ভুললে চলবে না, ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে গত বারের চ্যাম্পিয়ন কিন্তু ফ্রান্স। দলটির সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ হয়তো অলিভিয়ের জিরো। রাশিয়া বিশ্বকাপে তাঁর ভূমিকা বোধগম্য হয়নি। বেঞ্জেমা থাকলে হয়তো রিজার্ভ বেঞ্চেই জায়গা হত। জিরো এবার গোল করছেন, করাচ্ছেনও
রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল। মেসির হাতেই বিশ্বকাপ! টাইব্রেকারে হার গত বারের চ্যাম্পিয়নদের
18th dec 2022
দোহা: লুসেইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা (Argentina)। প্রত্যাশার পারদ চড়ছিল টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই। একটাই নাম, লিওনেল মেসি। ফুটবল সম্রাট, ফুটবলের রাজপুত্র, এমন বিশেষণ যোগ হয়েছে পেলে, মারাদোনার সঙ্গে। মেসির জন্য ঠিক কী যোগ হবে! সর্বকালের ‘অন্যতম’ সেরা হয়েই কি থেকে যেতে হবে? প্রত্যাশার পারদ নামতে খুব বেশি সময় লাগেনি কাতারে। মরুদেশে যেমন হয়। দিনে প্রচণ্ড গরম, রাতে একই রকম ঠান্ডা পরিবেশ! লিওনেল মেসির (Lionel Messi) আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রবেশ আর্জেন্টিনার (Qatar World Cup 2022)। তারপর একটা অঘটন। ঝড়ঝাপ্টা পেরিয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা।
ভুললে চলবে না, ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে গত বারের চ্যাম্পিয়ন কিন্তু ফ্রান্স। দলটির সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ হয়তো অলিভিয়ের জিরো। রাশিয়া বিশ্বকাপে তাঁর ভূমিকা বোধগম্য হয়নি। বেঞ্জেমা থাকলে হয়তো রিজার্ভ বেঞ্চেই জায়গা হত। জিরো এবার গোল করছেন, করাচ্ছেনও। তেমনই ভুললে চলবে না আতোঁয়া গ্রিজম্য়ানের কথা। তাঁর অবদান বোঝা কঠিন। কিন্তু এই ফরাসি দলের চালিকাশক্তি গ্রিজম্য়ানই। আর তারকা! কিলিয়ান এমবাপে।
’ মরুদেশে মরিচিকার পিছনেই ছুটছিলেন লিও মেসি। এই প্রথম নয়। পাঁচটা বিশ্বকাপ। এর আগেও একটা ফাইনাল খেলেছিলেন। ২০১৪ সালে ফাইনালে জার্মানির কাছে হার। কাপ ও ঠোঁটের দূরত্ব সে বার টের পেয়েছিলেন মেসি। কিছুতেই যেন ট্রফির সঙ্গে বন্ধুত্ব হচ্ছিল না। মরুদেশেও শুরুটা হয়েছিল মহা বিপর্যয়ে। টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। কাতারের একটি সংবাদপত্রে হেডলাইন ছিল ‘মিস-হিয়া’। আর্জেন্টিনার কাছে সেটা শুধু হার নয়, ছিল সতর্কবার্তাও। ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন শুরুর পর প্রত্যাবর্তন! আবারও সেই লাইন লিখতে হয়- মেসি এ বার একা নন। তাঁর কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। বাকিরা যেন নিজেদের কাছেই শপথ নিয়েছিলেন, অধিনায়কের জন্য বিশ্বকাপ জিততে হবে। তরুণরা যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। আর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক লিও মেসি। অবশেষে অপেক্ষার অবসান। মেসিই হয়ে উঠলেন ‘মসিহা’। অন্তহীন, রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল। টাইব্রেকারে গত বারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয় আর্জেন্টিনার এবং অবশ্যই লিও মেসির স্বপ্নপূরণ। ম্যাচের বিস্তারিত রিপোর্ট TV9Bangla-য়।
আর্জেন্টিনা ৩ (মেসি ২৩’-পেনাল্টি, ডি মারিয়া ৩৬ ‘, মেসি ১০৮’)
ফ্রান্স ৩ (এমবাপে ৮০’- পেনাল্টি, ৮২’, ১১৮’-পেনাল্টি)
টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয়ী আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা ৪-৪-২ ফর্মেশনে দল নামিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স খেলছে ৪-২-৩-১। ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে দুটি ফর্মেশন পরীক্ষা করেছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। একটা ছিল ৫-৩-২, অন্যটা ৪-৪-২। দ্বিতীয় ফর্মেশনেই দল নামানোর সিদ্ধান্ত।
লুসেইলে শুরু হয়ে গেল আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স কাতার বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল।
ম্যাচের শুরুতেই ফ্রান্সের রক্ষণে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। দু'বার গোলের সুযোগ। দ্বিতীয়বার আট গজ দূর থেকে নেওয়া শট অবশ্য জমা পড়ে হুগো লরিসের হাতে। যদিও অফসাইড ছিল।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে বল পজেশনে ৪৮ শতাংশ এগিয়ে আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের বল পজেশন ৩৯ শতাংশ।
ম্যাচের ২১ মিনিট, ডি মারিয়াকে বক্সে ফাউল। পেনাল্টি নিচ্ছেন লিওনেল মেসি। গোওওওল। হুগো লরিস প্রস্তুত ছিলেন। তবে মেসি কোন দিকে শট নেবেন আন্দাজ করে উঠতে পারেনি। এ বারের বিশ্বকাপে ষষ্ঠ গোল লিও মেসির। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
মেসি ও হার্নান্ডেজের মধ্যে সংঘর্ষ
থিও হার্নান্ডেজের সঙ্গে সংঘর্ষে কানের কাছে আঘাত পেলেন মেসি। তবে আশঙ্কার কিছু নেই।
ম্যাজিক্যাল রান...
কোনও বিশেষণ দিয়েই যেন বর্ণনা করা যাবে না। আর্জেন্টিনা বক্স থেকে অনবদ্য একটা মুভ তৈরি হয়। মেসি-ম্যাক অ্যালিস্টার। ম্যাক যে পজিশনে ছিলেন, তাঁর শট ব্লক হয়ে যেতে পারত। বাঁ দিকে বল বাড়ান ডি মারিয়াকে। হুগো লরিস জায়গা বদলের সুযোগ পেলেন না। ডি মারিয়ার অনবদ্য গোল।
লুসেল স্টেডিয়ামে বিরতির সময়। ২-০ গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স কি ম্যাচে ফিরতে পারবে?
প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও লাতিন আমেরিকার দলটির দাপট। গোলের সুর্বণ সুযোগ ছিল জুলিয়ান আলভারেজের কাছে। মেসির কাছেও এসেছিল সুযোগ। তবে স্কোরলাইন বদলায়নি। আর্জেন্টিনা ২-০ ফ্রান্স।
পেনাল্টি থেকে গোল ফ্রান্সের। গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে ছয় নম্বর গোল এমবাপের। ম্যাচে জমি খুঁজে পেল ফ্রান্স। আর্জেন্টিনা ২-১ ফ্রান্স
সেকেন্ডের ব্যবধানে ম্যাচের মোড় ঘোরালেন কিলিয়ান এমবাপে। ৯৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও একটি গোল ফরাসি স্ট্রাইকারের। সমতায় ফিরল ফ্রান্স। জমে গিয়েছে মেগা ফাইনাল। আর্জেন্টিনা ২-২ ফ্রান্স।
আর্জেন্টিনার সেলিব্রেশন
গোওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওল
যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। ১১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এমবাপের গোল। ম্যাচ এখন ৩-৩। টানটান রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ চলছে লুসেলে।
১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এই প্রথম কোনও বিশ্বকাপ ফাইনালে কেউ হ্যাটট্রিক করলেন। সে বার হ্যাটট্রিক ছিল ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের। এ বার কিলিয়ান এমবাপে। ৫৬ বছর পর।
We hate spam as much as you do