Tranding

03:48 AM - 22 Mar 2026

Home / Politics / 2002 বাম সময়ে SIR-হয়েছিল নিরবে নিয়ম মেনে, এখন কেন ভয় দেখানোর হৈচৈ?

2002 বাম সময়ে SIR-হয়েছিল নিরবে নিয়ম মেনে, এখন কেন ভয় দেখানোর হৈচৈ?

সিপিআই(এম)র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "SIR সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক-তাণ্ডব ৷ 2002 সালের লিস্ট খুঁজতে হবে ৷ এটা তাও ভালো ৷ তারা 2002 সালের কথা বলছে ৷ কারণ, যাঁরা গদিতে আছে, তারা মনে করে যবে থেকে তারা ক্ষমতায় এসেছে, তবে থেকেই ইতিহাস শুরু হয়েছে ৷ কেউ মারা গেলে সরকার রেশন কার্ড বন্ধ করে দেয় ৷ কারণ, ডেথ রেজিস্ট্রার হয় ৷ শ্মশানে, গোরস্থানে ডেট সার্টিফিকেট দিতে হয় ৷ ফলে, এই সার্টিফিকেট এক দফতর থেকে আর এক দফতরে যাওয়ার কথা ৷ যায় না-কেন ? তাহলে, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কী হল ? অমিত শাহ বলেন, ওনার কাছে বিগ ডেটা আছে ৷ অথচ, ফ্রিজ খুলে দেখে কিসের মাংস আছে ৷ তাহলে সেই ডেটা কী করল ? ওরা মুখে বলে এক, কাজে করে আর এক ৷ 2014 সাল থেকেই ওরা মুখে একরকম বলছে, আর কাজে উল্টোটা করছে ৷ এ কারণেই সন্দেহ জাগছে ৷

2002 বাম সময়ে SIR-হয়েছিল নিরবে নিয়ম মেনে, এখন কেন ভয় দেখানোর  হৈচৈ?

2002 বাম সময়ে SIR-হয়েছিল নিরবে নিয়ম মেনে, এখন কেন ভয় দেখানোর  হৈচৈ?

October 30, 2025 


 2002 সালে প্রথম তথা শেষ SIR বা স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন-এর সময় রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট ৷ ভোটার তালিকা সংশোধনের সেই কাজ নীরবে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল তখন ৷ কোনও প্রকার আপত্তি তোলেনি বামেরা ৷ তাহলে এবার কেন সমস‍্যা ? সেই প্রশ্নে একাধিক যুক্তি দেন বামফ্রন্ট্রের নেতারা ৷ তাদের অভিযোগ, এসআইআর করাতে আপত্তি নেই ৷ তালিকা সংশোধন অবশ্যই হোক ৷ কিন্তু, সেটা নির্বাচন কমিশনের কাজ ৷ কিন্তু, সাধারণ মানুষকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রমাণের পিছনে ষড়যন্ত্র দেখছে বামেরা ৷ এ নিয়েই একাধিক প্রশ্ন তুললেন মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, তপন হোড়েরা ৷

মূলত নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যকে ঘিরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে বামেদের অভিযোগ ৷ যে কারণেই একাধিক বিষয় নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন ৷

 

সিপিআই(এম)র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "SIR সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক-তাণ্ডব ৷ 2002 সালের লিস্ট খুঁজতে হবে ৷ এটা তাও ভালো ৷ তারা 2002 সালের কথা বলছে ৷ কারণ, যাঁরা গদিতে আছে, তারা মনে করে যবে থেকে তারা ক্ষমতায় এসেছে, তবে থেকেই ইতিহাস শুরু হয়েছে ৷ কেউ মারা গেলে সরকার রেশন কার্ড বন্ধ করে দেয় ৷ কারণ, ডেথ রেজিস্ট্রার হয় ৷ শ্মশানে, গোরস্থানে ডেট সার্টিফিকেট দিতে হয় ৷ ফলে, এই সার্টিফিকেট এক দফতর থেকে আর এক দফতরে যাওয়ার কথা ৷ যায় না-কেন ? তাহলে, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কী হল ? অমিত শাহ বলেন, ওনার কাছে বিগ ডেটা আছে ৷ অথচ, ফ্রিজ খুলে দেখে কিসের মাংস আছে ৷ তাহলে সেই ডেটা কী করল ? ওরা মুখে বলে এক, কাজে করে আর এক ৷ 2014 সাল থেকেই ওরা মুখে একরকম বলছে, আর কাজে উল্টোটা করছে ৷ এ কারণেই সন্দেহ জাগছে ৷"

