Tranding

07:41 AM - 22 Mar 2026

Home / Politics / ২৮ নভেম্বর শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের রাজভবন অভিযান হবেই, অনুমতি না পেলেও

২৮ নভেম্বর শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের রাজভবন অভিযান হবেই, অনুমতি না পেলেও

সিটুর রাজ্য সম্পাদক অনাদি শাহ জানান, রাজ্য পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না। কিন্তু তারা পিছু হটবেন না। ওইদিন কৃষক, শ্রমিক, জনগন, সবার স্বার্থে রাস্তায় নামছেন। বাধা দিলে লড়ে বুঝে নেবেন। পাশাপাশি জানান, তারা রাজ্যপালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠাবেন।

২৮ নভেম্বর শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের রাজভবন অভিযান হবেই, অনুমতি না পেলেও

২৮ নভেম্বর শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের রাজভবন অভিযান হবেই, অনুমতি না পেলেও
 
২৫ নভেম্বর ২০২৩

২৬ ও ২৭ নভেম্বর রানি রাসমণি এভিনিউতে অবস্থান এবং ২৮ নভেম্বর রাজভবন অভিযান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিক ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান সংযুক্ত কিষান মোর্চা ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ও কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে অনাদি শাহু, অমল হালদার ,কার্তিক পাল,, বিপ্লব মজুমদার,গোপাল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মসূচীর মূলত দাবিগুলি হলো-ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য গ্যারান্টি আইন প্রণয়ন, রেগায় ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মজুরী পরিশোধ এবং বছরে ২০০ দিনের কাজ ও ৬০০ টাকা দৈনিক ন্যূনতম মজুরী, মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ও স্মার্ট মিটার বাতিল করা।


সিটুর রাজ্য সম্পাদক অনাদি শাহ জানান, রাজ্য পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না। কিন্তু তারা পিছু হটবেন না। ওইদিন কৃষক, শ্রমিক, জনগন, সবার স্বার্থে রাস্তায় নামছেন। বাধা দিলে লড়ে বুঝে নেবেন। পাশাপাশি জানান, তারা রাজ্যপালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠাবেন।
তিনি বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রবল হার এবং দেশে সর্বোচ্চ স্তরে বেকারি। কৃষক শ্রমিকরা তার বিরুদ্ধেও সরব রয়েছেন।
সংযুক্ত কিষান মোর্চা পশ্চিবঙ্গ আহ্বায়ক কার্তিক পাল বলেছেন, ‘‘রাজ্য সরকারকে বলব কর্মসূচিতে যেন বাধা না দেয়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তো দিল্লির কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরে আবার অন্য কথা বলেছেন। গ্রেপ্তার হলেও আমরা রাস্তাতেই থাকব।’’
কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের শ্রমিক ও কৃষক বিরোধী পদক্ষেপের প্রতিবাদে দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে জাতীয় কনভেনশন হয় গত আগস্টে। সেখান থেকেই রাজভবন অভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শ্রমিক ও কৃষক নেতৃবৃন্দ। 
এদিন শ্রমিক ভবনে রাজ্যের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, তিন কৃষি আইন নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বাতিল করতে হয়েছিল বছরভর আন্দোলনের চাপে। দিল্লিতে সে সময় ফসলের ন্যূনতম দাম নিশ্চিত করার জন্য আইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র। কথা রাখা হয়নি। শ্রম আইন বদলে শ্রম কোড তৈরি করে ন্যূনতম বেতন থেকে কাজের সুরক্ষা সব কেড়ে নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। দেশের সব অংশের মানুষের পক্ষে এই লড়াই। 

২৮ নভেম্বর শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন থেকে দুটি বিশাল বর্ণাঢ্য মিছিলের মাধ্যমে হাজার হাজার কৃষক, শ্রমিক ও সাধারন মানুষ রাজভবন অভিযানে সামিল হবেন।

মোদি-বিজেপি সরকার দেশের শ্রমিক, কৃষক ও সাধারন মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সরকার দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন করে কৃষকদের দারিদ্রে নিক্ষেপ করে কর্পোরেটদের হাতে দেশের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ তুলে দিতে চেয়েছিল। ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন মোদি সরকারের এই অন্তর্ঘাতকে উন্মোচিত করে দেয়। প্রতিহিংসা চরিত্রার্থ করতে মোদি সরকার কৃষক আন্দোলনকে বিদেশী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের অর্থপুষ্ট, দেশদ্রোহী আন্দোলন বলে কালিমালিপ্ত করতে চায়। এর সাথে সাথে মোদি সরকার শ্রমিক-কর্মচারীর শ্রম আইনের অধিকার কেড়ে নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীর স্বার্থবিরোধী কোড চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাই মোদি সরকারের স্বরূপ উন্মোচিত করতে রাস্তায় নামছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। মাসজুড়ে ব্যাপক প্রচার অভিযান চালানো হয়েছে। ২৮ নভেম্বর রাজভবন অভিযান সংগঠিত হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষকসভার সভাপতি বিপ্লব মজুমদার বলেছেন, ‘‘দিল্লির লড়াই আমাদের রাস্তা দেখিয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্যের পুরুলিয়ায় সেরকম লড়াই হয়েছে। শিল্পে নামে জমি দখল ঘিরে প্রশ্ন তোলায় ১৩ জন মহিলাকে ১৬ দিন শিশুসহ জেলে আটকে রেখেছে মমতা ব্যানার্জির পুলিশ। কিন্তু আন্দোলন থেমে যায়নি। এই মহিলাদের জামিন হয়েছে। প্রতিবাদই পথ।’’ 
দিল্লি কৃষক আন্দোলন জেরে পিছিয়ে গেলেও কৃষক নেতাদের ওপর এফআইআর চাপিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিউজক্লিক’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থকে। সাংবাদিকদের জেরা করা হয়েছে কৃষক আন্দোলনের বিবরণ দিয়ে রিপোর্ট করার জন্য। 

ট্রেড ইউনিয়ন এবং কৃষক সংগঠনসমূহের তরফে জানানো হয়েছে, ১০০ দিনের কাজের মজুরি দেওয়া, বছরে ২০০ দিন কাজ দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, মূল্যবৃদ্ধি কমানো এবং বিদ্যুৎ আইন সংশোধন বিল ও স্মার্ট মিটার বাতিলের দাবিও সরব তুলবে আন্দোলন। 
নেতৃবৃন্দ বলেছেন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচিমুখ। সঙ্গে রাজ্যের মানুষের দাবিও থাকবে। সারা দেশেই হবে কর্মসূচি। বিজেপি চালিত সরকারগুলিও পুলিশকে এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবহার করছে না। কোনও রাজ্যই করছে না। তৃণমূল সরকার করছে। তবে কর্মসূচি হবে।

শুক্রবার শ্রমিক ভবনে সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিআইটিইউ রাজ্য সভাপতি সুভাষ মুখার্জি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Your Opinion

We hate spam as much as you do