কাঁথি পোস্ট অফিসের সামনে শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান ধর্মঘটীরা। জেলার হলদিয়া ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ভালো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

খিদিরপুরের বন্দর এলাকা থেকে হুগলীর শিল্পাঞ্চলে এদিন বন্ধ ছিল কাজ। কলকাতার পোস্তা, বড়বাজার প্রভৃতি এলাকায় মাল ওঠানামার কাজ ব্যাহত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা,  হুগলির চটকল এলাকার কারখানার গেটে গেটে পিকেটিং করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা মিছিল করেন। সংকটমুখী চটকল শ্রমিক বন্ধ কারখানা খোলার দাবী সহ ত্রিপাক্ষিক চুক্তি লাগুর দাবীতে চালু কারখানার শ্রমিক অংশ নেন।

সরকারি বেসরকারি উভয় ব‍্যাঙ্ককর্মীদের কাছে আবেদন করতেই তারা ধর্মঘটে অংশ নেন ও কর্মবিরতি শুরু করেন।
বাগুইআটি স্টেট ব্যাঙ্কের সামনে পিকেটিং করার সময় সিআইটিইউ কর্মীদের উপর পুলিশী হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাম নেতৃত্ব। পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্পাঞ্চলে এদিন বেশ কয়েক হাজার শ্রমিক ধর্মঘটে যোগ দেন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do