এতদিন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে লেখা থাকতো “১০০০০+ পণ্য দশ মিনিটে ডেলিভারি”। যা এবার বদলে গিয়ে হচ্ছে “৩০০০০+ পণ্য আপনার দোরগোড়ায়”। জানা যাচ্ছে, ব্লিনকিট ছাড়াও সুইগি, জেপটো-র মত বিভিন্ন কুইক কমার্স সংস্থাও সরে আসছে দশ মিনিটের ডেলিভারি থেকে। গিগ শ্রমিকদের ধর্মঘটের পর এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
blinkit এর গিগ শ্রমিক ধর্মঘটের দাবীতে ঘোষনা, বন্ধ ১০ মিনিটে ডেলিভারি
13 Jan 2026,
‘দশ মিনিটে ডেলিভারি’ বন্ধ করলো ব্লিনকিট। মঙ্গলবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্লিনকিটের সমস্ত রকম বিজ্ঞাপন থেকে ‘দশ মিনিটে ডেলিভারি’ শব্দবন্ধ তুলে নেবার কাজ শুরু হয়েছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গিগ শ্রমিকদের একদিনের ধর্মঘটের অন্যান্য দাবির সঙ্গে অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ‘দশ মিনিটে ডেলিভারি’ বাতিল করা।
ধর্মঘটের সময় গিগ শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী শ্রী মনসুখ মান্ডব্যের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে কর্মী সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে ১০-২০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার বাধ্যবাধকতাটি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করার জন্য তাঁর হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর যুক্তি অনুসারে, এই প্রথাটি ডেলিভারি কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে এবং তারা প্ল্যাটফর্মগুলো ও তাদের কাজের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রীর সাহায্যও চায়।
এতদিন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে লেখা থাকতো “১০০০০+ পণ্য দশ মিনিটে ডেলিভারি”। যা এবার বদলে গিয়ে হচ্ছে “৩০০০০+ পণ্য আপনার দোরগোড়ায়”। জানা যাচ্ছে, ব্লিনকিট ছাড়াও সুইগি, জেপটো-র মত বিভিন্ন কুইক কমার্স সংস্থাও সরে আসছে দশ মিনিটের ডেলিভারি থেকে। গিগ শ্রমিকদের ধর্মঘটের পর এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক জানিয়েছে, সম্প্রতি ব্লিনকিট, সুইগি, জেপটো এবং জোমাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাস হয়। যেখানে পরিষেবার সময়সীমার বিষয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের পক্ষ থেকে ১০ মিনিটে ডেলিভারী বন্ধ করার কথা বলেন।
গিগ শ্রমিকদের ধর্মঘটের আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ‘দশ মিনিটে ডেলিভারি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা। নিজের বক্তব্যে তিনি কুইক-কমার্স এবং অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। পাশাপাশি এইসব সংস্থার কর্মীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদার কথাও তুলে ধরেন। ওই বক্তব্যেই চাড্ডা জানিয়েছিলেন, অতি-দ্রুত ডেলিভারি মডেলগুলো প্রায়শই বাস্তব পর্যায়ে নিরাপত্তাহীন কাজের পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স-এর সাধারণ সম্পাদক শেখ সালাউদ্দিন সরকারের এই হস্তক্ষেপ এবং সংস্থাগুলির পরবর্তী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত গিগ ও প্ল্যাটফর্ম শ্রমিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
We hate spam as much as you do