Tranding

10:34 AM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / বিজেপি বিরোধিতায় বহিঃস্কার সুপারিশে মহুয়া প্রশ্নে তৃণমূল চুপ! পাশে কংগ্রেস- বাম

বিজেপি বিরোধিতায় বহিঃস্কার সুপারিশে মহুয়া প্রশ্নে তৃণমূল চুপ! পাশে কংগ্রেস- বাম

এথিক্স কমিটির রিপোর্ট বুধবার সংবাদমাধ্যমে ‘ফাঁস’ হয়ে যাওয়ার পরে মহুয়া বলেছিলেন, ‘‘এটা তো প্রথম থেকেই জানা ছিল। যা হবে, দেখা যাবে। ওরা যত বেশি এ সব করবে, আমরা তত বেশি ওদের বিরুদ্ধে লড়ব।’’ বৃহস্পতিবারও একই কথা বলেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। কৌতূহল, শুক্রবার এই বিতর্ক, এক্স হ্যান্ডেলে নিশিকান্তের সঙ্গে মহুয়ার বাগ্‌যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়!

বিজেপি বিরোধিতায় বহিঃস্কার সুপারিশে মহুয়া প্রশ্নে তৃণমূল চুপ! পাশে কংগ্রেস- বাম

বিজেপি বিরোধিতায় বহিঃস্কার সুপারিশে মহুয়া প্রশ্নে তৃণমূল চুপ! পাশে কংগ্রেস- বাম


০৯ নভেম্বর ২০২৩ 

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করল লোকসভার এথিক্স কমিটি। বৃহস্পতিবার ৫০০ পাতার খসড়া রিপোর্ট নিয়ে বৈঠকে বসেন কমিটির সদস্যেরা। সেখানেই কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদকে বহিষ্কারের সুপারিশের প্রস্তাব রাখেন কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ বিনোদ সোনকর। সংখ্যা গরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে বহিষ্কারের সুপারিশে অনুমোদন দেয় এথিক্স কমিটি। শুক্রবার সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। 


প্রসঙ্গত, কমিটি বহিষ্কারের সুপারিশ করলেও তা এখনই সিদ্ধান্ত নয়। স্পিকার এই প্রস্তাব পেশ করবেন সংসদের আগামী অধিবেশনে। বিরোধীরা আলোচনা চাইলে তা আদৌ স্পিকার গ্রহণ করবেন কি না সেটি তাঁর এক্তিয়ারের বিষয়। তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, নিয়ম এমনটাই।


এথিক্স কমিটি মহুয়াকে বহিষ্কারের পাশাপাশি রিপোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া কথা লিখেছে বলেও খবর। জানা গিয়েছে, এথিক্স কমিটি তাদের রিপোর্টে বলেছে, ‘‘মহুয়া মৈত্র এবং দর্শন হীরানন্দানির মধ্যে যে টাকার লেনদেন হয়েছে, কেন্দ্রের উচিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত করা।’’ প্রসঙ্গত, বুধবারই বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছিলেন, মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় লোকপাল। এই নিশিকান্তই মহুয়ার বিরুদ্ধে সংসদে ‘ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন’ তোলার অভিযোগ তুলে চিঠি লিখেছিলেন স্পিকারকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এথিক্স কমিটিকে তদন্ত করতে বলেন স্পিকার। প্রসঙ্গত, বুধবারই সংবাদমাধ্যমে ‘ফাঁস’ হয়ে গিয়েছিল এথিক্স কমিটির রিপোর্ট। কী ভাবে গোপন রিপোর্ট ফাঁস হয়ে গেল, সেই প্রশ্ন তুলে বৃহস্পতিবার চিঠি লেখেন মহুয়াও। প্রসঙ্গত এই সুপারিশ নিয়ে এথিক্স কমিটির বৈঠকে ভোটাভুটিও হয়। বহিষ্কারের সুপারিশের পক্ষে ভোট দেন ছ’জন সাংসদ। বিরুদ্ধে মত দেন চার জন।


নিজের দল তার পাশ থেকে কার্যত সরে গেছে। বিজেপি বা আদানি বিরোধিতার চরম প্রশ্নে নিজের দলের সাংসদের পক্ষেও তৃণমূল দাঁড়াতে চাইল না।
গত ১৫ অক্টোবর মহুয়াকে ঘিরে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। তার পর থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও মন্তব্য করেননি।   মহুয়া প্রসঙ্গে অভিষেকের জবাব ছিল, “মহুয়া নিজের লড়াই নিজেই লড়তে পারেন।” এর পরেই তিনি অভিযোগ তোলেন, বিজেপির এমন অনেক সাংসদ রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাব আনা হয়েছে, কিন্তু সে সবের এখনও কোনও শুনানিই হয়নি। এ কথা বলতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরীর প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “নতুন সংসদ ভবনে যখন অধিবেশন ডাকা হয়েছিল তখন বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরী যে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাতে সংসদের গৌরব নষ্ট হয়েছে।” এর আগে তৃণমূলের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছিলেন, ‘‘তদন্ত শেষের পরেই দল যা বলার বলবে।’’ আর কুণাল ঘোষের বক্তব্য ছিল, ‘‘মহুয়ার বিষয়ে তৃণমূলের কোনও বক্তব্য নেই। দল এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবে না।’’ রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, অভিষেকের কথার মধ্যেও বৃহস্পতিবার মহুয়ার পাশে দাঁড়ানোর সুর শোনা যায়নি। বিবিধ ক্ষেত্রে পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও তিনি মহুয়ার বিষয়টিকে দল থেকে পৃথক রাখতে চেয়েছেন বলেই মত অনেকের।

 

এথিক্স কমিটির রিপোর্ট বুধবার সংবাদমাধ্যমে ‘ফাঁস’ হয়ে যাওয়ার পরে মহুয়া বলেছিলেন, ‘‘এটা তো প্রথম থেকেই জানা ছিল। যা হবে, দেখা যাবে। ওরা যত বেশি এ সব করবে, আমরা তত বেশি ওদের বিরুদ্ধে লড়ব।’’ বৃহস্পতিবারও একই কথা বলেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। কৌতূহল, শুক্রবার এই বিতর্ক, এক্স হ্যান্ডেলে নিশিকান্তের সঙ্গে মহুয়ার বাগ্‌যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়!

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের পাশে দাঁড়িয়ে এবার একযোগে সরকারি কমিটির তীব্র সমালোচনা করল বাম এবং কংগ্রেস। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রশ্ন, বৃহস্পতিবার বৈঠকের আগে কী ভাবে ফাঁস হয়ে গেল এথিক্স কমিটির খসড়া রিপোর্ট। এই ব্যাপারে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ভুল করলে শাস্তি পেতে হবে। তবে খসড়া রিপোর্ট বাইরে আসার ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি সুকান্ত। 


সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই রিপোর্টকে অনৈতিক বলেই অভিযোগ করেছেন। তাঁর যুক্তি, একদিকে সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আবার কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তদন্তের কথা বলা হচ্ছে। একসঙ্গে দুটি বিষয় কী ভাবে সম্ভব ? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর অভিযোগ, সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেন গলা চেপে ধরা হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর সংসদও পদও খারিজ করা হয়েছিল। 

Your Opinion

We hate spam as much as you do