বামপন্থীদের বক্তব্য কৃষক আন্দোলনের চাপ গোটা দেশজুড়ে যেখানে নিয়ে যাচ্ছে তাতে এই মুহূর্তে নতুন মুখ্যমন্ত্রী না হলে সংকট হতে পারে।
গুজরাটের নতুন মুখ্যমন্ত্রী পতিদার গোষ্ঠীর ভূপেন্দ্র পটেল
গুজরাটের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন পটেলের ঘনিষ্ঠ ভূপেন্দ্র আমেদাবাদ আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি চেয়ারম্যান ছিলেন।
শনিবারই পদত্যাগ করেছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি। রুপানির ইস্তফার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছে গুজরাটে। গুজরাটের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভূপেন্দ্র পটেল।
গুজরাটের ঘটলোদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ভূপেন্দ্র পাটেল পতিদার সম্প্রদায়ের নেতা। এই প্রথম তিনি কোনও মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নিচ্ছেন। অর্থাৎ অনেকটা নরেন্দ্র মোদীর মতোই কোনও মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে চলেছেন তিনি। গুজরাটের ১৭ তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হবেন পটেল।
সূত্রের খবর, আগামী সোমবার তিনি শপথ নিতে পারেন। অতীতে মিউনিসিপাল কাউন্সিলার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিজয় রুপানির পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষদীয় দলের আলোচনায় তাঁর নামই যোগ্যতম হিসেবে উঠে আসে।
প্রসঙ্গত ভূপেন্দ্র পাটেলের অভিষেক সম্পর্কে বিজয় রুপানি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি তাঁর নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে বিজেপি বড় জয়লাভ করবে। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ ভূপেন্দ্র পাটেলকে শুভেচ্ছা জানান নতুন দায়িত্বগ্রহণে জন্যে।
উল্লেখ্য প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেই জয়লাভ করেছিলেন ভূপেন্দ্র পটেল। তার কেন্দ্র ঘটলোদিয়া পাতিদার অধ্যুষিত একটি এলাকা। আনন্দীবেন-ঘনিষ্ঠ ভূপেন্দ্রর কেন্দ্রটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সংসদীয় এলাকার মধ্যে পড়ে। পতিদারদের দুটি বড় সংস্থা যথা উমিয়া ফাউন্ডেশন এবং সরদার ধামের ট্রাস্টি ভূপেন্দ্র পাটেল।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বিজয় রুপানি। মহামারি মোকাবিলায় তাঁর পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যের মানুষ সন্তুষ্ট নয়। করোনার প্রথম তরঙ্গে চিকিৎসা পরিষেবাসহ একাধিক বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। দ্বিতীয় তরঙ্গের সময়ই গুজরাটে প্রকট হয়েছিল অক্সিজেন সংকট। বিজেপির একটি সূত্রের দাবি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রুপানি ব্যর্থতা দলকে সংকটে ফেলতে পারে। আর সেই কারণেই ভোটের আগে তাঁকে সরে যেতে হল।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের মহামারি মোকাবিলা ছাড়াও অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের বিরুদ্ধেও বিজয় রুপানি কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে সাফল হয়নি। যা নিয়ে রাজ্যের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল।
একটি সূত্রের দাবি বিজয় রুপানির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল দলের অন্দরে। ২০১৭ সালে তাঁরই নেতৃত্বে গুজরাটে বিধানসভা ভোটে লড়াই করেছিল বিজেপি। কিন্তু সেবার ১০০ আসনও পায়নি বিজেপি। যা নিয়ে প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠী সরব ছিল।
তবে বামপন্থীদের বক্তব্য কৃষক আন্দোলনের চাপ গোটা দেশজুড়ে যেখানে নিয়ে যাচ্ছে তাতে এই মুহূর্তে নতুন মুখ্যমন্ত্রী না হলে সংকট হতে পারে।
We hate spam as much as you do