আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান বলছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও আস্থার সংকট দূর করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, ইসলামাবাদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা শুরু, নেপথ্যে চীন পরামর্শদাতা?
এপ্রিল ১১, ২০২৬
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি কূটনৈতিক সংলাপ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের শত্রুতা ও আস্থাহীনতার পর এই আলোচনায় দুই পক্ষ সংকট নিরসনের সম্ভাব্য পথ খুঁজছে।
বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন উভয় দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়া।
আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান বলছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও আস্থার সংকট দূর করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, ইসলামাবাদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে এই আলোচনা একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। তবে বাস্তব অগ্রগতি কতটা হবে, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
বিশ্বজুড়ে এখন নজর ইসলামাবাদের আলোচনার দিকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, তা নিয়েই অপেক্ষা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
সারা বিশ্বের নজর পাকিস্তানে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৩০০ সদস্যের প্রতিনিধি দল
সারা বিশ্বের নজর পাকিস্তানে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৩০০ সদস্যের প্রতিনিধি দল
সর্বশেষজনপ্রিয়
স্থায়ী সমাধানে চীন ‘কী ফ্যাক্টর’?
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় চীন হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘গ্যারান্টর’। কারণ ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা শক্তির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না এবং এমন একটি পক্ষ চায়, যাকে তারা নিরপেক্ষ ও প্রভাবশালী মনে করে।
রাশিয়াও একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারত, কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। ফলে চীনই বর্তমানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে।
চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এই প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। ‘আয়রনক্ল্যাড ব্রাদার’ হিসেবে পরিচিত দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রেখে চলেছে।
চীন ইতোমধ্যে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গেও তাদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দুই পক্ষের সঙ্গে সমানভাবে যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে বেইজিং একটি বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জ
তবে এই আলোচনা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন ইস্যু, এসব বিষয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষ করে লেবানন নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট। পাকিস্তান ও ইরান যেখানে যুদ্ধবিরতির আওতায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, সেখানে ইসরায়েল তা মানতে নারাজ এবং হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘কঠিন পথচলা’ সামনে
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।
এদিকে, চীন প্রকাশ্যে খুব বেশি ভূমিকা নিতে না চাইলেও পর্দার আড়ালে তাদের সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন এবং বিশেষ দূত যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে নিয়মিত সফর করছেন।
We hate spam as much as you do