রবিবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঘটনা নিয়ে সেলিম বলেন, উপাচার্যকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, খারাপ কথা বলা হয়েছে তা রোজই রাজ্য হচ্ছে। এখানে কেউ ছাত্র, কেউ প্রাক্তন ছাত্র। কিন্তু আসলে তো এসব গুন্ডামি ও মস্তানি। এখন ও মস্তান থেকে ছাত্র হয়েছিল নাকি ছাত্র থেকে মস্তান হয়েছে-দুটে ক্ষেত্রেই তৃণমূল তার দায় এড়াতে পারে না। গিয়াসউদ্দিন হল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপির আউট গোয়িং প্রেসিডেন্ট। মানে দলের সম্পদ। সমস্যা হল কেউ যখন তৃণমূলের যখন সম্পদ হয় তখন সে দলের অন্য গোষ্ঠীর আপদ হয়।
আলিয়ার উপাচার্যকে অভব্য হেনস্থা! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল ছাত্র নেতা সেলিম - সৃজনের কটাক্ষ
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল। বিবার বিধাননগর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম ও এস এফ আই সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য্য এর তীব্র নিন্দা করেন ও বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমদানি করা উশৃঙ্খল সংস্কৃতিকে দায়ী করেন।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলকে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন ইউনিট প্রেসিডেন্ট হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর রবিবার বিধাননগর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর রাজারহাটের মোহাম্মদপুরের বাড়ি থেকেই তিনি গ্রেফতার হন। তাঁকে গ্রেফতার করে টেকনো সিটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গতকাল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে কটূক্তি করার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল এই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেতার। ওই গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলকে তৃণমূলের কর্মী বলে মানতে নারাজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাংশ।
সম্প্রতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘরে ঢুকে রীতিমতো হুজ্জুতি চালিয়েছে একদল যুবক। তাঁরা উপাচার্যকে অকথ্য় ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে জানা গিয়েছে। এমনকি উপাচার্যকে ‘চড় মারব’ বলে হুমকি দিতেও শোনা গিয়েছে। এই ভিডিয়োতে গিয়াসউদ্দিনকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে উপাচার্যকে শাসানোর অভিযোগ ওঠে। তারপর এদিন বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন ইউনিট প্রেসিডেন্ট হিসেবেই পরিচিত। এদিকে গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলকে কিছুদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। আর সম্প্রতি জানা যায়, উপাচার্য মহম্মদ আলির কাজের মেয়াদ বাড়তে চলেছে। এ কথা শুনেই উপাচার্যের ঘরে গিয়ে চড়াও হন ওই বহিষ্কৃত ছাত্র নেতা।
এদিকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য় সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য আগেই দাবি করেছিলেন অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দিন ছাত্র পরিষদের কোনও সদস্য নন। তিনি বলেছেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর অতি দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ পদক্ষেপ করে গিয়াসউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে।” তিনি পুনরায় দাবি করেছেন যে, গ্রেফতার হওয়া যুবক তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের কেউ নন। ২০১৯ সালে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে বহিষ্কার করার পরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদও তাঁকে বহিষ্কার করে। তিনি বলেছেন, “গত দু’বছর ধরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোনও কর্মসূচিতে গিয়াস ছিল না।” তবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা গিয়াসের সঙ্গে শাসক তৃণমূল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আঁতাতের অভিযোগ তুলেছে। তাঁরা ‘রাঘব বোয়ালদের’ গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন।
প্রশ্ন হল সে বা তার সঙ্গীরা যদি তৃণমূলের সদস্য না হন তাহলে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে কিনা? তা সময়ের অপেক্ষা।
এদিন এনিয়ে মুখ খুললেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম।
রবিবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঘটনা নিয়ে সেলিম বলেন, উপাচার্যকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, খারাপ কথা বলা হয়েছে তা রোজই রাজ্য হচ্ছে। এখানে কেউ ছাত্র, কেউ প্রাক্তন ছাত্র। কিন্তু আসলে তো এসব গুন্ডামি ও মস্তানি। এখন ও মস্তান থেকে ছাত্র হয়েছিল নাকি ছাত্র থেকে মস্তান হয়েছে-দুটে ক্ষেত্রেই তৃণমূল তার দায় এড়াতে পারে না। গিয়াসউদ্দিন হল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপির আউট গোয়িং প্রেসিডেন্ট। মানে দলের সম্পদ। সমস্যা হল কেউ যখন তৃণমূলের যখন সম্পদ হয় তখন সে দলের অন্য গোষ্ঠীর আপদ হয়।
এদিন সেলিম আরও বলেন, ওই ঘটনায় দু-একজন মন্ত্রীর নাম এসেছে। কিন্তু একটা বিষয় তো স্পষ্ট এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, মুকুল রায় ভাড়াটে লোকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি হতে না দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিছু মানুষকে বোঝানো হয়েছিল আলিয়া মাদ্রাসাকে তুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে।
আলিয়ার ঘটনা নিয়ে বাম ছাত্রনেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত এক তৃণমূল ছাত্রনেতা সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে উপাচার্যকে যে অশ্রাব্য গালিগালাজ করছে, খুনের হুমকি দিয়েছে তাতে ছাত্র রাজনীতির নেতা হিসেবে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। এই আচরণ কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করার কারণ নেই। ওখানে সম্প্রতি গবেষকদের মেধা তালিকা নিয়ে কিছু অস্বচ্ছতা থাকতে পারে। এমন কথা শোনা যাচ্ছে। যদি এরকম হয় তাহলে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু উপাচার্যকে ঘিরে ধরে এরকম অশ্রাব্য গালিগালাজ বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। তৃণমূলের সংস্কৃতি এটাই। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা, যাদবপুর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক জায়গায় আমরা এরকম সংস্কৃতি দেখেছি।
We hate spam as much as you do