Tranding

04:05 PM - 22 Mar 2026

Home / National / ৩৭০ ধারা ফেরানোর দাবী -প্রস্তাব পাশ জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় তুমুল গোলমাল

৩৭০ ধারা ফেরানোর দাবী -প্রস্তাব পাশ জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় তুমুল গোলমাল

এদিকে আজ সকালেই ৩৭০ ধারা নিয়ে উত্তাল জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা। বৃহস্পতিবার সভার শুরুতেই শাসক জোট ও বিরোধী বিধায়কদের হাতাহাতি, ঘুসোঘুসি, মারামারির সাক্ষী হল জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা কক্ষ। এদিন সকালে গন্ডগোলের সূত্রপাত আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির বিধায়ক এবং ইঞ্জিনিয়ার রশিদের ভাই খুরশিদ আহমেদ শেখ ৩৭০ ধারা নিয়ে একটি ব্যানার তুলে ধরেন কক্ষে। তা নিয়ে প্রতিবাদ করেন বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তখনই রে রে করে একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে তেড়ে আসে।

৩৭০ ধারা ফেরানোর দাবী -প্রস্তাব পাশ জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় তুমুল গোলমাল

৩৭০ ধারা ফেরানোর দাবী -প্রস্তাব পাশ জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় তুমুল গোলমাল 

 ০৭ নভেম্বর ২০২৪ 


জম্মু ও কাশ্মীরে ফের অনুচ্ছেদ ৩৭০ ফেরাতে চেয়ে প্রস্তাব পাশ হল জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায়। শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এই প্রস্তাব পেশ করার পরেই বিধানসভায় হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন বিজেপি বিধায়কেরা। পরে অবশ্য ধ্বনিভোটে প্রস্তাবটি পাশ করানো হয়। বুধবার এই নিয়ে বিধানসভায় কোনও আলোচনা হয়নি।

প্রস্তাবে কেন্দ্রের কাছে অনুচ্ছেদ ৩৭০ ফেরানোর বিষয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার আর্জি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পেশ হওয়ার পরেই বিজেপি এবং এনসি বিধায়কদের মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এনসি বিধায়ক তথা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর কুমার চৌধরি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “আমরা এটাই বলতে চাইছি যে, ২০১৯ সালে আমাদের কাছ থেকে বিশেষ তকমা (অনুচ্ছেদ ৩৭০) কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যদি আপনি বিজেপির নার্কো পরীক্ষা করান, তবে দেখবেন তারাও একই জিনিস (অনুচ্ছেদ ৩৭০ ফিরিয়ে আনা) চায়।

 

এনসি-র তরফে প্রস্তাবটি বিধানসভায় পেশ করেন সুরিন্দরই। তিনি জানান, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপের কারণে বাইরের লোকেরাও সেখানকার জমি কিনছেন। আর সেই কারণে অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তিনি বলেন, “উপরাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।” বিজেপি বিধায়কেরা স্লোগান দিতে থাকেন। কংগ্রেস অবশ্য এনসি-র আনা প্রস্তাবকে সমর্থন করে।


ছ’বছর পরে গত সোমবার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় অধিবেশন বসে। আর অধিবেশনের প্রথম দিনেই অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিধানসভায় মেহবুবা মুফতির দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)-র বিধায়ক ওয়াহিদ পাররা অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পেশ করলে হইচই শুরু করে দেন বিজেপি বিধায়কেরা। এমনকি জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার স্পিকার, ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) বিধায়ক রহিম রাঠেদারও জানান, এই ধরনের প্রস্তাবকে তিনি অনুমোদন করছেন না।

আজ হৈ হট্টগোল

এদিকে আজ সকালেই ৩৭০ ধারা নিয়ে উত্তাল জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা। বৃহস্পতিবার সভার শুরুতেই শাসক জোট ও বিরোধী বিধায়কদের হাতাহাতি, ঘুসোঘুসি, মারামারির সাক্ষী হল জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা কক্ষ। এদিন সকালে গন্ডগোলের সূত্রপাত আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির বিধায়ক এবং ইঞ্জিনিয়ার রশিদের ভাই খুরশিদ আহমেদ শেখ ৩৭০ ধারা নিয়ে একটি ব্যানার তুলে ধরেন কক্ষে। তা নিয়ে প্রতিবাদ করেন বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তখনই রে রে করে একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে তেড়ে আসে।


মুহূর্তে সভাকক্ষ ছোটখাটো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ওয়েলে নেমে এসে শাসক ন্যাশনাল কনফারেন্স-কংগ্রেস জোটের বিধায়কদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের হাতাহাতি বেধে যায়। চিৎকার-চেঁচামেচিতে কান পাতা দায় হয়। কেউ কেউ বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে পড়েন। এই অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্শাল ডাকা হয়। মার্শাল এসে গন্ডগোলকারী বিধায়কদের সভা থেকে বের করে দেয়।

 
বিজেপির বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, মার্শাল ডেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্পিকার খুরশিদ আলম একচোখোমি করেছেন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি রবিন্দর রায়না এনসি এবং কংগ্রেসকে তুলোধনা করেন। এই দুই দল মিলে দেশে ভারত-বিরোধী চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। 


এর আগে বুধবার জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রয়োগের ব্যাপারে একটি প্রস্তাব আনা হয়। তা নিয়ে প্রথম দিনেও সভা উত্তাল হয়ে ওঠে। জম্মু-কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরি বিশেষ মর্যাদা প্রদানের প্রস্তাব আনেন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট কেন্দ্র ৩৭০ ধারা বিলোপের ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিজেপি সদস্যরা প্রস্তাবের কপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। 

Your Opinion

We hate spam as much as you do