এবারের ২০২৬ এর ভোটে কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিশেষ কোনো ফ্যাক্টরই নয়। বিজেপি প্রার্থী অরূপ চৌধুরীকে নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, বিজেপির একাংশ প্রার্থীর বিরোধিতা করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আদি বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, অরূপ চৌধুরী প্রার্থী বাছাইয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
কামারহাটির দ্বিমুখী লড়াইয়ে, বামপ্রার্থী মানসবাবু জিতছেন টিএমসি মদন মিত্রের বিরুদ্ধে
18 এপ্রিল 2026
এবারের বিধানসভার নির্বাচনে যে কয়টি আসন বামফ্রন্টের পক্ষে আসবে বলে মনে হচ্ছে তার মধ্যে অবশ্যই উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ। এই বিধানসভায় লড়াইটা মূলত দ্বিমুখী। বর্তমান বিধায়ক তৃণমূলের পরিচিত মুখ মদন মিত্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখানকার সর্বজন পরিচিত এই সময়কালে রীতিমত প্রভাবশালী ১৫ বছরের বিধায়ক সিপিএমের মানস মুখোপাধ্যায়।
২০২৬-এ আসন হারাবে তৃণমূল? বহু পরিচিত এবং পরীক্ষিত বামফ্রন্ট প্রার্থী জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এখানে সিপিএম ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৯.৬২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ২৩.২৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এই আসনে। অন্যদিকে, বিজেপি ২০২১ সালে ২৪.৫০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ১৩.২০ শতাংশ ভোট পায় । বামফ্রন্টের এবারের পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ তৃণমূলের ভোট কেটে বিজেপির দিকে ঝুঁকতে পারে।
এবারের ২০২৬ এর ভোটে কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিশেষ কোনো ফ্যাক্টরই নয়। বিজেপি প্রার্থী অরূপ চৌধুরীকে নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবর সামনে এসেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, বিজেপির একাংশ প্রার্থীর বিরোধিতা করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আদি বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, অরূপ চৌধুরী প্রার্থী বাছাইয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে দলের পুরনো কর্মীদের উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে। এই বিরাট অংশের ভোট এবার মানস মুখার্জীর পক্ষে যেতে পারে।
অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মদন মিত্রের বিরুদ্ধে কামারহাটিতে কিছুটা হলেও অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া আছে, যা মানস মুখার্জীর পক্ষে যেতে পারে।
২০১৬ সালে তৃণমূলের শাসনের মধ্যগগনে লালঝান্ডা এখানে জয়ী হয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে এলাকায় সিপিএম-এর একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে। বাম ও অন্যান্য বিরোধী ভোট একত্রিত হলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া কামারহাটিতে পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি ও অন্যান্য ইস্যু সামনে এনে মানস মুখার্জী তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, যার ফলে বিরোধীদের ভোট তাঁর দিকে আসবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মদন মিত্রকে পরাজিত করেছিলেন মানস মুখোপাধ্যায়। ফলে কামারহাটিতে এবারের লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। নির্বাচনী প্রচারে নেমে একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন দুই প্রার্থী। মানস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘চোখে চোখ রেখে লড়াই কী হয়, সেটা এবার বুঝবে। তবে চোখে চোখ রেখে লড়াই মানে মস্তানদের দিয়ে ভোট করানো বা ভোট লুঠ করা নয়। কেউ যদি ভোট লুঠ করতে আসে, তা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। ২০১৬ সালে আমি মদন মিত্রকে হারিয়েছি। তৃণমূলের মিছিলে যারা থাকবে, তারাও আমাদেরই ভোট দেবে।’
We hate spam as much as you do