২০০৮ সালে বিজেন্দ্র সিং ও ২০১২ সালে এমসি মেরি কমের পর লাভলিনা তৃতীয় বক্সার হিসেবে দেশকে অলিম্পিক পদক এনে দিলেন। লাভলিনা বলেন, আমি সব সময় ভেবে এসেছি অলিম্পিকে নামব পদকের লক্ষ্যেই। ফলে এই পদক জিতে ভালো লাগছে, কিন্তু আমি এর চেয়েও ভালো করতে পারতাম। এই পদকের জন্যই আট বছর নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছি।
আবার মহিলা! বিশ্বচ্যাম্পিয়নের কাছে হেরে অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতলেন বক্সার লাভলিনা
আবার মহিলার হাতেই উঠল অলিম্পিকের পদক। তবু আফশোষ লাভলিনা দৌড়চ্ছিলেন সোনা জয়ের লক্ষে। এই প্রথম অলিম্পিক। ২৪বছরের লাভলিনার। এগোচ্ছিলেন দুরন্ত ছন্দে। যদিও সোনা জয়ের প্রত্যাশা পূরণ হল না। ওয়েল্টারওয়েটে ৬৯ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তথা অলিম্পিকে শীর্ষ বাছাই তুরস্কের বুসেনাল সার্মেনেলির কাছে থামল লাভলিনা বরগোঁহাইয়ের স্বপ্নের দৌড়। প্রথম অলিম্পিকেই ব্রোঞ্জ জয়, তাও এবারের অলিম্পিকে একমাত্র ভারতীয় বক্সার হিসেবে।
সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর ২৩ বছরের অসমের কন্যা লাভলিনা বলেন, ভালো তো একেবারেই লাগছে না। সোনা জেতার লক্ষ্যেই কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। ফলে কিছুটা হলেও আজকের পর আমি হতাশ। এদিনের বাউট চলাকালীন রেফারির নির্দেশ না মানায় পয়েন্ট কাটা যায় লাভলিনার। কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিকল্পনামাফিক যে খেলতে পারেননি বাউটের শেষে তা স্বীকার করে নিয়েছেন লাভলিনা।
লাভলিনার কথায়, আমার প্রতিপক্ষ খুবই শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু আমি আমার রণকৌশল কাজে লাগাতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম যদি আমি শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যাই তাহলে বুসেনাজের আক্রমণ শানিয়ে আমাকে আঘাত করাটা সহজ হয়ে যাবে। সে কারণে শুরুতে আমি আক্রমণাত্মক হই, কিন্তু সেই রণকৌশল বা চিন্তাভাবনা সঠিক ছিল না। ভেবেছিলাম তাঁকে হিট করতে পারব, কিন্তু সেটা পারিনি। প্রতিপক্ষ কোনও ভুল করেননি, এতটুকু জমি ছাড়েননি, আর সেটাই সমস্যা হয়ে গেল।
২০০৮ সালে বিজেন্দ্র সিং ও ২০১২ সালে এমসি মেরি কমের পর লাভলিনা তৃতীয় বক্সার হিসেবে দেশকে অলিম্পিক পদক এনে দিলেন। লাভলিনা বলেন, আমি সব সময় ভেবে এসেছি অলিম্পিকে নামব পদকের লক্ষ্যেই। ফলে এই পদক জিতে ভালো লাগছে, কিন্তু আমি এর চেয়েও ভালো করতে পারতাম। এই পদকের জন্যই আট বছর নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছি। বাড়িতে থাকতে পারিনি, পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে, পছন্দের খাবার খেতে পারিনি। এর মধ্যে লাভলিনা করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন।
ইউরোপে ভারতের অন্যান্য বক্সারদের সঙ্গে ক্যাম্পে যেতে পারেননি। এতে বেশ সমস্যা হয়। তার মধ্যে মা গুরুতর অসুস্থ হন।
প্রথম দিকে মুয়ায় থাই বেশি করলেও ২০১২ সাল থেকে বক্সিং বেছে নিয়েছিলেন লাভলিনা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দু-বার ব্রোঞ্জ জিতেছেন। তবে অলিম্পিকের যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না।
এমনকি তার গ্রামের বাড়ির সামনের রাস্তা পাকা ছিল না। সরকার আজ থেকে পাকা রাস্তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গোলাঘাটের বারোমুখিয়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। লাভলিনার অলিম্পিকে সাফল্যের পর তাঁর বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা হচ্ছে। এটা শোনার পর লাভলিনা বলেন, খুব ভালো লাগছে রাস্তাটা পাকা হচ্ছে বলে। বাড়ি ফেরার সময় সত্যিই খুব ভালো লাগবে।
We hate spam as much as you do