গত বছর ডিসেম্বর মাসে মণিপুরে পাশ্ববর্তী নাগাল্যান্ডের মন জেলায় সেনাবাহিনীর গুলিতে ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। গ্রামবাসীদের মৃত্যুর পর নাগাল্যান্ড জুড়ে আফস্পা বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠছিল। আফস্পার আঁচ পার্শ্ববর্তী নাগাল্যান্ডেও পড়েছিল
মণিপুর , উত্তরাখন্ডে সরকার গঠনের পথে বিজেপি
মনিপুরে এবারের ভোটে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং জানিয়েছিলেন, একার ক্ষমতায় মণিপুরের সরকার গঠন করবে বিজেপি।
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ নিয়ে মানুষের উন্মাদনা চরমে থাকলেও উত্তর পূর্ব ভারতের যে একটি রাজ্যে এবার ভোট হয়েছিল, তার ওপরও বিশেষ নজর রেখেছিল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মণিপুরের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে এই পাহাড়ি রাজ্যের বেশিরভাগ নাগরিকই বিজেপির ওপর আস্থা রেখেছে। গতবার মণিপুর বিধানসভা নির্বাচনে কনরাড সাংমার ন্যাশানাল পিপলস পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি, তবে হঠাৎ করেই এনপিপি বিধায়করা সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার কথা জানিয়ছিলেন। পরে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে তার সরকারকে আবার সমর্থন করতে রাজি হয়।
গতবারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবারের ভোটে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং জানিয়েছিলেন, একার ক্ষমতায় মণিপুরের সরকার গঠন করবে বিজেপি। ভোটের ফলে বিজেপি সবথেকে বড় দল হিসেবে সামনে উঠে এসেছে। সন্ধে ৬ টা ৩০ মিনিট ৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভায় ৩২ টি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ৭ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এনপিএফ ৬ টি, এনপিইপি ৯ টি ও অন্যান্যরা ৬ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং ইতিমধ্যেই জিতে গিয়েছেন।
এবারের মণিপুর জয় বিজেপির জন্য এতটা সহজ ছিল না। গত বছর ডিসেম্বর মাসে মণিপুরে পাশ্ববর্তী নাগাল্যান্ডের মন জেলায় সেনাবাহিনীর গুলিতে ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। গ্রামবাসীদের মৃত্যুর পর নাগাল্যান্ড জুড়ে আফস্পা বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠছিল। আফস্পার আঁচ পার্শ্ববর্তী নাগাল্যান্ডেও পড়েছিল। বিধানসভা ভোটের প্রচারে ক্ষমতায় ফিরলে কংগ্রেস মণিপুর থেকে আফস্পা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিজেপির স্থানীয় নেতারা আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিকে সমর্থন করলেও তাদের পক্ষে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করাও সম্ভব ছিল না। তা সত্ত্বেও মণিপুরের সাধারণ মানুষ বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে রায় দিল।
উত্তরাখণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনের ফল নিয়ে দু’টি সম্ভাবনার কথা ভেবে নেওয়া হয়েছিল— এক, কোনও দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে উত্তরের এই রাজ্য ত্রিশঙ্কু ফলাফল হতে চলেছে। ক্ষমতার দখল নিতে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর হবে দুই প্রধান দল কংগ্রেস এবং বিজেপির। দুই, পাঁচ বছর অন্তর ক্ষমতাবদলের ‘ট্রেন্ড’ বা ধারা মেনে এ বার ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে কংগ্রেস।
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদলের
পুরনো ছকে বাঁধা ধারাবাহিকতায় কিছুটা আশা দেখেছিল কংগ্রেস। কিন্তু বাস্তবে হল উল্টো। দেখা গেল, দেবভূমি এবার দীর্ঘলালিত অভ্যাস এবং ঐতিহ্য বদলে ফেলেছে। তারা আস্থা রেখেছে বিজেপি-তেই। এই প্রথম বিধানসভায় একই রাজনৈতিক দলকে দ্বিতীয়বার বেছে নিয়েছে উত্তরাখণ্ডের আমজনতা। ত্রিশঙ্কু বিধানসভার সম্ভাবনা উড়িয়ে বিজেপি-ই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরছে গাড়োয়াল-কুমায়ুঁর রাজ্যে।
উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় মোট আসন ৭০টি। একা সরকার গড়তে হলে ৩৬টি আসন নিশ্চিত করতে হত জয়ী রাজনৈতিক দলকে। ৩৬ উত্তরাখণ্ডে সরকার গঠনের ‘জাদু সংখ্যা’। বুথফেরত সমীক্ষা বলেছিল, এ যাত্রায় কোনও দলই সেই সংখ্যা ছুঁতে পারবে না। বাস্তবে যদিও সেই ভবিষ্যদ্বাণী মেলেনি। ২০১৭ সালে উত্তরাখণ্ডে ভোটে জিতেছিল বিজেপি। ৭০টি আসনের ৫৭টিই ছিল তাদের দখলে। কংগ্রেসের ১১টি। এ বছর ভোট কমলেও দুপুরের মধ্যেই দেবভূমিতে ৪৫টিরও বেশি আসন নিশ্চিত করে ফেলে বিজেপি। ভোট এবং আসন বাড়িয়েও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ৩৬ ছুঁতে পারেনি।
উত্তরপ্রদেশ ভেঙে তৈরি উত্তরাখণ্ডে বরাবরই উত্তরপ্রদেশের মতোই জাতপাতের রাজনীতি গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। উত্তরের এই রাজ্যের জনবসতির ৫০ শতাংশই উচ্চবর্ণের। যাঁদের অধিকাংশই আবার বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত। উত্তরাখণ্ডে বিজেপির জয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সেই বিষয়টিই এবারের বিজেপির জয়ের চাবিকাঠি হল!
We hate spam as much as you do