২০ এপ্রিল মুখ্য় নির্বাচন কমিশনারকে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, দূরদর্শন, সংসদ টিভি এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও-র মতো সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্প্রচারিত ওই ভাষণ আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছে। সরকারি প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে এহেন ভাষণ আসলে নির্বাচনী প্রচার এবং পক্ষপাতদুষ্ট ভাষ্য।
সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে মোদিজীর দলীয় প্রচার , নির্বাচন কমিশনকে বিশিষ্টদের চিঠি
21 Apr 2026
জাতির উদ্দেশে ভাষণে আগাগোড়া বিরোধীদের আক্রমণ। সেই নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেন ৭০০-র বেশি নেতা, সমাজকর্মী, প্রাক্তন আমলা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক রাজ্যে নির্বাচন উপলক্ষ্যে জারি আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন মোদি। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক এবং সেই মতো পদক্ষেপ করা হোক।
২০ এপ্রিল মুখ্য় নির্বাচন কমিশনারকে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, দূরদর্শন, সংসদ টিভি এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও-র মতো সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্প্রচারিত ওই ভাষণ আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছে। সরকারি প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে এহেন ভাষণ আসলে নির্বাচনী প্রচার এবং পক্ষপাতদুষ্ট ভাষ্য।
অসম, কেরল, পুদুচ্চেরীর মতো রাজ্যগুলিতে গত ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয়েছে। তামিলনাড়ুতে ২৩ এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ রয়েছে। ভোটগণনা হবে আগামী ৪ এপ্রিল। সেই মতো আদর্শ আচরণ বিধি বলবৎ রয়েছে। সেই আবহেই সংসদে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করা মহিলা সংরক্ষণ বিলে সমর্থন না জানানোর জন্য জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিরোধীদের তুলোধনা করেন মোদি। বিরোধীদের মহিলা বিরোধী, নারী বিদ্বেষী বলে আক্রমণ করেন।
সেই নিয়ে কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারি টাকায় পরিচালিত গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দল ‘অন্যায় সুবিধা’ ভোগ করছে। সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এতে। আদর্শ আচরণ বিধির উল্লেখ করে চিঠিতে লেখা হয়েছে, সরকারি কাজকর্মের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারকে মিশিয়ে ফেলা এবং দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করতে সরকারি মাধ্যমকে ব্যবহার না করার বিধান রয়েছে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত কমিশনের এবং সেই মতো পদক্ষেপ করা উচিত।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, মোদির ভাষণ প্রচারের জন্য যদি আগে থেকে অনুমতি নেওয়া হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সরকারি মাধ্যমকে ব্য়বহার করে প্রচারের জন্য একই সময় বরাদ্দ করা হোক অন্য রাজনৈতিক দলগুলির জন্যও। ওই চিঠিতে সই করেছেন দিল্লির প্রাক্তন উপরাজ্য়পাল নাজীব জং, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ তথা কেন্দ্রীয় নির্মলা সীতারামনের স্বামী পরাকল প্রভাকর, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, অর্থনীতিবিদ জয়তী ধোষ, সঙ্গীতশিল্পী তথা সাহিত্যিক টিএম কৃষ্ণ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মা, সমাজকর্মী হর্ষ মন্দার, সাংবাদিক পরাঞ্জয় গুহঠাকুরতা, শিক্ষাবিদ জোয়া হাসান, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মধু ভাদুড়ি, সমাজকর্মী অঞ্জলী ভরদ্বাজ, প্রাক্তন আমলা আশিস জোশী, অমিতাভ পান্ডে, অভয় শুক্ল, সাংবাদিক জন দয়াল, বিদ্যা সুব্রহ্মণ্যন, CPI নেতা অ্যানি রাজা এবং আরও শিক্ষাবিদ, আইনজীবীরা।
বিষয়টি নিয়ে গোড়া থেকেই মোদির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বিভিন্ন দল। দূরদর্শনকে ব্যবহার করে ‘মোদিদর্শন’ চলছে বলে অভিযোগ তোলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে কখনও কোনও প্রধানমন্ত্রীকে এহেন আচরণ করতে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন সাংসদ কপিল সিব্বল। এমনকি সব দেখেও যেভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে নির্বাচন কমিশন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই আবহেই অভিযোগ জমা পড়ল নির্বাচন কমিশনের কাছে।
We hate spam as much as you do