এরপর নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করেন সেলিম ৷ তিনি বলেন, "যিনি মিথ্যের বেসাতি করে তাঁকে বিশ্বাস ? আসলে ওরা আমাদের ভাগ করতে চাইছে ৷ আমাদের শপথ নিতে হবে আমরা ভাগ হতে দেব না ৷ কারণ, ওরা বলবে এর থাকবে ওর থাকবে না ৷ এই ভাবেই কারও নাম থাকবে, কারও থাকবে না ৷ সেই কাজ আমরা করতে দেব না ৷ আমরা চাই ভোটার তালিকা নির্ভুল হোক ৷ সেই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ৷ সেই কাজ সাধারণ মানুষকে করতে হবে ? আমাদের পার্টি থেকে বারেবারে মৃত ভোটার, ভুয়ো ভোটারের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে ৷ তারপরও সংশোধন করা হল না ৷ এখন বলছে, আপনি নাগরিক কি না, সেই প্রমাণ আপনাকে দিতে হবে ৷"

সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য প্রাক্তন সাংসদ সুজন চক্রবর্তী বলেন, "2002 সালে সামারি রিভিশন হয়েছিল ৷ এটা নির্বাচন কমিশনের স্বাভাবিক কাজ ৷ কিন্তু, সে সময় এইভাবে SIR হয়নি ৷ এবার হচ্ছে ৷ আপত্তি নেই ৷ কিন্তু, ধন্দ আছে ৷ নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির দাবি করছি আমরা ৷ মৃত, ভূতুড়ে ভোটারদের নাম বাদ দিতে হবে ৷ ন্যায্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না ৷ কিন্তু, ওদের মনোভাব এসব করা নয় ৷ মনোভাব এরকম হলে, এতবার করে ভূতুড়ে ভোটার, মৃত ভোটারের নাম দেওয়ার পরেও বাদ দেয়নি কেন ? ওদের মনোভাব কাজগ চাইব, যাঁদের কাছে কাগজ থাকবে না, তাঁদের নাম বাদ দেব ৷ কাদের কাছে কাগজ থাকে না ? গরিব মানুষের কাছে সব কাগজ থাকে না ৷ ফলে, গরিব মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলছে ৷ এটা হলে আমরা করতে দেব না ৷ এটা যে তাই বুঝবেন কী করে ? বিজেপি নেতারা বলছেন SIR নাম বাদ চলে গেলে NRC করে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে ৷ তার মানে বিজেপির নেতারা জানেন SIR-এ গরিব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ যাবে ৷ নাম বাদ দেওয়ার এই খেলাটা বিজেপিকে বন্ধ করতে হবে ৷"

একইভাবে, সিপিআইএম পলিটব্যুরো ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর বারোটি রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)প্রক্রিয়া সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করছে। পলিটব্যুরোর বক্তব্য, "বিহারের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের দুর্বল অংশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আরও উদ্বেগজনক হল, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে যে প্রশ্নটি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তা সত্ত্বেও কমিশন এই পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। সংবিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে নাগরিকত্ব ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির একটি পূর্বশর্ত হলেও, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত নয় ৷"


সিপিআই-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিষদের সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) সমস্ত প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা সম্বলিত ছাপানো বই রাজনৈতিক দলগুলিকে দিতে হবে ৷ এ বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে ৷ এসআইআর নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অভিযান নয় ৷ এই মর্মে কমিশনকে সুস্পষ্ট প্রচার চালাতে হবে ৷ সঠিক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার বিষয়টি নাগরিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না ৷ সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই বিভ্রান্ত না-হন, তা নিশ্চিত করতে হবে ৷ কোন-কোন সময়ে এসআইআর-কে ঘিরে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, ভাষা ইত্যাদি নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে ৷ বিশেষ করে আদিবাসী, তফসিলি, মতুয়া সম্প্রদায়, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দুর্বল ও প্রান্তিক অংশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে ৷ কমিশন থেকে তা প্রতিহত করা প্রয়োজন ৷ কোনও ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না ৷ বৈধ ভোটারের প্রামাণ্য নথি হিসাবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জব কার্ড, রেশন কার্ডকে মেনে নিতে হবে ৷ নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রচার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম প্রচার করতে হবে ৷"

আরএসপি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক তপন হোড় বলেন, "বিশেষ নিবিড় সংশোধনে স্বচ্ছ, নির্ভুল ভোটার তালিকা চাই ৷ আমরা বামপন্থী দলগুলি মনে করি বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে মৃত, ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ দিতে হবে ৷ একই ব্যক্তির নাম একাধিক স্থানে (অন্য রাজ্য-সহ) যাতে না-থাকে, তা খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একই সঙ্গে সমস্ত প্রকৃত ভোটারের নাম অবশ্যই তালিকাভুক্ত করতে হবে ৷"

Your Opinion

We hate spam as much as you do