ময়ূখের বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রীর এলাকায় শিক্ষা ব্রাত্য। প্রাচ্যবাণী স্কুল ফর বয়েজ স্কুলটা আবর্জনা ফেলার ভ্যাট-এ রূপান্তরিত হয়েছে ৷ শিক্ষা এখন জঞ্জালের আস্তাকুঁড় ৷ এটাই এই সময় শিক্ষা ব্যবস্থার একটা নমুনা, তৃণমূল সরকার শিক্ষাটাকে নিয়ে কতটা ভেবেছে ৷ শিক্ষামন্ত্রী ঠিকমতো ভাবলে এই দমদম বিধানসভা কেন্দ্র শিক্ষার হাব হয়ে উঠতে পারত ৷
দমদমের লড়াইএ বাম তরুন ময়ূখ বনাম ব্রাত্য বসু, পুরানো বাম ঘাঁটি ফেরা অসম্ভব নয়।
২২ এপ্রিল ২০২৬
দমদম বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন বাম প্রার্থী প্রাক্তন ছাত্র নেতা ময়ূখ বিশ্বাস ৷
একসময় সিপিএমের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল দমদম ৷ লোকসভার পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনে বারবার জিতেছেন সিপিএম প্রার্থীরা ৷ কিন্তু তার মধ্যেও ২০০১ সালে এই কেন্দ্রে জেতেন তৃণমূল প্রার্থী আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ ৷ পরের বার ২০০৬ সালে অবশ্য কেন্দ্রটি নিজেদের দখলে নেন সিপিএমের রেখা গোস্বামী ৷ পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে দমদমে ফের ঘাসফুল ফোটান ব্রাত্য বসু ৷ সেই থেকে একটানা ১৫ বছর কেন্দ্রটি তৃণমূল শাসনাধীন ৷
এবার বিধানসভায় চতুর্থবার তৃণমূলের প্রার্থী ব্রাত্য বসু ৷ তাঁর বিরুদ্ধে এবার লড়ছেন সিপিএম প্রার্থী ময়ূখ বিশ্বাস, বিজেপির অরিজিৎ বক্সি এবং কংগ্রেসের সুস্মিতা বিশ্বাস ৷ সিপিআইএমের তরুণ মুখ প্রেসিডেন্সির এই প্রাক্তনী SFI এর প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস ৷ ব্রাত্যকে কঠিন লড়াই দিতে প্রস্তুত ময়ূখ ৷ 'ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত' থেকে দমদমকে বের করে নিয়ে আসতে চান তিনি ৷
ময়ূখের বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রীর এলাকায় শিক্ষা ব্রাত্য। প্রাচ্যবাণী স্কুল ফর বয়েজ স্কুলটা আবর্জনা ফেলার ভ্যাট-এ রূপান্তরিত হয়েছে ৷ শিক্ষা এখন জঞ্জালের আস্তাকুঁড় ৷ এটাই এই সময় শিক্ষা ব্যবস্থার একটা নমুনা, তৃণমূল সরকার শিক্ষাটাকে নিয়ে কতটা ভেবেছে ৷ শিক্ষামন্ত্রী ঠিকমতো ভাবলে এই দমদম বিধানসভা কেন্দ্র শিক্ষার হাব হয়ে উঠতে পারত ৷ দমদমে মতিঝিল কমার্স, মতিঝিল সায়েন্স কলেজ রয়েছে ৷ ভালো ভালো কলেজের সঙ্গে মেধার লড়াই হত ৷ এখন সেগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে ৷ দশটার বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৷ মতিলাল কলোনি স্কুল, স্বর্ণ বাণী স্কুল, উদ্বাস্তু এলাকার স্কুলগুলো বহু লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তৈরি করেছিল বামফ্রন্ট সরকার ৷ সেই স্কুলগুলি বন্ধ করে দিয়েছে ৷ গোটা দমদমের শিক্ষাই ব্রাত্য হয়ে গেছে সেখানকার অন্যান্য পরিস্থিতি কি হতে পারে ৷ নিকাশি, রাস্তাঘাট, যানজট, বায়ুদূষণ লোকের চাকরি-বাকরি ভয়ঙ্কর আকারে দুর্নীতি, এই নানা সমস্যায় মানুষ জর্জরিত ৷ এর সঙ্গে রয়েছে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ৷ চার ফুট প্রশস্ত রাস্তায় ১১ তলা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ৷ ইমারতী ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও প্রাণ ওষ্ঠাগত।শাসকদলের বড় থেকে ছোটখাটো নেতাদের যে পরিমাণ টাকা দিতে হচ্ছে, তাতে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না ৷
দমদমের প্রায় প্রতিটি অলিগলির মুখে প্রচুর ই-রিক্সা, টোটো, অটো দাঁড়িয়ে থাকে ৷ শুধু দমদমের ছবি নয়, রাজ্যজুড়ে শহরতলির ছবি ৷ মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র খুব সংকুচিত হয়ে গিয়েছে, তাই বিকল্প হিসেবে এই কাজগুলি করছেন তাঁরা। করোনার পর রাজ্যের বাইরে যাঁরা কাজ করতেন তাঁদের একটা বড় অংশ ফিরে এসেছেন ৷ তাঁদের অনেকে এই ধরনের কাজ করছেন ৷
এদিকে টোটো-সহ ই-রিক্সার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিপুল টাকা প্রয়োজন ৷
একসময় এখানে প্রচুর শিল্প-কলকারখানা ছিল ৷ সেই ছবিটা ক্রমশ বদলেছে ৷ শুধু তৃণমূল জমানা নয়, বাম জামানার শেষ দিক থেকে এটা হয়েছে ৷
শিল্প কল কারখানা বিষয়ে ময়ূখের বক্তব্য ২০১১ সালের পর থেকে বেশি অবস্থা খারাপ হয়েছে ৷ এইচএমভি উঠে গিয়েছে ৷ বাম জামানায় দমদম থেকে অনতিদূরে সেক্টর ফাইভ হয়েছে ৷ নিউটাউন হয়েছে ৷ এরপর একটাও সেক্টর সিক্স তৈরি হয় নি। একটা ইনফোসিস উইপ্রোর মতো কোম্পানি আসেনি। কেন্দ্রীয় সরকার নীতির জন্যই জেসপের এই অবস্থা ৷ জেসপের মালপত্র চুরি হয়েছে। বর্তমান শাসকদলের নেতা আর পুলিশের কর্তারা সব চুপচাপ দেখেছেন ৷ দমদম বা তার আশপাশের এলাকায় বর্ষাকালের শেষদিকে ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব ও পানীয় জল থেকে জন্ডিসের সমস্যাও বিরাট।
বিজেপি এই কেন্দ্রে সেরকম প্রাসঙ্গিক নয়। প্রার্থীর পরিচিতিও কম।
বামেদের ময়ূখ বিশ্বাস 'একুশে রাম, ছাব্বিশে বাম' তত্ত্বে বিশ্বাসী ভোটারদের ফেরাতে পারলে, তবে দমদমে বামেরা বড়সড় দাগ কাটতে পারবে। বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এলাকায় ময়ূখ অ্যাডভান্টেজ পেতে পারেন।
ময়ূখের বক্তব্য দমদমে ২০১৬ সাল থেকে মানুষ একটা বড় অংশ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। হুমকি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে এবছর এটা না হলে বাম প্রার্থী ময়ূখ বিশ্বাসের জয় অসম্ভব নয়।
We hate spam as much as you do