কলকাতার ফ্যানরা ইডেনে আলোচনা করছিলেন যে, এই রান করে হয়তো গুজরাতকে আটকে রাখা যাবে না। কারণ তাঁরাও জানেন যে, আইপিএলের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইন-আপ এই টিমের ঝুলিতেই আছে। ঋদ্ধিমান সাহা ও শুভমন গিলের চেনা ওপেনিং জুটি রান তাড়ার খেলায় নেমেছিলেন।
IPL 2023: ইডেনে হেসে খেলে জিতল গুজরাত, হেরে রক্তচাপ বাড়াল কলকাতা
Sat, 29 Apr 2023
কলকাতায় এসে কলকাতাকে হারিয়ে দিয়ে গেল গুজরাত টাইটান্স। গুজরাতে গিয়ে কলকাতা ঠিক যেটা করেছিল, এবার সেটাই করলেন হার্দিক পাণ্ডিয়ারা। আর এর সঙ্গেই গুজরাত আইপিএলের পয়েন্ট টেবলে ফার্স্টবয় হয়ে গেল। অন্যদিকে কেকেআর কঠিন সমীকরণের মধ্যে চলে গেল।
গুজরাত টাইটান্স ১৮০/৩ (১৭.৫ ওভার)
৭ উইকেটে জয়ী গুজরাত
ইডেন গার্ডেন্সে চলতি লিগের ফিরতি ম্য়াচে মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাত টাইটান্স । শনিবার ক্রিকেটের নন্দনকাননে টস হেরে নীতীশ রানারা প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৯ রান তোলে। টি-২০ ফরম্যাটে ১৮০ রান তুলে খুব একটা স্বস্তিতে থাকা যায় না। আর আইপিএলে প্রতিপক্ষের নাম যদি গুজরাত টাইটান্স হয়। তাহলে চাপ থেকেই যায়। গতবারের চ্যাম্পিয়ন হার্দিক পাণ্ডিয়ার টিম হেসে খেলে এই ম্যাচ বার করে নিল। সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল গুজরাত। লিগের প্রথম দেখায় গুজরাতের মাঠে গিয়ে তাদের হারিয়ে দিয়ে এসেছিল কেকেআর। এবার হার্দিকরা কলকাতায় এসে কেকেআরকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল। আর এই জয়ের সুবাদেই ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে গুজরাত হয়ে গেল আইপিএলের ফার্স্ট বয়।
এদিন কেকেআর ব্যাটারদের মধ্যে ব্যাট হাতে নজর কাড়লেন আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ (Rahmanullah Gurbaz)। পিঠে টান ধরায় এদিন খেলেননি ফর্মে থাকা জেসন রয়। তাঁর জায়গায় দলে এসেছেন গুরবাজ। অন্যদিকে পেসার উমেশ যাদবের হ্যামস্ট্রিং চোটের জন্য খেললেন হর্ষিত রানা। জেসনের জুতোতে পা গলিয়ে গুরবাজ আরও একবার দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি ব্যাটিংটা সত্যিই ভালো করেন। নারায়ণ জগদিশনের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন গুরবাজ। নারায়ণ ১৫ বলে ১৯ রান করে ডাগআউটে ফিরে যান।
এরপর একাই ইডেনের দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার কাজটা করছিলেন গুরবাজ। গুরবাজ বাদে কেকেআরের প্রথম ছয় ব্যাটারের মধ্যে একজনও কুড়ির গণ্ডি টপকাতে পারেননি। শার্দূল ঠাকুর (০), ভেঙ্কটেশ আইয়ার (১১), নীতীশ রানা (৪) ও রিঙ্কু সিং (১৯) সকলেই তথৈবচ! তবে নিজের ৩৫ তম জন্মদিনে দারুণ ক্যামিও ইনিংস খেলেলেন আন্দ্র রাসেল। ১৯ বলে ৩৪ করলেন তিনি। গুরবাজ এদিন মাত্র ১৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মাঠে রেখে আসলেন। তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ব্র্যান্ডন ম্যাকালাম, ভেঙ্কটেশ আইয়ারের পর কেকেআর পেতে চলেছে তৃতীয় সেঞ্চুরিকারীকে। কিন্তু না গুরবাজের দুরন্ত ইনিংস থামে ৩৯ বলে ৮১ রানে। ২টি চার ও তিনটি ছয় হাঁকান তিনি। আটে ব্যাট করতে এসে নামিবিয়ার ব্যাটার ডেভিড ওয়াইজা ৬ বলে ৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। মহম্মদ শামি পেলেন তিন উইকেট, জোশুয়া লিটল ও নুর আহেমদ নিলেন দুই উইকেট করে।
কলকাতার ফ্যানরা ইডেনে আলোচনা করছিলেন যে, এই রান করে হয়তো গুজরাতকে আটকে রাখা যাবে না। কারণ তাঁরাও জানেন যে, আইপিএলের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইন-আপ এই টিমের ঝুলিতেই আছে। ঋদ্ধিমান সাহা ও শুভমন গিলের চেনা ওপেনিং জুটি রান তাড়ার খেলায় নেমেছিলেন। ঋদ্ধি তাঁর পুরনো ঘরের মাঠে ১০ বলে ১০ করে ফিরে গেলেও, শুভমন ছিলেন শুভমনেই। ক্যাপ্টেন হার্দিক পাণ্ডিয়ার সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। হার্দিক-শুভমান দু'জনেই রণংদেহী মেজাজে ব্যাটিং করেন। হার্দিক ২০ বলে ২৬ রানেরল ক্যামিও ইনিংস খেলে ফিরে যান। শুভমন ৩৫ বলে ৪৯ রান করে আউট রন। এরপর আর কোনও উইকেটই হারায়নি গুজরাত। ১১.২ ওভারে ৯৩/৩ থেকে ফিনিশিং লাইন পার করান বিজয়শংকর (২৪ বলে অপরাজিত ৫১) ও ডেভিড মিলার (১৮ বলে অপরাজিত ৩২)। কেকেআরের হতশ্রী ফিল্ডিং ও মোক্ষম সময়ে ক্যাচ মিসের মতো ঘটনা না ঘটলে, হয়তো কেকেআর ফাইট দিতে পারত। এই মুহূর্তে লিগ টেবল বলছে, কেকেআর ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র ৬ পয়েন্ট পেয়েছে। তাদের আর পাঁচ ম্যাচ রয়েছে। পাঁচের মধ্যে পাঁচ ম্যাচ জিতলেই হবে না, বাকি দলগুলির দিকেও তাকাতে হবে। তবে এটা বলাই যায় যে, কেকেআর প্লে-অফে ওঠার লড়াই রীতিমতো কঠিন করে ফেলল এই ম্যাচ হেরে।
We hate spam as much as you do