জানা গেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টি আয়োজিত পিপলস লিটারেচার ফেস্টিভালে বক্তব্য রাখছিলেন ইতিহাসবিদ হাবিব। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসের কাছে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন স্টেজের পিছন দিক থেকে তাঁর দিকে বালতি ভরা জল এবং নোংরা ছুঁড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরেই দ্রুততার সঙ্গে আয়োজকরা বিষয়টিতে নজর দেন এবং নিজের বক্তব্য শেষ করে তারপর মঞ্চ ছাড়েন হাবিব।
দিল্লীতে ইতিহাসবিদ সৈয়দ ইরফান হাবিব বক্তব্যের সময় আক্রান্ত ; নিন্দার ঝড় দেশজুড়ে
13 Feb 2026,
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান চলাকালীন আক্রান্ত হলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ এস ইরফান হাবিব। অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি তাঁর দিকে বালতি ভরা জল ছুঁড়ে দেয়। যদিও এই ঘটনায় সাময়িকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হলেও নিজের বক্তব্য শেষ করেই অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন প্রবীণ এই ইতিহাসবিদ। এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে দেশের শিক্ষামহলের বড়ো অংশ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে নেটিজেনরা।
জানা গেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টি আয়োজিত পিপলস লিটারেচার ফেস্টিভালে বক্তব্য রাখছিলেন ইতিহাসবিদ হাবিব। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসের কাছে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন স্টেজের পিছন দিক থেকে তাঁর দিকে বালতি ভরা জল এবং নোংরা ছুঁড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরেই দ্রুততার সঙ্গে আয়োজকরা বিষয়টিতে নজর দেন এবং নিজের বক্তব্য শেষ করে তারপর মঞ্চ ছাড়েন হাবিব।
ঘটনা প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের আয়োজক ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA)-র অভিযোগ, খ্যাতনামা ইতিহাসবিদের ওপর এই ঘৃণ্য আক্রমণের ঘটনার পেছনে আছে এবিভিপি সংগঠনের সদস্যরা। যদিও এবিভিপি-র পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে হওয়া এই ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে এস ইরফান হাবিব সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা হরণ সম্পর্কে বক্তব্য রাখার সময় এই হামলা হয়েছে। আসলে এর পিছনে মূল কারণ অসহিষ্ণুতা। তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের করতে তিনি ইচ্ছুক নন। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ আমার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত না হন তাহলে তিনি আমার সঙ্গে সেই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে তা কাম্য নয়।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদ ডঃ রুচিকা শর্মা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “অত্যন্ত জঘন্য যে আজ ইরফান হাবিব সাব-কে তাঁর মনের কথা বলার জন্য আক্রমণ করা হয়েছে। আর এটা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে। যেসব ঐতিহাসিকরা সেখানে গিয়ে ভারতীয় ইতিহাস ও শিক্ষার পক্ষে স্বাধীনভাবে কথা বলেন, তাঁদের পক্ষে আক্রমণ সত্ত্বেও অবিচলভাবে ইরফান সাবের মতো সাহসী হয়ে তাঁর বক্তৃতা চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা এক এক্স বার্তায় জানিয়েছেন, “দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় বক্তব্য রাখার সময় অধ্যাপক এস. ইরফান হাবিবের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে সিপিআই।
বিবৃতিতে রাজা আরও বলেন, “এটি মতবিরোধ বা বিতর্ক নয়, এটি কাপুরুষোচিত ভীতি প্রদর্শন। ধারণার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় ধারণা দিয়ে – হিংসা, হুমকি বা গুন্ডামি দিয়ে নয়। এই ধরনের কাজ দক্ষিণপন্থী শক্তির গভীর নিরাপত্তাহীনতাকে প্রকাশ করে, যারা মুক্ত চিন্তাভাবনা এবং উন্মুক্ত আলোচনাকে ভয় পায়। তাদের সংকীর্ণ এবং অসহিষ্ণু মতাদর্শের কারণে, সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে প্রতিকূল এবং অন্তর্মুখী করে তোলা হচ্ছে, যেখানে প্রশ্নোত্তর এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। শিক্ষা ও জনজীবনে হিংসা বা ভয় দেখানোর কোনও স্থান নেই।”
সিপিআই নেতা জানিয়েছেন, আমরা অধ্যাপক এস. ইরফান হাবিবের সাথে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি এবং আবারও নিশ্চিত করছি যে গণতন্ত্রের জন্য ধারণার অবাধ প্রবাহ অপরিহার্য এবং তাকে থামানো যাবে না।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে তুষার গান্ধী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “জাতীয় রাজধানীতে অধ্যাপক ইরফান হাবিবের উপর হামলার নিন্দা জানাই। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যদি নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস থাকে, তাহলে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বিচার করা উচিত? আমার সন্দেহ আছে।”
ক্যারাভান নিউজ পোর্টালের কনসাল্টিং এডিটর সুশান্ত সিং তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইরফান হাবিব-এর প্রতি সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি, যিনি দক্ষিণপন্থী দুষ্কৃতীদের এই আক্রমণের পরেও বক্তব্য চালিয়ে যান। এবং অবশ্যই, দিল্লি পুলিশ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এই ঘটনা দেখতে পায়নি।
এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি পিপলস রিপোর্টারকে এই ঘটনা সম্পর্কে জানান, "আজ, সংঘ পরিবারের সংগঠনগুলি প্রকাশ্য বিতর্কের ধারণাকেও ভয পায় বলে মনে হচ্ছে। তাদের গণতন্ত্রে বিশ্বাস নেই এবং তারা ভারতকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। এরা প্রতিবাদ, বক্তব্য এবং প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা দমন করার চেষ্টা করছে। যেহেতু তারা ক্রমাগত ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে, তাই প্রকৃত ইতিহাসবিদদের ভয় পায়; এই ভয়ই তাদের এই ধরনের আক্রমণ চালাতে পরিচালিত করে।
এটা বোঝা যাচ্ছে যে নতুন ইউজিসি ইক্যুইটি বিলও এই অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিল। তারা মনুস্মৃতির আদর্শ অনুসরণ করে চলেছে, যা ক্যাম্পাসগুলিতে বর্ণ বৈষম্যকে উৎসাহিত করে এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণী এবং দলিত সম্প্রদায়কে সহ-মানব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। এই কারণেই তারা বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা ইতিহাসবিদ এবং ছাত্র সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। ভারতের সমস্ত ক্যাম্পাস জুড়ে এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।"
We hate spam as much as you do