এই মঞ্চ থেকেই রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সমালোচনা করেন সেলিম। কেরলের ‘কুটুম্বশ্রী’ প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ‘শ্রী’ প্রকল্প আসলে তার অনুকরণ। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, মহিলাদের প্রকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে নির্বাচনের আগে ভাতা বাড়ানো হচ্ছে শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতির জন্য।
মহিলাদের ভাতা অনুগ্রহ নয় অধিকার, ক্ষমতায় এলে ‘আরও বেশি ভাতা’ প্রতিশ্রুতি সেলিমের —
23 ফেব্রুয়ারি, 2026
বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের আর্থিক ভাতা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যা। লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতা বৃদ্ধি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখনই নতুন প্রতিশ্রুতি দিল সিপিএম। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানালেন, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে বর্তমানের তুলনায় আরও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে—তবে তা ‘অনুগ্রহ’ নয়, মহিলাদের অধিকার হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করা হবে। নির্বাচনের মুখে এই ঘোষণায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন সেলিম। সেখানে বৃন্দা কারাতের লেখা ‘রীতা হয়ে ওঠা’ বইয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহিলাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিপিএম নেতা। তাঁর দাবি, স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে, যার ফলে অল্প বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের প্রবণতা বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় স্কুল ও কলেজপড়ুয়া মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহণ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
এই মঞ্চ থেকেই রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সমালোচনা করেন সেলিম। কেরলের ‘কুটুম্বশ্রী’ প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ‘শ্রী’ প্রকল্প আসলে তার অনুকরণ। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, মহিলাদের প্রকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে নির্বাচনের আগে ভাতা বাড়ানো হচ্ছে শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতির জন্য।
তৃণমূল ও বিজেপি—দুই দলকেই একসঙ্গে আক্রমণ করে সেলিম বলেন, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সামাজিক নিরাপত্তার সংকটের মধ্যে সামান্য ভাতা দিয়ে মানুষের মন ভোলানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “৫০০ বা ১০০০ টাকা অনুগ্রহ নয়, এটা অধিকার হওয়া উচিত।” দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে আরও বেশি ভাতা দেওয়া সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, বামপন্থীরা ইতিমধ্যেই সমীক্ষা করে দেখেছে বহু মহিলা এখনও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বিজেপির বিরুদ্ধে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ প্রসঙ্গেও সরব হন সেলিম। তাঁর দাবি, ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে—একদিকে আতঙ্ক তৈরি করা, অন্যদিকে নিজেকে রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরা—এই রাজনীতির বিরুদ্ধেই লড়াই করবে বামপন্থীরা।
We hate spam as much as you do