Tranding

10:09 PM - 06 May 2026

Home / Sports / সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পনাই চীনের অলিম্পিকের বিরাট সাফল্য এনেছে

সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পনাই চীনের অলিম্পিকের বিরাট সাফল্য এনেছে

উপযুক্তদের নির্দিষ্ট করে এইসব বাচ্চাদের ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তোলার জন্য শুরু হয় দেশ জুড়ে স্পোর্টস আকাদেমি। দশ বছর আগে যার সংখ্যা ছিল ৩০০, এখন গোটা চিন জুড়ে এই স্পোর্টস আকাদেমির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দু হাজার।

সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পনাই  চীনের অলিম্পিকের বিরাট সাফল্য এনেছে

 সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পনাই  চীনের অলিম্পিকের বিরাট সাফল্য এনেছে

ব্রাজিলের রিওতে সেখানে ২৬ টি সোনা পেয়েছিল তাঁরা, এবার সেই সংখ্যা গিয়ে পৌঁছেছে ৩৮। 

টোকিও অলিম্পিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কান ঘেষে ৩৮ টি সোনা সহ মোট ৮৮ টি পদক পায় চিন। রিও অলিম্পিকের থেকে অনেক বেশি সাফল্য পেয়েছে চিন। ব্রাজিলে সেখানে ২৬ টি সোনা পেয়েছিল তাঁরা, এবার সেই সংখ্যা গিয়ে পৌঁছেছে ৩৮। পৃথিবীর বৃহত্তম জনসংখ্যার সমাজতান্ত্রিক সরকার যেভাবে ক্রীড়াক্ষেত্রে নজর এবং বিনিয়োগ করেছে তা একমাত্র সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতেই সম্ভব।
চিনে সেই ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকের দু বছর আগে থেকেই সরকার কেন্দ্রীয় নীতি গ্রহণ করে।

প্রথমে দেশ জুড়ে ৩ থেকে শুরু করে ৫ বছরের শিশুদের বেছে নেওয়ার জন্য বিশেষ স্পটার নিয়োগ করা হয়। উপযুক্তদের নির্দিষ্ট করে এইসব বাচ্চাদের ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তোলার জন্য শুরু হয় দেশ জুড়ে স্পোর্টস আকাদেমি। দশ বছর আগে যার সংখ্যা ছিল ৩০০, এখন গোটা চিন জুড়ে এই স্পোর্টস আকাদেমির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দু হাজার। সেন্ট্রালাইজড ট্রেনিং প্রোগ্রাম শুরু হয় দেশ জুড়ে। বিশাল পরিমাণ আর্থিক ফান্ড ব্যয় করে সরকার।

ছোট থেকেই অ্যাথলিটদের সবরকম দায়িত্ব সরকার নিয়ে নেয়। ব্যক্তিগত কোচ থেকে শুরু করে বিদেশে ট্রেনিং, আধুনিক যন্ত্রপাতি - এক পয়সাও খরচ নেই অ্যাথলিটদের। বিশ্বে কোনও দেশে অ্যাথলিটদের ২০০ দিনের বেশি ট্রেনিং প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু চিন একমাত্র দেশ যেখানে অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি অ্যাথলিটকে ৩৫০ দিন বাধ্যতামূলক ট্রেনিং করতে হয়। ব
 এটাকে বলা হয় স্ট্রাকচার্ড ট্রেনিং মেথড।


চিন সোনা রূপো ব্রোঞ্জ জয়ী অ্যাথলিটদের বিরাট গুরুত্ব দেয়, সরকারের লক্ষ্য থাকে যত বেশি সংখ্যক  পদক আনা যায় দেশে। এর ফলে বহির্বিশ্বকে বার্তা দেওয়া যায় জাতি হিসেবে চিন কতটা এগিয়ে এবং দেশের জিডিপি তৈরির ক্ষেত্রে সোনা জয়ী অ্যাথলিটদের গুরুত্ব থাকে। চিনা সরকার মনে করে দেশ হিসেবে সুপারপাওয়ার হয়ে উঠতে গেলে বেশি সংখ্যক পদক জয় প্রয়োজন।

আর অবশ্যই আমেরিকা, জাপান, গ্রেট ব্রিটেনের আধিপত্য খর্ব করার ইচ্ছা বরাবর রয়েছে তাঁদের। সম্প্রতি কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান সাঁতারের কোচ জানিয়েছেন চিনা সাঁতারুদের ট্রেনিং দেওয়ার জন্য তাঁদের যে পরিমাণ অর্থ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা বাকি দেশের তুলনায় তিনগুণ। ব্যাডমিন্টন, টেবল টেনিস, জিমনাস্টিক - এই তিনটি ক্ষেত্রে চিন বরাবর এগিয়ে।

কিন্তু এবার অবাক করে দিয়ে সাঁতার, ভারোত্তোলন, ফেন্সিং এবং রোয়িং চমক দিয়েছে চিন। দেশের হয়ে স্বর্ণপদক আনা অ্যাথলিটদের সারা জীবন সরকার দেখাশোনা করে। সমস্ত খেলোয়াড়দের সারাজীবনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চীনকে এতবড় সাফল্য এনে দিল। 

Your Opinion

We hate spam as much as you do