আয়োজকদের তথ্যমতে, ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোয় ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল। নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরে বড় সমাবেশ হলেও মোট কর্মসূচির দুই-তৃতীয়াংশই ছোট শহর ও কমিউনিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের প্রথম আয়োজনের তুলনায় যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
End wars..Trump must go. ট্রাম্প বিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
সোমবার ৩০ মার্চ ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে তৃতীয় দফার ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি, ইরান যুদ্ধ ও অন্যান্য নীতির প্রতিবাদে হাজারো শহরে রাস্তায় নেমেছেন লাখো বিক্ষোভকারী। খবর রয়টার্স।
আয়োজকদের তথ্যমতে, ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোয় ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল। নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরে বড় সমাবেশ হলেও মোট কর্মসূচির দুই-তৃতীয়াংশই ছোট শহর ও কমিউনিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের প্রথম আয়োজনের তুলনায় যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং ঘিরে ফেলে হাজারো বিক্ষোভকারী। এক পর্যায়ে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের কথা জানিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ।
মিনেসোটার সেন্ট পল অঙ্গরাজ্য ক্যাপিটলের সামনে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে চলতি বছরে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক রেনি গুড ও অ্যালেক্স পেট্টির ছবি সংবলিত পোস্টার প্রদর্শন করে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা আমাদের কট্টরপন্থী বলে। আমরা সহমর্মিতা, শালীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কট্টর এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, আমরা এ দেশকে স্বৈরতন্ত্র বা অলিগার্কিতে পরিণত হতে দেব না। জনগণই শাসন করবে। অন্যদিকে ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটি এসব বিক্ষোভকে ‘হেট আমেরিকা র্যালি’ আখ্যা দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেছে।
নিউইয়র্কে ম্যানহাটানে এদিন প্রায় লাখো মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখানে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজকদের একজন ছিলেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের আগে আর কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এতটা অস্তিত্বের সংকটে ফেলেননি।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে বিক্ষোভকারীরা গণতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দেন।
মেরিল্যান্ডের শেভি চেজ এলাকায় বৃদ্ধদের একটি দল হুইলচেয়ারে বসে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’, ‘গণতন্ত্র চাইলে আওয়াজ তুলুন’, ‘ট্রাম্পকে বিদায় দিন’।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ বিক্ষোভ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। যা তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন।
২০২৫ সালের ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিনে প্রথম ‘নো কিংস’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় ২ হাজার ১০০টির বেশি স্থানে প্রায় ৪০-৬০ লাখ মানুষ অংশ নেয়। অক্টোবরে দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ আয়োজনে ২ হাজার ৭০০টির বেশি শহরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করে। এবারের তৃতীয় দফা বিক্ষোভ ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চার সপ্তাহের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
We hate spam as much as you do