অনেকেই নাকি অপেক্ষা করছেন। বর্তমানে বিজেপিতে থাকা ৭৪ জন বিধায়কের মধ্যে আরও কেউ কেউ তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন শুক্রবার বলেছেন যে “আরও অনেকে আসবে”, তখন এমন সম্ভবনা উড়িয়ে দিতে পারছে না গেরুয়া শিবির
আবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল! এত ঘন ঘন
দলবদলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না ?
মুকুল রায় তৃণমূলে ফেরার পর চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে গেছে তৃণমূলে ফেরার জন্য।
সমস্যা অন্য যায়গায় । ভোটের আগে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে বিজেপিতে যুক্ত হওয়ার যে হিড়িক পড়েছিল তার পরও যারা দলে থেকে গিয়ে দলকে নির্বাচনে আশাতীত ফলাফল করতে আপ্রাণ পরিশ্রম করেছে তারা কি ভাবছে ?
এই ভাবনা পরিস্কার করলেন সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক ও মন্ত্রী সুজিত বসু। সব্যসাচী দত্তের ফিরে আসার রাস্তাটা যে খুব একটা মসৃণ হবে না, শনিবার সেটা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন সুজিত বসু। সব্যসাচীর দলে ফেরা নিয়ে এ দিন ঘোর আপত্তির কথা জানিয়েছেন বিধাননগরের বিধায়ক। ভোটের কয়েক মাস আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখানো এই নেতাকে ‘অশুভ লোক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
সব্যসাচী দত্ত সম্পর্কে তিনি আগাম যা বলেছেন তাতে এটা দাঁড়ায় যে সব্যসাচীর দলে ফেরাকে তিনি ভালোভাবে নেবেন না।
যেমন ভালোভাবে নিতে পারেন না , সদ্য বীজপুর থেকে জেতা তৃণমূল বিধায়ক সুবোধ অধিকারী । তিনি শুভ্রাংশুকে হারান।
এদিকে
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বাড়িতে পৌঁছলেন আরও এক বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় । রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বিধানসভা ভোটের কয়েক দিন আগেই যোগ দিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। কয়েক দিন আগে তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জল্পনা বাড়ে। এ বার সেই জল্পনা আরও উস্কে কুণাল ঘোষের বাড়িতে হাজির হলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের খবর, শুক্রবার রাতেই উত্তরবঙ্গের এক তরুণ বিজেপি সাংসদকে ফোন করেন মুকুল। ফোন পাওয়া সাংসদও একদা তৃণমূলেই ছিলেন। এ বাদেও ফোন পান বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক। ফোন পাওয়া বিধায়কদের সংখ্যাটা ১০ বা তার বেশিই বলে জানাচ্ছে বিজেপি সূত্র। যাঁরা ফোন পেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সোজাসুজি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন বিষয়টি। তবে বেশিরভাগ ফোনের কথা গোপন রাখছে ।
অনেকেই নাকি অপেক্ষা করছেন।
বর্তমানে বিজেপিতে থাকা ৭৪ জন বিধায়কের মধ্যে আরও কেউ কেউ তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন শুক্রবার বলেছেন যে “আরও অনেকে আসবে”, তখন এমন সম্ভবনা উড়িয়ে দিতে পারছে না গেরুয়া শিবির। এই বিষয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে শনিবার বিকেলে , পদ্মশিবিরে থাকা নেতাদের কাছে মুকুল রায়ের ফোন যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কেউ তো গরু-ছাগল তো নয় যে বেঁধে রাখব। উনি একটা দলে ছিলেন। সেখানকার পূর্ব পরিচিতদের ফোন করতেই পারেন। আমরা নিশ্চিত, যারা আসলেই বিজেপি তাঁরা কেউই দল ছাড়বে না। আর যারা আয়ারাম-গয়ারাম, তাঁদের নিয়ে কোনও ভাবনা নেই।”
ক্ষমতার সঙ্গে থাকার প্রবণতা নতুন নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের একটা সংস্কৃতি ছিল দলবদলের এই ধরনের উদাহরণ খুবই কম ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থাকলেও বহু পুরোনো কংগ্রেস নেতা দলেই থেকে যান। তৃণমূল কংগ্রেস গঠন হওয়ার পর থেকে এই সংস্কৃতি প্রাধান্য পায়। সবচেয়ে বেশি খবরে আসে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা। দলে দলে কর্মী ,সমর্থক, প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে বিধায়ক পদ্মফুলকে প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে নেন।
এখন আবার তার বিপরীত ঘটনা ।
এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত রাজনীতিতে সুবিধাবাদ মাথা চাড়া দিচ্ছে । প্রশ্ন হল শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বরা এই ধরনের দলবদলের সংস্কৃতিকে কতখানি প্রশ্রয় দেবেন !
অবশ্য বামপন্থীদের বিজেমুল তত্ত্ব জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলেও তার কি কোনো সত্য ভিত্তি আছে ? রাজনৈতিক ভাবে আলাদা দল হলেও আচার আচরণ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কি পার্থক্য খুবই কম। তাই এত ঘন ঘন দলবদলে কোনো অস্বস্তি বা সমস্যা হচ্ছে না ? কেন ? ভবিষ্যত বলবে ।
We hate spam as much as you do