নতুন এই দুর্ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন তেজস Mk1A মডেলের ডেলিভারিতেও দেরি হচ্ছে। প্রায় দু’ বছর পিছিয়ে আছে প্রকল্প। ইতিমধ্যেই ১৮০টি Mk1A অর্ডার করেছিল বায়ুসেনা। গত সেপ্টেম্বরেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আরও ৯৭টি তেজস Mk1A কেনার চুক্তি করেছে, যার মূল্য প্রায় ৬২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এই মডেলটি আকাশ প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং বিভিন্ন স্ট্রাইক মিশনে ব্যবহারের উপযোগী।
সামান্য প্রযুক্তি সমস্যায় আবার ভেঙে পড়ল 'দেশের গর্ব তেজস' প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা, IAF চুপ
23 February 2026
কয়েকমাস আগে দুবাইয়ে এয়ার শো চলাকালীন তেজস দুর্ঘটনায় এক পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। সেই দুর্ঘটনা ভারতের নিজস্ব এই যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল। এরমধ্যেই ফের তেজস এলসিএ (Tejas Light Combat Aircraft) নিয়ে বিপত্তি (Tejas Accident)। পাইলট সুরক্ষিতভাবে বেরিয়ে আসতে পারলেও বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটিকে হয়তো বাতিল করতে হবে।
ঘটনাটি ঘটেছে চলতি মাসের শুরুতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেসে (Airbase)। পাইলট সুরক্ষিতভাবে বেরিয়ে আসতে পারলেও বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটিকে হয়তো বাতিল করতে হবে। প্রাথমিম তদন্তে অনুমান, বিমানের (Tejas Light Combat Aircraft) কোনও অনবোর্ড সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে ঠিক কোন অংশে সমস্যা হয়েছিল, তা খুঁটিয়ে দেখছে বিশেষজ্ঞের দল।
বায়ুসেনার (Indian Air Force) হাতে বর্তমানে ৩০টি এক আসন বিশিষ্ট তেজস বিমান (30 single-seat Tejas jets) রয়েছে। দুর্ঘটনার পর কোনওটিতে প্রযুক্তিগত কোনও ত্রুটি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে বলে সূত্রের খবর।
এই নিয়ে তৃতীয়বার তেজস-দুর্ঘটনা (Third Tejas aircraft lost)
মার্চ ২০২৪, জয়সলমিরের কাছে আগেও একটি তেজস ভেঙে পড়েছিল। পাইলট সেবারও ইজেক্ট করে বেঁচে যান।
নভেম্বর ২০২৫, দুবাই এয়ারশো-তে অ্যারোবেটিক প্রদর্শনের সময় ভেঙে পড়ে আরেকটি তেজস, যেখানে উইং কম্যান্ডার নমনশ সিয়াল মারা যান। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
নতুন এই দুর্ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন তেজস Mk1A মডেলের ডেলিভারিতেও দেরি হচ্ছে। প্রায় দু’ বছর পিছিয়ে আছে প্রকল্প। ইতিমধ্যেই ১৮০টি Mk1A অর্ডার করেছিল বায়ুসেনা। গত সেপ্টেম্বরেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আরও ৯৭টি তেজস Mk1A কেনার চুক্তি করেছে, যার মূল্য প্রায় ৬২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এই মডেলটি আকাশ প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং বিভিন্ন স্ট্রাইক মিশনে ব্যবহারের উপযোগী।
তবে সর্বশেষ দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেয়নি IAF। দুবাই-এর দুর্ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও সামনে এসেছিল, যেখানে দেখা যায় বিমানটি মাটিতে পড়েই আগুনে পুড়ে যায়। পাইলট চেষ্টা করেও সময় কম থাকায় ইজেক্ট করতে পারেননি।
বর্তমান ঘটনায় পাইলটের বেঁচে যাওয়া স্বস্তির হলেও, পরপর দুর্ঘটনা তেজসের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে, কী ত্রুটি ছিল, এবং কীভাবে তা ঠিক করা হবে।
তেজস যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনাকে বেশি 'গুরুত্ব' না দিয়ে নির্মাণ সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) দাবি করল, সাম্প্রতিক ঘটনাটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, সামান্য প্রযুক্তিগত গোলযোগ মাত্র। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সঙ্গে যৌথভাবে বিশদ পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থা জানায়, তেজস (Tejas Fighter Jet) সমসাময়িক যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে অন্যতম সুরক্ষিত। যে ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা উড়ানের সময় নয়, ভূমিতে ঘটে। নিয়ম মেনে কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এর আগে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, চলতি মাসের ৭ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ শেষে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে যায় তেজস। সন্দেহ করা হয়, ব্রেক ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ফলে বিমানের কাঠামোয় বড়সড় ক্ষতি হয়েছে। যদিও ঘটনাস্থল প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাইলট সময়মতো বেরিয়ে এসে অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান।
এই ঘটনার পর আপাতত ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে থাকা প্রায় ৩০টি এক আসনের তেজসকে উড়ান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে ব্যবহার করা হবে না বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে অনবোর্ড ব্যবস্থার কোনও অংশে ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে।
২০১৫ সালে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পর এটি তেজস ঘিরে তৃতীয় বড় ঘটনা। ২০২৪ সালের মার্চে জয়সালমেরের কাছে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুবাইয়ের এক আকাশ প্রদর্শনীতে আর এক ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়।
তেজস নির্মাণ করে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড। এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই বহুমুখী যুদ্ধবিমান উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আকাশসীমায় প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি ও আক্রমণ অভিযানে সক্ষম।
বর্তমান ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। যদিও সংস্থার বক্তব্য, নিয়মমাফিক তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে প্রকৃত কারণ। ততদিন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই উড়ান স্থগিত রাখা হয়েছে।
We hate spam as much as you do