আইসল্যান্ডে এই প্রথম বিশ্বের সব থেকে বড়ো, সরাসরি বাতাস থেকে কার্ব ডাই অক্সাইড টেনে নেওয়ার প্ল্যান্ট কাজ শুরু করলো। প্ল্যান্টের নাম ওরকা, এটি নির্মাণ করেছে সুইস সংস্থা ক্লাইমওয়ার্কস, তাদের পার্টনার হলো আইসল্যান্ডের কার্বফিক্স। এই প্ল্যান্ট বছরে ৪০০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেবে যা বছরে ৭৯০ টি গাড়ির কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের সমতুল।
বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে বিরাট খবরঃ আছে উদ্বেগও
শুরু হলো সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেওয়াঃ
আইসল্যান্ডে এই প্রথম বিশ্বের সব থেকে বড়ো, সরাসরি বাতাস থেকে কার্ব ডাই অক্সাইড টেনে নেওয়ার প্ল্যান্ট কাজ শুরু করলো।
প্ল্যান্টের নাম ওরকা, এটি নির্মাণ করেছে সুইস সংস্থা ক্লাইমওয়ার্কস, তাদের পার্টনার হলো আইসল্যান্ডের কার্বফিক্স।
এই প্ল্যান্ট বছরে ৪০০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেবে যা বছরে ৭৯০ টি গাড়ির কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের সমতুল।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জী এজেন্সীর হিসেব মতো বছরে। সারা বিশ্বে ৩১.৫ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। নির্মাতারা বলছেন, বিশ্বের নানা জায়গায় কাবন শোষক এই প্ল্যান্ট বসালে, বিশ্ব উষ্ণায়নকে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। এ বিরাট আশার কথা। তার সাথে আছে দুর্ভাবনাও। সেটা এর ব্যবসাগত দিক। এর খরচ অত্যন্ত বেশি। উন্নয়নশীল দেশ বা গরিব দেশগুলো এ খরচ সামলাবে কি করে!
এই প্ল্যান্টে ৮ টি ইউনিট আছে। প্রতি ইউনিটে সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো কনটেনার রয়েছে, এই গুলিতেই জমা হবে কার্বন ডাই অক্সাইড। কনটেনারে কার্বন ডাই অক্সাইড ভর্তি হলে তাপমাত্রা বেড়ে ৮০-১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড দাঁড়াবে। তখন বন্ধ হবে কনটেনারের মুখ। এবার সংগৃহীত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে ফিল্টারের মধ্য দিয়ে জলের সাথে মিশিয়ে মাটির গভীরে ব্যাসাল্ট পাথরের সাথে সঞ্চিত করা হবে। কিছু বছরের মধ্যে তা পাথরে পরিণত হবে।
আইসল্যান্ড বলছে ২০৩০ এর মধ্যে ৪০% কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমিয়ে দেবে এবং ২০৫০ এর নেট জিরোতে পৌঁছোবে, যেমনটা প্যারিস চুক্তি ২০১৫ তে বলা হয়েছিল।
বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রনে এটা একটা বিরাট খবর। কিন্তু আছে উদ্বেগেও। বানিজ্যিক সংস্থা তো আর বিনে পয়সায় প্ল্যান্ট বসাবে না, এর খরচও বিপুল। উন্নয়নশীল দেশগুলো, এবং গরিব দেশগুলো কি করে এই বিপুল অর্থের যোগান দেবে! আর তারা সে যোগান দেবেই বা কেন? বিশ্ব উষ্ণায়ন হলো ধনী দেশগুলোর ভোগ লালসা চরিতার্থ করার জন্য প্রকৃতির সম্পদকে বল্গাহীনভাবে লুট করার ফসল। টাকার যোগান তাদের দিতে হবে। বারেবারে ধনী দেশগুলোকে বলা হচ্ছে, বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রনে এক আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার গড়ে তুলতে এবং উনয়নশীল এবং গরিব দেশগুলোকে প্রযুক্তির জন্য অর্থ সাহায্য করতে, সে কাজ এগোচ্ছে না। এই কাজকে এগোতেই হবে। বিশ্ব জনমত এ কারণেই জরুরি, বাধ্য করতে হবে ধনীদেশগুলোকে প্রযুক্তির জন্য এই বিপুল অর্থের যোগান দিতে।
এই জনমত গঠনের জন্য এবং ধনীদেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্যই আহুত হয়েছে, আগামী ২৪ শে সেপ্টেম্বর জলবায়ু ধর্মঘট বা ক্লাইমেট স্ট্রাইক।
আসুন ২৪ শে সেপ্টেম্বর এই পৃথিবীকে রক্ষার অঙ্গীকারে জলবায়ু ধর্মঘট সফল করি।
We hate spam as much as you do